ঈশ্বরদীর দাদাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, স্কুলে তালা

0
280

সেলিম আহমেদ, ঈশ্বরদী থেকে ॥ ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষিকুন্ডা ইউনিয়নের দাদাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের (সেসিপ) প্রধান ফটকে গত মঙ্গলবার থেকে তালা লাগিয়ে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন ও প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করেছেন। শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে লক্ষিকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত পত্র দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক খালেদা আক্তার ও তার স্বামী এই স্কুলের সহকারি লাইব্রেরিয়ান (গ্রন্থাগারিক) আশরাফুল ইসলাম সবুজ দির্ঘ দিন ধরে বিদ্যালয়ে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি চালিয়ে আসছে। প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। তিনি ট্রেনিংয়ে আছেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস ও জেলা শিক্ষা অফিসে আছেন এমন অজুহাতে তিনি অনুপস্থিত থাকেন কিন্তু মাস শেষে ঠিকই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে নেন। প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে তার স্বামী সবুজ বিদ্যালয়ের সকল কিছু দেখভাল করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষকের গাফিলতির কারণে ২০১৭ সালের মে মাসের বেতন ও ঈদুল ফিতরের ঈদ বোনাস পায়নি বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। এছাড়াও সরকার প্রদত্ত বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ তিনি নিজ কাজে বাসায় নিয়ে ব্যবহার করেন। এছাড়াও আভ্যন্তরীণ আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে যা বললে শিক্ষক হিসেবে আমাদের নিজেদেরই সম্মানহানী হবে।
অপর এক শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষকের আচরণে আমরা মর্মাহত। বছর জুড়েই তিনি ট্রেনিংয়ে থাকেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার তার আত্মীয় এমন অজুহাত দেখিয়ে তিনি শিক্ষকদের শাসানোর চেষ্টা করেন। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় গত মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দিলে প্রধান শিক্ষকের স্বামী সবুজ বিলকেদা এলাকার রাজ্জাক হোসেনের ছেলে কামাল হোসেনকে ডেকে এনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হুমকি ধামকি দেন। এক পর্যায়ে কামাল চেয়ার দিয়ে শিক্ষকদের মারতে উদ্যত হয়। একজন বহিরাগত ব্যক্তি কিভাবে বিদ্যালয়ে ঢুকে এটা করতে পারে।
আন্দোলনরত ছাত্র ইব্রাহিম হোসেন ও মইনুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের বিরুদ্ধে লক্ষিকুন্ডা ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। দির্ঘ দিন বিদ্যালয়ে ইংরেজি শিক্ষক নেই তিনি শিক্ষকের ব্যবস্থা করেন না। ইংরেজি পাঠদান থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। আমাদের বিদ্যালয়ে বনভোজন, শিক্ষা সফর, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা হয় না। এসব থেকেও আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঈশ্বরদী উপজেলা শিক্ষক সমিতির একজন প্রভাবশালী নেতা বলেন, যে নিজের স্কুল সামলাতে পারেন না। যার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শত অভিযোগ। সে কিভাবে উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন তা আমাদের বোধগম্য নই।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন এলাকাবাসি অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষকদের ঠেলাঠেলির কারণে স্কুলের শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় ব্যাঘাত ঘটছে। একই সাথে স্কুলের সুনামও নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষকদের ঠেলাঠেলি থেকে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা পরিত্রান চায়।
প্রধান শিক্ষক খালেদা আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। বরং উল্টো পাঁচজন শিক্ষককে দায়ি করে বলেন, পাঁচজন শিক্ষক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে মাসিক বেতন, পরীক্ষার ফি বাবদ ২ লাখ ২৪ হাজার টাকা তুলেছেন কিন্তু এগুলো বিদ্যালয় ফান্ডে জমা দেননি। এদের মধ্যে একজন ৫০ হাজার টাকা জমা দিলেও বাকিরা এখন দেননি। এসব টাকা বিদ্যালয় ফান্ডে জমা দেওয়ার কথা বলাতে তারা শিক্ষার্থীদের আমার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলেছেন। এসব শিক্ষকদের ইন্ধনেই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।
এঘটনা প্রসঙ্গে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেলিম আকতারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি শুনেছি। বিদ্যালয়ে খন্ডকালীন একজন ইংরেজি শিক্ষক নিয়োগের জন্য রেজুলেশনের মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে। গত বছরের মে মাসের বেতন ও বোনাস প্রসঙ্গে বলেন, তখন বিদ্যালয় ছুটি ছিল। আমিও ব্যক্তিগত ভাবে বেতনের চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু পাঁচজন শিক্ষক এতে স্বাক্ষর না করায় বেতন-বোনাস উত্তোলন সম্ভব হয়নি। তবে সকল শিক্ষকের আবেদনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয় থেকে এই বেতন-বোনাস উত্তোলন করা যাবে। প্রধান শিক্ষক তার আত্মীয় কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন অভিযোগ সত্য নয়। আমার সঙ্গে তার কোন আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। তিনি হয়তো শিক্ষকদের জব্দ করতে আমার সঙ্গে তার আত্মিয়তার নাম ভাঙ্গিয়েছেন।

LEAVE A REPLY