আদালতের পথে খালেদা জিয়া

0
89

ঢাকা প্রতিনিধি: গুলশানের বাসভবন থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বকশিবাজার আদালতের উদ্দেশ্যে তিনি বের হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১.৪৫ এ তিনি গাড়িতে করে আদালতের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন।

বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় হবে বৃহস্পতিবার। কি হতে যাচ্ছে এ রায় নিয়ে সেটা নিয়ে সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে সারাদেশের মানুষের মধ্যেই চলছে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

এদিকে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ন্যায় বিচার না হলে কলঙ্কিত ইতিহাসের জন্ম হবে বলে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছেন তিনি।

চলুন জেনে নেয়া যাক মামলাটির আদ্যোপান্ত।

২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের তেসরা জুলাই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

২৩৬ কার্যদিবসে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। অভিযোগ প্রমাণে দুদক ৩২জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। দুদকের আইনজীবীদের যুক্তি, বিদেশ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ফান্ডে টাকা এসেছে ১৯৯১ সালে। কিন্তু ট্রাস্ট গঠন হয়েছে ১৯৯৩ সালে। অর্থাৎ ট্রাস্ট গঠনের আগেই কিভাবে ট্রাস্টের নামে টাকা আসে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

অনুদান পেতে ট্রাস্টের ঘর, জমি ও অন্তত ১০জন এতিম থাকতে হয়। কিন্তু ট্রাস্ট গঠনের সময় এর কোনোটিই ছিল না বলে অভিযোগ দুদকের। ট্রাস্টের টাকা এতিমদের না দিয়ে দুটি ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরে অনিয়ম হয়েছে বলেও দাবি দুদকের আইনজীবীদের।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারেরও অভিযোগ আনেন তারা। তবে শুরু থেকেই মামলাটিকে ভিত্তিহীন দাবি করে আসছেন বেগম জিয়ার আইনজীবীরা। তাদের যুক্তি, কুয়েতের আমির জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে পাঠায় অনুদান। এ সংক্রান্ত কুয়েত দূতাবাসের একটি চিঠিও আদালতে জমা দেন তারা।

ট্রাস্ট গঠনে ও আর্থিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম জিয়ার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও দাবি করেন তারা। ট্রাস্টের কোনো অর্থই আত্মসাৎ হয়নি বলে দাবি করে বেগম জিয়ার আইনজীবীরা দাবি করেন, ২ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, ওই টাকা এখন লাভসহ ৬ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

তারা বলছেন, ট্রাস্টের নামে বগুড়ায় জমি কেনা হয়েছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলেও দাবি করেন বেগম জিয়া ও তার আইনজীবীরা। এ মামলার অপর আসামিরা হলেন, বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক মুখ্য সচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকী ও জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান। মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন কামালউদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।

LEAVE A REPLY