ঈশ্বরদীর মানিকনগরে নববধূ সাথী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও পথসভা অনুষ্ঠিত

0
142

সেলিম আহমেদ, ঈশ্বরদী থেকে ॥ নববধূ সাথী হত্যার বিচারের দাবিতে সাথীর আত্মিয়-স্বজন, এলাকাবাসি ও মানিকনগর উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও পথসভা করেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও পথসভার আয়োজন করেন। মানিকনগরে মানববন্ধন করে সাথীর স্বজন, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেন।
মানববন্ধন শেষে পথসভায় বক্তব্য রাখেন, সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) ও সাথীর ফুপাতো ভাই আখতারুল ইসলাম, মানিকনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর তরিকুল ইসলাম, সলিমপুর ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম মালিথা, আব্দুর রশিদ প্রামানিক, বকুল হোসেন, আশিক প্রামানিক, শিক্ষার্থী নিরব হোসেন ও শিমলা খাতুন।
সাথী হত্যার বিচারের দাবিতে পথসভায় বক্তারা বলেন, সাথীর হাতের মেহেদির রং মোছার আগেই পরিকল্পিত ভাবে বাসর রাতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। সাথীর বাসর ঘরের সঙ্গে এটাস্ট বাথরুম থাকা সত্বেও কেন বাইরের বাথরুমে গিয়ে সে আত্মহত্যা করবে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড ছাড়া কিছু নয়। সাথীকে হত্যা করে সিঁড়িগেটের বাথরুমের তোয়ালেদানীর (হ্যাঙ্কার’র) সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। সাথীর লাশ বাথরুমের হ্যাঙ্গারের সঙ্গে ঝুলানো অবস্থায় দেখা গেছে। সাথীর পা বাথরুমের মেঝের সঙ্গে লাগানো ছিল। মেঝেতে পা লেগে থাকা মানুষ কখনো গলায় ফাঁস নিয়ে মরতে পারেনা। গলার যেখানে দড়ি লাগালে ফাঁস লাগার কথা সেখানে দড়ি লাগানো ছিল না। আমরা মনে করি এটি কোন ভাবেই আত্মহত্যা হতে পারে না। বক্তারা অবিলম্বে সাথী হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
সাথীর বাবা সিরাজুল ইসলাম প্রামানিক কাঁন্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমি গরীব মানুষ হয়তো একারণে আমার মেয়েকে ওরা বাসর ঘরেই পরিকল্পিত ভাবেই হত্যা করেছে। আমার মেয়ে নিজ ইচ্ছাতে কখনোই আত্মহত্যা করতে পারেনা। সাথীর বরের দুই ভাবীর প্ররোচনায় আমার মেয়েকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছিল। আমার মেয়ের মতো আর যেন কারো মেয়ে এভাবে অকালে ঝড়ে না যায়। সংবাদপত্রের মাধ্যমে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং আমার মেয়ে সাথী হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

LEAVE A REPLY