কাঁদতে কাঁদতে বাংলাদেশ ছাড়লেন জার্মান তরুণী

0
86

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক:‌ জার্মান তরুণী সুইন্ডে উইদারহোল্ড ঘুরে বেড়ান পুরো পৃথিবী। গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন ফটোগ্রাফি শিখতে। বাঙালি বন্ধুরা ডাকতেন স্যুভিন্দ্যা বলে। অবশেষে ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গেলেন নিজ দেশে।
ঘটনাটি বাংলাদেশের জন্য লজ্জার বলে মন্তব্য করেছেন সুইন্ডের বাংলাদেশি বন্ধু, প্রাচ্যনাটের নাট্যশিল্পী শশাঙ্ক সাহা। তিনি বলেন, ‘স্যুভিন্দ্যা জার্মান থেকে ঢাকার পাঠশালায় এসেছিল ফটোগ্রাফি পড়তে। তার সঙ্গে থাকা ব্যাগের মধ্যে ক্যামেরা ও ল্যাপটপে সব ডকুমেন্টস ছিল। কিন্তু সে শুন্য হাতে দেশে ফিরে গেলো।’
গত বৃহস্পতিবার ভোরবেলায় রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে ছিনতাইকারীরা তার ল্যাপটপের ব্যাগটি টান মেরে নিয়ে যায়। সব হারিয়ে শুক্রবার ভোরে কাঁদতে কাঁদতে ঢাকা ছেড়েছেন সুইন্ডে।
এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা করেছেন সুইন্ডে। তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ভোরবেলায় এলিফ্যান্ট রোডে নিজের অস্থায়ী আবাসে রিকশায় করে যাওয়ার সময় একটি সাদা গাড়ি থেকে এক ব্যক্তি তার ব্যাকপ্যাকটি টান মেরে নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে তাঁর ল্যাপটপ, ক্যামেরা, ক্রেডিট কার্ড এবং তার দুটি হার্ডডিস্কসহ অন্যান্য জিনিস ছিল।
শশাঙ্ক সাহা বলেন, গত জানুয়ারিতে ধানমন্ডির পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটে ফটোগ্রাফি কোর্স করতে ঢাকায় আসেন সুইন্ডে। তিনি চট্টগ্রামে জাহাজভাঙা শিল্প, সুন্দরবন, কুয়াকাটাসহ অনেক জায়গায় প্রচুর ছবি তুলেছিলেন। সেই ছবিগুলো বিভিন্ন বন্ধুর কম্পিউটারে জমা ছিল। ব্যাগটি হারিয়ে ভীষণ মন খারাপ সুইন্ডের। সে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গেছে জার্মানিতে।’
শশাঙ্ক বলেন, ‘সুইন্ডের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ওই ছবিগুলো। অনেক সময় দিয়ে, পরিশ্রম করে ছবিগুলো তুলেছে। এই দুটি হার্ডডিস্কের জন্য বৃহস্পতিবার সারাদিনই কেঁদেছে সুইন্ডে। তাকে কিছু খাওয়ানো যায়নি। গত শুক্রবার ভোরবেলা তাকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিয়ে আসি। সুইন্ডে এখন ছবিগুলো ছাড়া (যা হার্ডডিস্ক দুটোর মধ্য) আর কিছুই চায় না।’

এদিকে সুইন্ডে তার ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘একটি ঘটনা পুরো বাংলাদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাটি কালো মেঘে ঢেকে দিল। না, এটা (বাংলাদেশ) ভ্রমণের জন্য নিরাপদ নয়। একা ভ্রমণ না করাই ভালো। আমি কেবল একটি কথাই বলতে পারি, দেখে-শুনে চলো, নিজের ক্ষেত্রে সাবধানে থেকো। আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি বাংলাদেশ ছাড়ছি।’
ধানমন্ডি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল লতিফ মঙ্গলবার সকালে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমরা এখনও অপরাধীকে শনাক্ত করতে পারিনি। তবে চেষ্টা অব্যাহত আছে।’

LEAVE A REPLY