ঈশ্বরদীতে কৃষকদের ঈদ পূণঃমিলনী ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত

0
43

সেলিম আহমেদ, ঈশ্বরদী থেকে ॥ বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটি ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার আয়োজনে পাকশীর হাডিঞ্জব্রীজ ও লালনশাহ জোড়া সেতু সংলগ্ন স্থানে ঈদ পূণঃমিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রয়াত কৃষকদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন, স্মৃতি চারণ, আলোচনা ও পরিচয় পর্ব। কৃষি পণ্য দিয়ে ঈদ পূণঃমিলনী অনুষ্ঠান স্থল নজরকারা ভাবে সাজিয়ে তোলেন। কৃষকদের ঈদ পূণঃমিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটি কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু জাতিয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান কূল ময়েজ।
ঈশ্বরদী পৌরসভার কাউন্সিলর (রসুন চাষি) আবুল হাসেমের সভাপতিত্বে কৃষকদের ঈদ পূণঃমিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটি কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুল মোমিন, সাধারন সম্পাদক আব্দুল জলিল কিতাব মন্ডল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম, বঙ্গবন্ধু জাতিয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক আশরাফ আলী ডুবুরী, বঙ্গবন্ধু জাতিয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক নূর মোহাম্মদ, বঙ্গবন্ধু জাতিয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক হাসান আলী, বঙ্গবন্ধু জাতিয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক আতিকুর রহমান আতিক, বঙ্গবন্ধু জাতিয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক হাবিবুর রহমান মৎস্য হাবিব, বঙ্গবন্ধু জাতিয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক জাহিদুল ইসলাম গাজর জাহিদ, বঙ্গবন্ধু জাতিয় কৃষি স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত কৃষক বেলি বেগম, ফিরোজ আহমেদ বাকি, রবিউল ইসলাম রবি, মৎস্য চাষি আবু তালেব জোয়াদ্দার, মৎস্য চাষি কবির মালিথা, আনোয়ার হোসেন রিপন, শিল্পী বেগম, জিয়াউর রহমান শাহ ও রফিকুল ইসলাম বকুল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মেহেরুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলী শাহান।
বক্তারা বলেন, কৃষির উপর এদেশ নির্ভরশীল। একমাত্র কৃষিই দেশকে এগিয়ে নিয়েছে। আধুনিক কৃষির কারণে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ। দেশে নতুন নতুন ফসলের চাষ ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। এর পরেও এদেশের কৃষকেরা আজ অবহেলিত। রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে মাঠে ফসল ফলানোর পর বাজারে তার সঠিক মূল্য পাওয়া যায়না। এতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফসলের সঠিক মূল্য না পাওয়াতে ইতোমধ্যে অনেক কৃষক পথে বসে গেছেন। কৃষি আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য, অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। বাংলার উর্বর জমিনে এদেশের কৃষকগণ তাদের ঘামের সাথে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সংমিশ্রণে প্রাকৃতিক বৈরিতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এদেশের কৃষি উন্নয়নের দিকে এগিয়ে চলেছে। অথচ ক্ষুধার অন্ন জোগানো কৃষক আজ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত, বঞ্চিত ও নিপিড়িত। দেশের বিভিন্ন দিবস পালিত হলেও কৃষক দিবস নেই।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কৃষি ব্যাংককে আরও বেশি টাকা প্রদান করা হোক। কৃষি ব্যাংক থেকে কৃষকদের মাঝে স্বল্প সুদে এই টাকা প্রদান করা হলে এদেশের কৃষি আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। ব্যাংক গুলোতে বিনাজামানতে কৃষকদের মাঝে ৫ লক্ষ টাকা ঋন প্রদানের কথা থাকলেও একটি ব্যাংক থেকেও ঈশ^রদীর কোন কৃষককে তা প্রদান করা হয়নি। মদ প্রস্তুত কারক কোম্পানী, ঔষধ প্রস্তুত কারক কোম্পানী, কীটনাষক প্রস্তুত কারক কোম্পানী, বীজ উৎপাদক কোম্পানী ও রাসায়নিক সার প্রস্তুত কারক কোম্পানী ধনী হলেও আজও এদেশের কৃষকের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হচ্ছেনা। জাতীয় কৃষকদের সরকারি কোন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় না। কৃষির উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য না পাওয়াতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অনেক কৃষক তা পরিশোধ করতে পারছেন না। ব্যাংকের সুদ মওকুফ করে নতুন ভাবে ঋণ দিয়ে খামার পরিচালনার জন্য সভা থেকে বক্তারা সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন। এছাড়া কৃষি পণ্য সংরক্ষনের জন্য কৃষি হিমাগার ও কৃষি বীমার দাবি তোলেন।

LEAVE A REPLY