ঈশ্বরদীর মুলাডুলি বাজারের মাছের আড়ৎ বদলে দিয়েছে এলাকার মৎস্য চাষিদের ভাগ্য

0
41

সেলিম আহমেদ, ঈশ্বরদী থেকে ॥ ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি বাজারের মাছের আড়ৎ বদলে দিয়েছে এলাকার মৎস্য চাষিদের ভাগ্য। জমে উঠেছে ঈশ্বরদী মুলাডুলির মাছের আড়তের ক্রয়-বিক্রয়। প্রতিদিন ভোর থেকে মুলাডুলি মৎস্য আড়তে শুরু হয় মাছ বেচাকেনা। মাছ চাষি ও ব্যাপারিদের পদচারণায় আড়ৎ এলাকায় উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এলাকার ও আশপাশের মৎস্য চাষিরা বিক্রির জন্য এখানে তাদের উৎপাদিত মাছ নিয়ে আসেন। স্থানীয় মাছের আড়ৎদারেরা ব্যাপারিদের কাছে মাছ বিক্রি করে চাষিদের নগদ টাকা বুঝিয়ে দেন। চাষিদের এখন আর মাছ বিক্রির টাকার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা ধর্ণা দিয়ে আড়তে বসে থাকতে হয় না।
মাছ চাষি আব্দুুল কাদের মৃধা জানান, ২২ বিঘা মাছের পুকুর রয়েছে। প্রতিদিন আড়তে বিক্রির জন্য মাছ নিয়ে আসি। মুলাডুলির আড়তে মাছ বিক্রি করলে খাজনা নেয় না। সঠিক ওজন ও চলমান বাজার মূল্যে দাম পাওয়া যায়। অন্যান্য এলাকার আড়তের চেয়ে কমিশনও অনেক কম নেয় এখাকার আড়তদারেরা।
চাষি রফিকুল ইসলাম মন্ডল বলেন, ছোট বড় মিলিয়ে ৭০ বিঘা পুকুরে মাছের চাষ রয়েছে। রাজাপুর আড়তে মাছ বিক্রির জন্য গেলে আমাদের বড় মাছটা আড়তের লোকজন তুলে নিতো। এছাড়া শতকরা ৪ টাকা কমিশন কেটে নিতো। কিন্তু মুলাডুলি আড়তে তার অর্ধেক কমিশনে মাছ বিক্রি করছি। আমাদের ইচ্ছে ও সুবিধা মত মাছ বিক্রি করতে পারি। এখানে মাছ বিক্রি করতে কোন চাঁদা দিতে হয়না।
অপর মাছ বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, এখানে মাছের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য বড় জায়গা রয়েছে।

আড়তদারেরা বাড়তি মাছ নেয়না, কমিশন কম কাটে। মাছ বিক্রির সাথে সাথে আমাদের টাকা পরিশোধ করে দেয়। গাড়ির ড্রাইভার আক্তার মন্ডল বলেন, এখানে গাড়ি পার্কিংয়ের সুন্দর জায়গা রয়েছে। গাড়ি থেকে কেউ চাঁদা দাবি করেনা। আমরা ভালো ভাবে মাছ নামাতে এবং উঠাতে পারি। মুলাডুলির আড়ৎ থেকে মাছ নিয়ে আমরা বিভিন্ন এলাকায় পৌছে দেই।
আড়ৎদার মহসিন আলী বলেন, আমাদের এলাকায় ও আশপাশে শত শত মৎস্য চাষি রয়েছে। তাদের উৎপাদিত মাছ বিক্রির জন্য অন্যান্য এলাকার আড়তে নিয়ে গেলে নানা সমস্যা পোহাতে হতো। মুলাডুলি আড়তে মাছ বিক্রি করলে খাজনা নেই, চাঁদাবাজি নেই। মাছ বিক্রেতাদের কাছ থেকে অন্য এলাকার আড়তে যে কমিশন নেয় তার অর্ধেক কমিশন আমরা নিয়ে থাকি।
অপর আড়ৎদার আইনাল ও কবির মালিথা জানান, এই এলাকায় প্রচুর পরিমানে মৎস্য উৎপাদন হয়। এই চাষিরা দেশের বিভিন্ন জায়গাতে মাছ বিক্রি করতে গিয়ে নানা রকম হয়রানীর স্বীকার হতো। চাষিরা এখন মাছ বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে টাকা নিয়ে আনন্দে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
হাট মালিক আব্দুল মতিন বলেন, চাষিদের সুবিধা বিবেচনা করে মুলাডুলিতে মাছের আড়ৎ করা হয়েছে। এখানে যারা মাছ বিক্রি করেন তাদের কাছ থেকে কোন খাজনা নেয়া হয়না। ঈশ্বরদীর বাইরে থেকে যারা মাছ কিনতে আসেন তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। মাছের গাড়ি ঘোরা রাখার জন্য সুবিধা রয়েছে।
মুলাডুলি ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম মালিথা বলেন, আমার ইউনিয়নে ও আশেপাশে কয়েক’শ মাছের পুকুর রয়েছে। এসব পুকুর থেকে প্রচুর পরিমাণে মাছ উৎপাদন হয়। অন্যান্য এলাকায় মাছ বিক্রি করতে গিয়ে নাজেহাল হয় এসব মাছ চাষিরা। মাছ চাষিদের স্বার্থের কথা ভেবেই মুলাডুলিতে আড়ৎ খোলা হয়েছে। এখানে মাছ বিক্রি করতে এলে কোন চাষিকে খাজনা বা চাঁদা দিতে হয়না। মাছ বিক্রির সাথে সাথে তারা নগদ টাকা পেয়ে যান। মুলাডুলি বাজারের মাছের আড়ৎ বদলে দিয়েছে এলাকার মৎস্য চাষিদের ভাগ্য।

LEAVE A REPLY