এবারের বাজেট ভোটের নয়-জুলুমের বাজেট,গণসংহতি আন্দোলনের প্রতিক্রিয়া

0
27

ঢাকা প্রতিনিধি: গণসংহতি আন্দোলনের বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, এবারের বাজেট ভোটের নয়-জুলুমের বাজেট। বাজেটে দুর্নীতি লুটপটের ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে, দেশের অর্থনীতিকে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী সঙ্কটের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। শনিবার বেলা ১২ টায় হাতিরপুলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণসংহতি আন্দোলনের উদ্যোগে বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখতার, কেন্দ্রীয় সংগঠক আব্দুল্লাহ নাদভীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা বাচ্চু ভূঁইয়া, আবু বকর রিপন, অপরাজিতা চন্দ, জান্নাতুল মরিয়ম ও দীপক রায় প্রমুখ।

আবুল হাসান রুবেল বলেন, আমরা দেখছি এবারের বাজেটেও দুর্নীতিকে পরিপোষণ, দরিদ্র মানুষের ওপর বোঝা চাপিয়ে দেওয়া, ক্ষমতার সুতোয় বাঁধা বিভিন্ন অংশকে তুষ্ট করা, সরকারি ব্যয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত আছে। এই ধারা চলতে থাকা বাংলাদেশের জন্য বিপদজনক। কেননা তাতে এক ধরনের ফাঁপা প্রবৃদ্ধি হচ্ছে এবং প্রকৃত শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের বিকাশ ঘটছে না। অন্যদিকে সরকারি ব্যয়ও এমন খাতে করা হচ্ছে যেখানে দুর্নীতির সুযোগ সবচাইতে বেশি। এটাও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত আছে।

তিনি বলেন, এবারও এধরনের মেগা উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং তাতে তড়িঘড়ি কওে তাতে অর্থ ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। যা অস্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাহীনতার যে ধারা তাকেই শক্তিশালী করবে। ব্যাংক ও আর্থিকখাতে যে অদৃষ্টপূর্ব লুটপাট চলছে তার লাগাম টেনে ধরার কোন ব্যবস্থা বা পরিকল্পনাও বাজেটে অনুপস্থিত। অন্যদিকে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ জনগণের সেবার খাতগুলো অব্যাহতভাবে অবহেলার শিকার হচ্ছে। সরকার জনগণের কাছ থেকে কর নিচ্ছে কিন্তু তাকে প্রয়োজনীয় সেবা দিচ্ছে না। যেভাবে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে তাতে অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নয়, প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে জনগণের ওপর ভর দিয়ে কতিপয় লোকের ফুলেফেঁপে ওঠার জুলুমের অর্থনীতি।

তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি সরকারের বাজেট প্রস্তাবের গতানুগতিকতার ফলে পুরো অর্থনীতি মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে ঘোরতর সঙ্কটে পড়তে যাচ্ছে। এবারের বাজেট সঙ্কট উত্তরণের নতুন কোন দিক নির্দেশনা নিয়ে হাজির হয়নি এবং বিশ্ব ব্যবস্থায় যে নতুন নতুন সঙ্কট তৈরি হচ্ছে সেগুলোর বিবেচনাতেও কোন আগাম নিরাপত্তার উদ্যোগের কথা ভাবা হয়নি।”

প্রশ্নোত্তর পর্বে জোনায়েদ সাকি বলেন, একটা বাজেটে সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনা ও নীতির প্রতিফলন থাকে। সেদিক থেকে এই সরকারের নীতি ও পরিকল্পনার ছাপও এই বাজেটে আছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারাবাহিক ও গুনগত পরিবর্তনের কোন উদ্যোগ নাই। সাইকেলে কর বাড়িয়ে হাইব্রিড গাড়িতে কর হ্রাস সরকারের যে দেশ নিয়ে কোন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নাই তারই উদাহরণ।

অন্যদিকে, সরকার যদি সত্যিই ভোট করতে চাইত তাহলে জনগণের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়ে বরং অর্থনীতির অভিঘাত থেকে তাদের রক্ষা করতে উদ্যোগ নিত। কিন্তু তার বিপরীতে লুটপাটের মাধ্যমে জনগণের অর্থ লোপাট ও ক্ষমতার নিয়ন্ত্রকদের নানা সুবিধা দেবার তৎপরতাই লক্ষ্য করছি।

তাসলিমা আখতার বলেন, গার্মেন্ট শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে তাল রেখে তাদের মজুরি বাড়ছে না। অথচ প্রবাসী শ্রমিক আর গার্মেন্ট শ্রমিকরাই এদেশের অর্থনীতি টিকিয়ে রেখেছে। তাদের অবদান ছাড়া দেশের অর্থনীতি ধ্বসে পড়ত।

ফিরোজ আহমেদ দেশের পাঁচ জেলায় ভয়াবহ দারিদ্র বৃদ্ধি ও শহরে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রীর দাবি যে যথার্থ নয় সেটা উল্লেখ করেন।

LEAVE A REPLY