‘আমরা আর কেউ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন চাই না। ড. কামাল হোসেন

0
185

ঢাকা প্রতিনিধি: গণফোরামের সভাপতি ও সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘আমরা আর কেউ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন চাই না। আমরা চাই দেশের মালিক জনগণ যেন নিজেদের সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার প্রদান করতে পারে। তাঁরা যেন ভোটের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে, যে ভোট হবে সব দলের অংশগ্রহণে; নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।’

ড. কামাল আরো বলেন, ‘আমি দেশের মানুষকে বলব আপনারা নেমে আসুন, মালিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। কারণ এ রাষ্ট্র আপনাদের আপনারা রাষ্ট্রের মালিক। এসব আমার মুখের কথা না। স্বাধীন দেশে যে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে সে সংবিধানে নাগরিকদের এ অধিকার দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সামনের দিকে আসছে। কৃষি, পোশাক ও বিদেশি রেমিট্যান্স বাড়ছে। যার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে। কিন্তু কিছু লোক দেশের টাকা বাইরে পাচার করছে? কিন্তু কেন করছে তা আমার জানা নেই। দেশে কি বিনিয়োগের কোনো সুযোগ নেই? এসব রুখতে হলে দেশের জনগণকে মালিকের ভূমিকায় নামতে হবে। কারণ রাষ্ট্রের মালিক আপনারা জনগণ।’
আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ড. কামাল হোসেন এসব কথা বলেন।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম রব বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও সবার অংশগ্রহণে করতে হবে।’ তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘এককভাবে নির্বাচন করে আর টিকতে পারবেন না।’

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় রব এসব কথা বলেন।

আ স ম রব বলেন, ‘একতরফা ভোট রুখতে হলে সব রাজনৈতিক দলকে এক হতে হবে। সবাইকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই করতে হবে। আমার একাত্তরে যুদ্ধ করেছি দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে। কোনো একনায়কতন্ত্রের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে নয়।’
আ স ম রব বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আবারও একটা মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে। এক নায়কতন্ত্রের জন্য আমরা দেশ স্বাধীন করিনি। গণতন্ত্র, মানুষের নাগরিক, মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই আমরা পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি।’
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘যে আশায় ১৯৭১ সালে একটি পতাকা তুলে ধরেছিলাম, আজ সেটি চেপে ধরেছে শকুনেরা। স্বপ্নকে ধ্বংস করেছে আজ যারা, ক্ষমতা গ্রহণ করে আছে তারা। কিন্তু আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম গণতন্ত্র ও মানুষের কথা বলার অধিকারের জন্য।’ তিনি বলেন, ‘যে গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করেছি, সে গণতন্ত্রকে আজ একটি কৌটার মাঝে বন্দি আছে, যারা আজ ক্ষমতায় আছে তারা। বর্তমানে এক নেত্রী আরেক নেত্রীকে যেভাবে অনিরাপদ করে তুলেছেন, তাতে এখন গণতন্ত্র কোনোভাবেই নিরাপদ নয়।’

মান্না আরো বলেন, দেশে এখন সবচেয়ে বেশি দরকার একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। এটি প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে দেশের মানুষের নাগরিক, মৌলিক, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে আজ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী ।

LEAVE A REPLY