ঈশ্বরদীর স্কুল-মাদ্রাসার ছাড়পত্র নিয়ে বিয়ে রেজিষ্ট্রির দাবি

0
241

সেলিম আহমেদ, ঈশ্বরদী থেকে ॥ ঈশ্বরদী উপজেলায় বাল্য বিবাহের প্রবণতা দিন দিন আশংকাজনক হারে বাড়ছে। এর ফলে অল্প দিন সংসার করার পর বিবাহ বিচ্ছেদের শিকার হয়ে মেয়েরা বাবার বাড়িতে দূর্বিষহ জিবন যাপন করছে। বিশেষ করে উপজেলার ছলিমপুর, সাহাপুর, লক্ষিকুন্ডা ও মুলাডুলি ইউনিয়নে অশিক্ষিত বিত্তহীন পরিবারগুলোতে এই বাল্য বিয়ের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ঈশ্বরদীতে বহু গ্রামে অভিভাবকরা তাদের কন্যা সন্তানদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পার হয়ে হাইস্কুলে যেতে না যেতেই তাদের পাত্রস্থ করেন।
ফলে এরা সংসার কি বোঝার আগেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে নাজেহাল হয়। অল্প বয়সে সন্তান ধারণ করে তারা আক্রান্ত হচ্ছে নানা রোগে। উপজেলার কয়েকটি স্কুল ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে ১২ থেকে ১৬ বছরের অধিকাংশ মেয়ে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তাদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে দারিদ্র যেখানে নিত্য সঙ্গি সেখানে মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলা তাদের কাছে অবাস্তব চিন্তা। তাদের মতে মেয়েদের যত তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়া যায় ততই মঙ্গল। আবার কতিপয় অভিভাবক সীমাহীন দারিদ্র থেকে মুক্তি এবং সামাজিক মর্যাদা যাতে ক্ষুন্ন হতে না পারে সে জন্য অল্প বয়সে মেয়েকে পাত্রস্থ করে। অপরিণত বয়সে এই সব মেয়ে গর্ভধারণ করে সন্তান প্রসব করতে গিয়ে নানা রকম ভোগান্তির শিকার হয়।
অল্প বয়সী মেয়েরা বউ হিসাবে নিজেকে মানিয়ে নিতে না পারার কারণে স্বামীর সংসারে লাঞ্চনার শিকার হয় এই সব কারণে অনেক মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। বিভিন্ন গ্রামে বিয়ের মজলিশে দেখা যায় অধিকাংশ পাত্র-পাত্রীর বয়স ১৮ বছর এর নিচে। অথচ রেজিষ্ট্রাররা অর্থের বিনিময়ে সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে বিয়ে রেজিষ্ট্রি করছেন। বাল্য বিয়ে অপরাধ হলেও এই আইন মানা হচ্ছে না। ঈশ্বরদীতে এক্ষেত্রে বিয়ের বয়স নিশ্চিত করতে স্কুল মাদ্রাসার ছাড়পত্র নেওয়ার বিধান চালু করলেই সহজে বয়স নিরুপন করা সম্ভব হবে বলে অনেকের অভিমত।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, বাল্য বিয়ের কারণে স্কুলের শিক্ষার্থী কমে যায় এবং সে সকল বধূরা সব সময় রোগে শোকে ভোগে। বাল্য বিয়ের প্রবণতা বেশি গ্রামাঞ্চলে। বাল্য বিয়ের খবর পেলে আমরা সেখানে ছুটে যাই এবং উভয় পক্ষের গার্জিয়ানকে বাল্য বিয়ের সুফল-কুফল বুঝিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেই। কোন কোন সময় গ্রেফতার করে আইনের আশ্রয়ে পাঠিয়ে দেই। বাল্য বিয়ে রোধে সমাজের সকলকে সচেতন হতে হবে, তাহলেই বাল্য বিয়ে রোধ করা সম্ভব।

LEAVE A REPLY