উপাচার্যের কার্যালয়ে ছাত্রলীগ মারল আন্দোলনকারীকে অতঃপর আন্দোলনের সমন্বয়কারীকে থানায় সোপর্দ !!

0
56

ঢাকা প্রতিনিধি:   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি ৭ কলেজ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম সমন্বয়ক মশিউর রহমান সাদিককে থানায় সোপর্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার রাতে তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, সাদিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় দেয়া হয়েছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপার।
মশিউর সাদিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র। অধিভুক্ত সাতটি কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে তিনি ফেসবুকে ইভেন্ট খুলে আন্দোলনের ডাক দেন।
এরপর শুরু হয় ছাত্রলীগের ‘অ্যাকশন’। কেউ অবস্থানকারীদের ওপর হামলা করেননি। হলগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের নেতৃত্বে কয়েক শ নেতা-কর্মী আন্দোলনকারীদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন। পাশে মল চত্বরে চলে দফায় দফায় মহড়া। প্রথমে হলের নেতারা নিজ নিজ হলের শিক্ষার্থীদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। শেষ পর্যন্ত সেখানে ৩০-৪০ জন ছাত্রীসহ ৫০-৬০ জন অবস্থান করছিলেন। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা গোল হয়ে তাঁদের ঘিরে ধীরে ধীরে এগোতে থাকেন। ছাত্রীদের উদ্দেশ করে নিজেদের মধ্যে অশ্লীল কথা বলছিলেন কেউ কেউ। কেউবা পেছন থেকে বসে থাকা ছাত্রীদের গায়ে পা লাগাচ্ছিলেন।

সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ের অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সাধারণ সম্পাদক আল আমীন তাকে টেনে-হেঁচড়ে উপাচার্যের কক্ষে নিয়ে যান।
সেখানে তাকে হেনস্তা করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতারা। ছিনিয়ে নেয়া হয় তার মুঠোফোন। সেখান থেকে তাকে প্রক্টরের কক্ষে নিয়ে সহকারী প্রক্টররা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারী মশিউর রহমানকে উপাচার্যের কার্যালয়ের ভেতরে নিয়ে মারধর করেছেন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী। এরপর তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রীদের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করেছেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ছাত্রলীগের এই ভূমিকার সুফল পায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নেতা-কর্মীদের হুমকি-ধমকি, মহড়া, ইভ টিজিং আর গালিগালাজের ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নস্যাৎ হয়ে যায়।

আন্দোলনের সমন্বয়কারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মশিউর রহমান রাত সাড়ে ৯টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ছাড়া পাননি। উপাচার্যের কার্যালয় থেকে কলাভবনের প্রক্টরের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কেঁদে ফেলেন। মশিউর রহমান বলেন, ‘আজকে যে ধরনের ঘটনা ঘটেছে, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র হিসেবে লজ্জিত বোধ করছি।’

গতকাল সোমবার ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’–এর ব্যানারে ক্লাস বর্জন কর্মসূচি শেষে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে এসব ঘটনা ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজধানীর সরকারি সাতটি কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির আয়োজন করেন।

গতকালের ঘটনা সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছাত্রলীগ ব্যবস্থা নিয়েছে—এ কথা বলা যাবে না। এখানে প্রক্টর ছিলেন, প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ছিলেন। ওরা (ছাত্রলীগ) এসেছিল, ওরা পরিস্থিতি জানতে আসে, রাস্তা আটকে আন্দোলন করছে কেন, জানতে চায়।’ তিনি বলেন, অনেক লোক জড়ো হলে মাঝেমধ্যে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তবে এটা কাম্য নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত একাধিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক এ সময় মুঠোফোনে ছবি তুলছিলেন, ভিডিও করছিলেন। একজনের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়, একজনকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।

LEAVE A REPLY