ঈশ্বরদী উপজেলা ডাকঘর দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে

0
62

  ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ॥ ঈশ্বরদী উপজেলা ডাকঘরটি দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ঘুষ না দিলে কোন কিছুই হয়না বলে অভিযোগ করেন অনেক মহিলা গ্রাহক। সরেজমিনে গিয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা ডাকঘরে দেখা গেছে তাদের হয়রানির চালচিত্র। অভিযোগে প্রকাশ, প্রায় দুই মাস ধরে এই ডাকঘরে কোন ধরনের সঞ্চয়পত্র না পেয়ে শত শত মানুষ প্রতিদিনই বিমুখ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। লোকমুখে শোনা যাচ্ছে এরই মধ্যে আবার কেউ কেউ টাকার বিনিময়ে যে কোন ধরনের সঞ্চয়পত্র সহজেই পেয়ে যাচ্ছেন।
টাকার বিনিময়ে এরই মধ্যে গোপনে দুই একজনকে সঞ্চয়পত্র দেয়া হচ্ছে। এছাড়া সঞ্চয়ের সমুদয় টাকা উত্তোলনের সময়ও তারা আদায় করছেন হাজার হাজার টাকা। অন্যথায় নিরাশ হয়ে ঘরে ফিরছেন সাধারণ গ্রাহকেরা। সরকারি বিধি বিধানের কোন তোয়াক্কাই করছেন না পোস্ট মাস্টার আব্দুল মতিন। তিনি নিজের আখের গোছাতেই মোটা অংকের টাকা নিয়ে এক (পিয়ন) চিঠি বিলি বন্ধ করে সঞ্চয়পত্র বিক্রয়সহ সকল কাজের তদবিরে ব্যস্ত রেখেছেন। এতে করে জনসাধারণ নানা ভাবে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হলেও পোস্ট মাস্টার এ ব্যাপারে কোন তোয়াক্কাই করছেন না। ভুক্তভোগিরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গ্রাহক অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দায়েরের কথা জানালে ঈশ্বরদী উপজেলা পোস্ট মাষ্টার আব্দুল মতিন পাবনা ডাকঘরের একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে তাকে টেলিফোন করান। তিনি ওই ব্যক্তিকে কয়টা সঞ্চয়পত্র লাগবে বলে ঈশ্বরদী ডাকঘরে যেতে বলেন।
ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল আনোয়ার হোসেন পোস্ট মাস্টার আব্দুল মতিনের ব্যাপারে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, প্রয়োজন বেশি হওয়ায় ঈশ্বরদীতে পাবনা জেলার সবচেয়ে বেশি পরিমান সঞ্চয়পত্র দেয়া হয়। কিন্তু পোস্ট মাস্টার তার আত্মীয়-স্বজনদের জন্য সব ধরনের সঞ্চয়পত্র সংগ্রহে রাখেন আর অন্যদের হয়রানি করেন।
এবিষয়ে কথা হলে ঈশ্বরদী উপজেলা পোস্ট মাস্টার আব্দুল মতিন বলেন, আমার অফিসে কোন ধরনের সঞ্চয়পত্র নেই। আগামীতে আসলে তখন দেয়া হবে। ঘুষের বিনিময়ে সঞ্চয়পত্রও প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এমন ধরনের কোন ঘটনা আমার জানা নেই। তিনি বলেন, পোস্ট অফিসের কাকে কোন জায়গায় কাজ করাতে হবে তা পোস্ট মাস্টারের এখতিয়ার রয়েছে। তিনি জানান, দশ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র আছে। দুই দিন আগে যে দুইজন দশ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র নিলেন তারা কোথায় পেলেন-এ প্রশ্নের তিনি সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।

LEAVE A REPLY