ঈশ্বরদীতে গরুর খামার করে সফল আছাব প্রামানিক

0
43

সেলিম আহমেদ, ঈশ্বরদী থেকে ॥ গরু পালন করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঈশ্বরদীর সোহেল ডেইরি খামারের সফল গরু চাষি মোঃ আছাব আলী প্রামানিক। তিনি ঈশ্বরদীর গরু চাষিদের আইডল হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। শুধুমাত্র গরু খামার করেই বছরে আনুমানিক ৫ লাখ টাকা উপার্জন করে থাকেন। একজন ভাল মানুষ হিসেবেও তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। এই গরু খামারের উপার্জিত অর্থ থেকে তিনি গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়া-লেখার জন্য, কন্যা দায়গ্রহস্থ পিতাকে এবং অসুস্থ রোগীদের আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করে থাকেন।
ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষিকুন্ডা ইউনিয়নের বিলকেদার গ্রামের মৃত জফির উদ্দিন প্রামানিকের নয় ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে মোঃ আছাব আলী প্রামানিক চতুর্থ। শখের বসে তিনি ২০০৬ সালে নিজ বাড়িতে একটি গরু পালন শুরু করেন। সেই গরু থেকে বর্তমানে তার সোহেল ডেইরি খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে ৪০ টি গরু রয়েছে। গরু খামার করে আছাব সফল এবং ঈশ্বরদীর আইডল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। এগিয়ে চলেছেন শুধু সামনের দিকে। আছাব ঈশ্বরদীর একজন আদর্শ ও প্রতিষ্ঠিত মডেল গরু চাষি। আছাবের দেখা দেখি তার এলাকা ও আশপাশের বেকার যুবকেরা পরামর্শ নিয়ে গরু চাষ শুরু করেছে। আছাব তার খামারের নাম দিয়েছেন সোহেল ডেইরি খামার।
গরু চাষি আছাব আলী প্রামানিক জানান, শখের বসে একটি গরু পালন শুরু করি। বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে আমার সোহেল ডেইরি খামারে ৪০টি গরু রয়েছে। মাসিক ১০ হাজার টাকা করে বেতনে তিনজন শ্রমিক নিয়মিত খামারে কাজ করছেন। আমার খামারের একটি এঁড়ে গরুর মাংস প্রায় ২০ মন হবে। ইতোমধ্যে তিনি সরকারি ভাবে পাঁচ বার গরু চাষের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সাফল্যের বিষয়ে গরু চাষি আছাব প্রামানিক বলেন, দেশে বেকারত্ব দুরীকরণ এবং প্রোটিনের চাহিদা কিছুটা হলেও পুরণ করার জন্য এ পেশায় এসেছি। দেশের এবং জনসাধারনের কথা চিন্তা করে এদেশের মানুষের পুষ্টির যোগান দিতেই বেকার যুবকদের গরু চাষে উৎসাহিত করে তুলেছি। একটু হলেও তো দেশের উপকারে আসতে পেরেছি। আমি বিশ্বাস করি এদেশের শিক্ষিত বেকার যুবকেরা সততার সাথে শ্রম দিয়ে গরু চাষ করলে চাকরি নামের সোনার হরিণের পিছু না নিয়ে একটু প্রশিক্ষণ নিয়ে গরু চাষে মনোনিবেশ করলে যেমনি এদেশ থেকে বেকারত্ব কমবে, সেই সাথে দেশের মাংসের চাহিদা কিছুটা হলেও পূরণ হবে বলে আমি আশাকরি। তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে দুধের দাম কম এবং গরুর খাবার ও ঔষধের দাম অনেক বেশি। সরকারি ভাবে সুযোগ-সুবিধা পেলে দেশে দ্রুত গরুর খামার বৃদ্ধি পাবে এবং এই পেশায় বেকার যুবকেরা ঝুঁকবে।
ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মোঃ মোস্তফা জামান বলেন, লক্ষিকুন্ডা ইউনিয়নের বিলকেদার গ্রামের মৃত জফির উদ্দিন প্রামানিকের ছেলে মোঃ আছাব আলী প্রামানিক গরুর খামার করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ২০০৬ সালে শখের বসে নিজ বাড়িতে একটি গরু পালন থেকে বর্তমানে তার সোহেল ডেইরি খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে ৪০টি গরু রয়েছে। গরুর খামার করে আছাব সফল এবং ঈশ্বরদীর আইডল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। সোহেল ডেইরি খামারে গরু চাষের কারণে কিছুটা হলেও দেশের মাংস ও দুধের ঘাটতি পূরণে সচেষ্ট হবে। সোহেল ডেইরি খামারটি প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের পরামর্শ মোতাবেক পরিচালনা করে থাকেন। এভাবে নিয়ম মেনে চলতে থাকলে আরও বেশি ভালো করবেন বলে তিনি এ কথা জানান।

LEAVE A REPLY