ঈশ্বরদীতে বঙ্গবন্ধু ছিন্নমূল শিশু ও দুঃস্থ নারী পূনর্বাসন কেন্দ্রের নামে জমি দখলের অভিযোগ

0
44

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ॥ বিমানবন্দর সড়কের পুরাতন ঈশ্বরদীতে বঙ্গবন্ধু ছিন্নমূল শিশু ও দুঃস্থ নারী পূনর্বাসন কেন্দ্র ও ফ্রি-ফ্রাইডে ক্লিনিকের নামে শহিদুল ইসলামের প্রতি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। আলমগীর হোসেন বাদশা ২০১৭ সালে ইসতিয়াক আহমেদ খাঁনের কাছ থেকে ৩৪ শতাংশ জমি ক্রয় করে দখলে নিয়ে সেখানে একটি ঘর তুলে মজনু নামের এক ব্যক্তি জমি খাজনা করে দিয়েছিলেন। শহিদুল ইসলাম মাস্তানবাহিনী দিয়ে ঘর ভেঙ্গে মালামালসহ ঘর লুট করে নিয়ে সেখানে পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ দিয়ে দিয়েছেন।
মোঃ মজনু পিতা সোনাই প্রামানিক জানান, আলমগীর হোসেন বাদশা ইসতিয়াক আহমেদ খাঁনের কাছ থেকে ৩৪ শতাংশ জমি ক্রয় করে একটি ঘর তুলে কাটাতারের বেড়া দিয়ে নিজ দখলে থাকা জমি আমাকে খাজনা করে দেন। আমি সেই জমিতে চাষাবাদ করতে ছিলাম। হঠাৎ করে শহিদুল ইসলাম লালপুর থেকে দলীয় লোকজন এনে ঘর ভেঙ্গে মালামালসহ ঘর লুট করে নিয়ে যান।


জসিম উদ্দিন পিতা মৃত তজিম উদ্দিন জানান, নেসার খাঁন ও হোসেন মোহাম্মদ খাঁন দুই ভাই। তাদের ৬৮ শতাংশ জমির ৩৪ শতাংশ জমি আগেই নেসার আহমেদ খাঁন বিক্রি করে দিয়েছে, সেখানে মসজিদ ও বাড়ি ঘর রয়েছে। হোসেন মোহাম্মদ খাঁন মারা যাওয়ায় তার পুত্র ইসতিয়াক আহমেদ খাঁন পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া ৩৪ শতাংশ জমি আলমগীর হোসেন বাদশার নিকট বিক্রি করে দেয়। বাদশার দখলকৃত জমিতে একটি ঘর তুলে সেখানে চাষাবাদের জন্য মজনুকে খাজনা করে দেন। কয়েকদিন আগে শহিদুল সাহেব জমি দখলের জন্য বঙ্গবন্ধু ছিন্নমূল শিশু ও দুঃস্থ নারী পূনর্বাসন কেন্দ্রের নামে ওই জমিতে একটি সাইন বোর্ড লাগিয়েছেন।
সুইট আলী পিতা মৃত আজিজুর রহমান জানান, ১৯২০ সালে শাহরিয়ার খাঁনের নামে সিএস অনুযায়ি ৬৮ শতাংশ জমি রেকর্ড ভুক্ত হয়। তার দুই পুত্র নেসার খাঁন ও হোসেন মোহাম্মদ খাঁন। ১৯৬২ সালে নেসার খাঁন ও হোসেন মোহাম্মদ খাঁনের নামে এস এ রেকর্ড হয়। ১৯৬৮ সালে আর এস অনুযায়ি নেসার খাঁন ও হোসেন মোহাম্মদ খাঁনের নামে ৬৮ শতাংশ জমি রেকর্ড হয়। পরে নেসার খাঁন একাই ওই জমি বিক্রি করে দেন। এটা হোসেন মোহাম্মদ খাঁন জানতেন না। হোসেন মোহাম্মদ খাঁনের মৃত্যুর পর তার ছেলে ইসতিয়াক আহমেদ খাঁন এঘটনা জানার পর এসিল্যান্ড অফিসে খারিজের বিরুদ্ধে মিসকেস করেন। ২০১৫ সালে ইসতিয়াক আহমেদ খাঁন ডিগ্রী পেয়ে ২০১৭ সালে আলমগীর হোসেন বাদশার নিকট ৩৪ শতাংশ জমি রেজিষ্ট্রি করে বিক্রি করে দেন। ওই জমি দখলের জন্য বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙ্গিয়ে একটি সাইন বোর্ড লাগিয়েছেন শহিদুল ইসলাম।
জমির মালিক আলমগীর হোসেন বাদশা জানান, ২০১৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ইসতিয়াক আহমেদ খাঁনের কাছ থেকে ৩৪ শতাংশ জমি সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে -রেজিষ্ট্রি করে ক্রয় করি। জমি ক্রয়ের পর সীমানা নির্ধারন করে কাটাতারের বেড়া দিয়ে নিজ দখলে থাকা জমিতে একটি টিনের ঘর তুলে মজনুকে খাজনা করে দেই। শহিদুল ইসলাম এসিল্যান্ড অফিসে ডিগ্রী না পেয়ে আদালতে ১৪৪ ধারা জারি করেন। কয়েকদিন আগে তিনি নিজেই ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে জমি দখলের জন্য বঙ্গবন্ধু ছিন্নমূল শিশু ও দুঃস্থ নারী পূনর্বাসন কেন্দ্র ও ফ্রি-ফ্রাইডে ক্লিনিকের নামে একটি সাইন বোর্ড লাগিয়ে দেন। দুই-তিন পরে ওই সাইন বোর্ডে টেপ দিয়ে ছোট করে প্রস্তাবিত লেখা একটি কাগজ লাগিয়ে দেন। শহিদুল ইসলাম একজন ভূমিদস্যু। জমি ক্রয় না করে পাশ্ববর্তী দুইজনের জমিতে জোর পূর্বক সীমানা প্রাচির নির্মাণ করেছেন। মাস্তান বাহিনী দিয়ে আমার জমিতে থাকা ঘর ভেঙ্গে মালামালসহ ঘরের সামগ্রী লুট করে নিয়ে সেখানে চাষ দিয়ে দিয়েছেন। শহিদুল ইসলাম আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জোর পূর্বক ইট দিয়ে প্রাচির দেয়ার সময় কোর্টের লোকজন এবং পুলিশ এসে তা বন্ধ করে দিয়েছে।
জমি দখলের অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, কমিশন করে সাব-রেজিষ্টারকে ঢাকায় নিয়ে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সোয়া ১৬ শতাংশ জমি ক্রয় করে সেখানে বঙ্গবন্ধু ছিন্নমূল শিশু ও দুঃস্থ নারী পূনর্বাসন কেন্দ্র ও ফ্রি-ফ্রাইডে ক্লিনিকের সাইন বোর্ড দিয়েছি। ওই জমির জন্য আমি আদালতে ১৪৪ ধারা জারি করেছি। বাদশার ঘর এলাকাবাসি ভেঙ্গে দিয়েছে। আমার কোন লোক এর সাথে জড়িত নয়।

LEAVE A REPLY