আত্মঘাতী গোলে সুইসদের বিদায়

0
34

খেলাধুলা ডেস্ক: ২৪ বছর পর কোয়ার্টারে পা রাখলো সুইডেন। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে সবশেষ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল সুইডিশরা। কোয়ার্টারে যাওয়ার পথে ৬৪ বছর পর কোয়ার্টারে খেলার স্বপ্নে বিভোর সুইজারল্যান্ডকে পরাজিত করে তারা। সুইজারল্যান্ড ১৯৫৪ সালে স্বাগতিক দেশ হয়ে শেষবার কোয়ার্টারে খেলেছিল।

সুইডেন ২০০২ ও ২০০৬ বিশ্বকাপে রাউন্ড অব সিক্সটিন থেকে বাদ পড়ে যায়। এর ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে তারা আর সুযোগ পায়নি। ১২ বছর পর এবারের বিশ্বকাপের মূলমঞ্চে ফিরে আসে তারা। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে তারা রানার্সআপও হয়েছিল।

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামের বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় মুখোমুখি হয় সুইডেন-সুইজারল্যান্ড। এটি ছিল বিশ্বকাপে কোনও আসরে উভয় দলের প্রথম সাক্ষাত। আর প্রথম সাক্ষাতেই এগিয়ে গেলো সুইডেন।

ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল সুইডেন। ৮ম মিনিটে অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে বল ধরে একা ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মার্কাস বার্গ; কিন্তু তার শট গোলপোস্টের অনেক দূর দিয়ে যায়। ২৪তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে জারদান শাকিরির ক্রসে স্টিভেন সুবারের হেড লক্ষ্যে থাকেনি। ঠিক ৪ মিনিট পর সুইডিশ ফরোয়ার্ড ওলা তইভনেনের জোরালো হাফ-ভলি ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলকিপার ইয়ান জমের।

বিরতির আগে সহজ সুযোগ এসেছিল দুই দলেরই সামনে। ৩৮তম মিনিটে সুবারের সঙ্গে একবার বল দেয়া নেয়া করে ডি-বক্সের মধ্যে থেকে উড়িয়ে মারেন ব্লেরিম জেমাইলি। আর ৪২তম মিনিটে আট গজ দূরে ফাঁকায় বল পেয়ে অবিশ্বাস্যভাবে উড়িয়ে মারেন সুইডেনের মিডফিল্ডার আলবিন একদাল।

সুইজারল্যান্ড প্রথম ৪৫ মিনিটে বল বেশি পায়ে রাখলেও তেমন একটা আক্রমণ গড়তে পারেনি।

বিরতিতে থেকে ফিরে সুইডেন বেশি বেশি বল দখলে রাখার পাশাপাশি আক্রমণে জোর বাড়ায়। আর এর সাফল্য দ্রুতই তাদের হাতে ধরা দেয়। ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে এমিল ফর্সবার্গ বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নিলে সেটি সুইজারল্যান্ড ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকাঞ্জির পায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়িয়ে যায়। রিপ্লেতে দেখা যায় যদি আকাঞ্জির পায়ে না লাগত তাহলে গোলরক্ষকের সোজাই বল যেত।

৭৯তম মিনিটে গোল শোধ করার সুযোগ পায় সুইজারল্যান্ড। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল ব্রিল এমবোলো হেড করেন। বিপদের মুহূর্তে আন্দ্রেস গ্রানকভিস্ট সেটি ক্লিয়ার করেন।

পরের মিনিটে সুইজারল্যান্ডের শাকিরি বক্সের ভেতর বিপজ্জনক একটি ক্রস পাঠান। কিন্তু তার কোনো সতীর্থ মাথা দিতে না পারায় বল চলে যায় গোলরক্ষক রবিন ওলসেনের কাছে।

অতিরিক্ত সময়ের নাটকের জন্ম দেন রেফারি। কাউন্টার অ্যাটাকে মার্টিন ওলসনের সামনে ছিলেন শুধু গোলকিপার। মাইকেল ল্যাং ল্যাং মেরে দিলেন। রেফারি পেনাল্টি দেন এবং ল্যাং লাল কার্ড দেখেন। কিন্তু ভিএআর বলে দিল, ওটা ঠিক বড় বক্সের বাইরে। ফ্রি কিক। টইভোনেনের দারুণ শটটা দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দিলেন ইয়ান সমার।

এই ম্যাচের আগে ৯৮ বছরে ২৯ বার সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড মুখোমুখি হয়েছে। তাতে ১১ জয়ে সুইসরা এগিয়ে ছিল। ১০ জয় ছিল সুইডিশদের। বাকি সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছিল।

LEAVE A REPLY