ইমরান খান ব্যাটিংয়ে কতক্ষণ টিকবেন? চালক ইমরান, পথ এবড়োখেবড়ো !!

0
23

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রহর গুনছেন ইমরান খান। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ডাক দিয়ে রাজনীতিতে নেমে গঠন করেন তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দল গঠনের ২২ বছরের মাথায় সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন। এককভাবে না হলেও কোয়ালিশনের ভিত্তিতে ক্ষমতায় আসছে সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান প্রতিষ্ঠিত পিটিআই। বর্ণাঢ্য জীবনে নানা কারণে বিতর্কিত হলেও পাকিস্তানে এখন বেশ জনপ্রিয় ইমরান খান। এবার দেশ পরিচালনার ভার পড়ছে তাঁর কাঁধে। দেশটির ৬৪ শতাংশ তরুণ এখনো তাঁর সমর্থক। এঁরাই তাঁর শক্তিও। তবে তাঁর ব্যাটিং শুরু হলেও কতক্ষণ টিকে থাকবেন, তা সময়েই বলবে। কারণ, বোলিং সেনাবাহিনীও শুরু করতে পারে।
লাহোরভিত্তিক সাংবাদিক ও অধিকারকর্মী গুল বুখারি বলেছেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় পিটিআই নেতৃত্বাধীন ভবিষ্যৎ জোট সরকারের বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ। ইমরানকে জেতানোর জন্য যা যা করা দরকার, তার সবই করেছে সেনাবাহিনী। নানান বাধা ডিঙিয়ে ইমরান ‘ফিনিশ লাইন’ ছুঁয়েছেন। চালকের আসনে বসে পাকিস্তানকে এগিয়ে নিতে যাচ্ছেন ইমরান। তবে পথ কিন্তু এবড়োখেবড়ো এবং অনিশ্চিত।

পাকিস্তানের জন্ম থেকেই সেনাবাহিনী দেশটির রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। ইমরান খানের টিকে থাকা-না থাকা নির্ভর করছে সেনাবাহিনীর ওপর। তাঁকে ক্ষমতায় আনতে যেমন সেনারা সবচেয়ে ভূমিকা রেখেছে, তাঁর ক্ষমতায় থাকার পথের প্রধান বাধাও তারা। অনেকে মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ইমরান আস্তে আস্তে সেনাবাহিনীর কবজা থেকে বেরিয়ে স্বাধীন প্রধানমন্ত্রী হতে চেষ্টা করবেন। তিন চেষ্টা করলেই যে পারবেন, তা মনে হয় না। কারণ, সেনাবাহিনীর প্রভাব থেকে বের হতে চাইলে তাঁকে বৈরী পরিবেশের মুখে পড়তে হবে। সেনাবাহিনীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে পা বাড়ালে ইমরানকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া সেনাবাহিনীর জন্য কঠিন কিছুই না। অতীত তা-ই বলে।

বাস্তবতা হলো, আজ হোক বা কাল, ইমরানের সঙ্গে সেনাবাহিনীর দ্বন্দ্ব হবেই। বিশ্লেষক ফারুক তিরমিজি বলেন, ইমরান আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত খুলে দেওয়ার পক্ষে। আর সেনাবাহিনী চায় প্রায় ২ হাজার ৩০০ কিলোমিটার সীমান্তে বেড়া গড়ে তুলতে। ইমরান স্বাস্থ্য-শিক্ষায় বেশি বরাদ্দ রাখতে চান। তাই ইমরান ও সেনাবাহিনীর এই লড়াই হবে ‘বন্দুক বনাম টেক্সট বুকের’ লড়াই।

পাকিস্তানের মতো একটি বিশৃঙ্খল দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান কোনো পরিবর্তন আনতে পারবেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা ডেনিয়েল মার্কি একটি বার্তা সংস্থাকে বলেন, ‘ইমরান একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় আগের সরকারের সেই পুরোনো লোকবলের সঙ্গেই কাজ করতে হবে। এ ছাড়া তাঁর পেছনে রয়েছে সেনাবাহিনী—এমন অভিযোগও রয়েছে। ফলে নতুন কিছু দেখাতে পারবেন বলে মনে হয় না।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিযোগ, পাকিস্তানে একটি ‘কসমেটিক’ পরিবর্তন হয়েছে। কে না জানে, সেনাবাহিনীর স্বার্থ উদ্ধার হলে তারা ইমরান খানকে ছুড়ে ফেলে দিতেও দ্বিধাবোধ করবে না, যা ঘটেছে নওয়াজ শরিফের বেলায়।

LEAVE A REPLY