ওপার বাংলার কবি শ্রীলা আচার্য্য এর সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ভিন্ন মাত্রার গদ্য কবিতা ‘’ জীবনদায়ী ’’

0
264
ওপার বাংলার কবি শ্রীলা আচার্য্য

       জীবনদায়ী

                           শ্রীলা আচার্য্য

আবিষ্কার করি একটা জীবনদায়ী ওষুধের,
এই কংক্রিটের সভ্যতাকে বিজ্ঞানের টাইম মেশিনের বোতাম টিপে
আবার আদিম যুগে নিয়ে চলে যাই,
আবার ফিরে যাই…সেই আদম আর ইভের জন্মলগ্নে,
সেই বাগানকে নতুন করে আবিষ্কার করি,
যেখানে লুকিয়ে ছিলো বেঁচে থাকার চরম সত্য।
নতুন করে উন্নত হতে থাকি ধীরে ধীরে,
শিখি নতুন করে আগুনের স্ফুলিঙ্গ জ্বালানোর প্রক্রিয়া,
তবে এবার মনে হয় না!!!
পাথরে পাথরে ঘষা দিয়ে আগুন জ্বালাতে হবে,
এক বিংশ শতকের মানুষ আদিম যুগে ফিরে গিয়ে হয়ত লাইটার খুঁজবে।
উলঙ্গ মানবজাতি যেখান থেকে নিজেকে আবৃত করতে শিখেছিলো,
এবার হয়ত নিজেকে প্লাস্টিকে ঢাকতে শিখবে।
ক্ষিদের জন্য আর শিকার নয়,
সোজা চলে যাবে মৃতের স্তুপে,
সহজলভ্য খাদ্যের জন্য…
মাটির বা খড়ের বাড়ির পরিবর্তে তৈরী হবে শুধু সিমেন্টের দেওয়াল,
জানালা,দরজা যার ব্রাত্য।
আচ্ছা,যদি সত্যি সেই অতীতে ফিরে গিয়ে জীবনদায়ী ওষুধের সন্ধান পাই,
তাহলে কি বর্তমান ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটাটা কি একটু ধীরে চালানোর ব্যবস্থা করবো???
না থাক…সময়ের ব্যবহার না হয় নাই করলাম,
কারন উন্নতি আর সময় দুজন দুজনের বিপরীতধর্মী,
কেউ কারোর কথা ভাবে না,
বড্ড স্বার্থপর লগ্নে জন্ম এই দুই বৈপরীত্যের।
আচ্ছা, সত্যি যদি আবিষ্কার করতে পারি সেই জীবনদায়ী ওষুধের..
সেদিন কি সব কিছুকে নতুন করে গড়ার সুযোগ পাবে এই পৃথিবী??
যদি সেই সুযোগ আবার ফিরে আসে,
ধ্বংস প্রক্রিয়া ছাড়া নতুন করে নির্মান করা পৃথিবী,
সেদিন কি পারবো আমরা সব পালটে ফেলতে??
কিন্তু ওষুধটা কি রোগের হবে???
মানসিক না শারীরিক!!!!
এমন একটা ওষুধ চাই,যার এক ফোঁটায় উধাও হবে হীরক রাজার দেশ,
আরেক ফোঁটায় উধাও হবে ক্ষুধার্ত শরীর,
অন্য এক ফোঁটায় থেমে যাবে সমস্ত কান্না,
অবশ্য চোখের জল নাকি মাঝেমধ্যে গড়িয়ে পড়া ভালো,
বলে নাকি চোখ ভালো থাকে..
তাই কান্নার পরিবর্তে দুঃখটাকে ঘুচানোর চেষ্টা করলে বোধ হয় বেশি সমীচিন হবে।
আর ফোঁটায় ধ্বংস করতে হবে নিরক্ষরতা,
এ যে বড় মহামারী অসুখ,
জ্ঞান,বোধ,বিকাশ সব কিছুকেই লোপ করতে সক্ষম এই রোগ।

LEAVE A REPLY