ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেলপথ ব্যয় দ্বিগুণ হলেও আটকে আছে পাবনাবাসির স্বপ্ন

0
161

সেলিম আহমেদ, ঈশ্বরদী থেকে ॥ ঈশ্বরদী-পাবনা-ঢালারচর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ হলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। বারবার পিছিয়ে পড়ছে নির্মাণ কাজ। ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেলপথ ব্যয় দ্বিগুণ হলেও আটকে আছে পাবনাবাসির স্বপ্ন। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি ঈশ্বরদী থেকে পাবনা পর্যন্ত রেলপথের কাজ প্রায় শেষ। যে কোনো সময় উদ্বোধন হবে। আর উদ্বোধনের আশায় বুক বেঁধে আছে পাবনার বিভিন্ন স্তরের মানুষ। বিশেষ করে জেলার সবজি ব্যবসায়ি ও চাষিরা বলছেন তাদের উৎপাদিত সবজি নিয়ে সমস্যায় পড়ার দিন শেষ হতে চলেছে এবার।
বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, প্রকল্পের প্রথম ফেজের কাজ ৮০ ভাগ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রথম ফেজে রয়েছে ঈশ্বরদী উপজেলার মাঝগ্রাম থেকে পাবনা পর্যন্ত রেলপথ। দ্বিতীয় ফেজে আছে পাবনা থেকে ঢালারচর পর্যন্ত রেলপথ। দ্বিতীয় ফেজের এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে মাত্র ৩০ ভাগ।
রেলওয়ে বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পাবনাবাসির বহু প্রতিক্ষিত মাঝগ্রাম-পাবনা-ঢালারচর রেলপথের কাজ ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হয়। প্রথমে বরাদ্দ ছিল ৯৮২ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। বর্তমানে এ ব্যয় বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৬২৯ কোটি টাকা। এ ব্যয় আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন সিনিয়র কর্মকর্তা।
মাঝগ্রাম থেকে পাবনা পর্যন্ত ২৫ কি.মি. রেলপথ ও ৪টি স্টেশন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। অচিরেই যাত্রি চলাচলের জন্য ট্রেন চলবে। ইতিমধ্যে মাঝগ্রাম, দাশুড়িয়া, টেবুনিয়া ও পাবনায় স্টেশন নির্মাণসহ রেললাইন বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। ঈশ্বরদীর অদূরে মাঝগ্রাম থেকে পাবনা পর্যন্ত ৩৬টি ছোট ও দুটি বড় ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। অপরদিকে পাবনা থেকে ঢালারচর পর্যন্ত ৭৬টি ছোট ও ৯টি বড় ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
এ ব্যাপারে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদী-পাবনা-ঢালারচর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের বহু প্রতিক্ষিত প্রকল্প। হাজারও মানুষের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে এর মধ্যে দিয়ে। ইতিমধ্যে পাবনা পর্যন্ত ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করা যায় অচিরেই পাবনা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হবে। আর এই ট্রেন চলাচলের উদ্বোধনের আশায় আছে পাবনার বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ি ও সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন প্রকার ব্যবসায়িদের পাশাপাশি দেশের সবজি চাষে বিখ্যাত ঈশ্বরদীর সবজি ব্যবসায়ি ও উৎপাদনকারিদের বেশি সুবিধা হবে। তারা সহজেই এ অঞ্চল থেকে রাজশাহী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করতে পারবে। সবজিসহ নানা প্রকার মালামাল খুব সহজেই নানা স্থানে বহন করতে পারবে। এতে করে সবজি চাষিসহ ব্যবসায়িদের মালামাল কেনাবেচা বেশি হবে। ফলে তাদের অর্থনৈতিক লেনদেনও বৃদ্ধি পাবে। প্রতিটি ঘরে ঘরে স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে।

LEAVE A REPLY