কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা বন্ধের দাবি নাগরিক সমাজের

0
26

ঢাকা প্রতিনিধি: কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন অভিভাবক ও উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। এই আন্দোলনে কারা হামলা করেছে তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও করেন তারা।
আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী ম ইনামুল হক বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ছাত্রসমাজের ন্যায্য আন্দোলন। অথচ এই আন্দোলনে হামলা করে অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। সরকারের এত এত গোয়েন্দা সংস্থা, এ ঘটনার ছবি, ভিডিও ফুটেজ আছে। সরকারের উচিৎ এদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী এগুলো চোখে দেখছেন না। তিনি এই আন্দোলনের পেছনে ১২৫ কোটি ষড়যন্ত্রের গন্ধ ‍খুঁজে পেয়েছেন।
ইনামুল হক বলেন, ছাত্রলীগ ক্রমেই অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। আজ কোদাল দিয়ে কোপানো হচ্ছে, লাঠি দিয়ে মারা হচ্ছে, হাতুড়ি পেটা করা হচ্ছে। যারাই প্রতিবাদ করতে যাচ্ছেন, যুক্তিসঙ্গত আন্দোলন করছেন তারাই পেটোয়া বাহিনীর রোষানলে পড়ছেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুরুর বাবা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা গরিব মানুষ। ছেলের লেখাপড়া করাচ্ছি জমিজমা বিক্রি করে। হামলায় আমার ছেলে গুরুতর আহত হয়েছে। এখন জমিজমা বিক্রি করে তার চিকিৎসার খরচ চালাচ্ছি।
প্রতিবাদ সমাবেশে তেল-গ্যাস বিদ্যুৎ, বন্দর ও খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকারের ভাষায় সরকার উন্নয়ন করছে। জনগণের জন্য যদি উন্নয়ন হয় তাহলে সরকারের এত ভয় কেন? কেন তাদের পেটোয়া বাহিনীর দরকার হচ্ছে? কেন আন্দোলনকারীদের ওপর এমন হামলা চালানো হলো?
আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিলেন। কিন্তু সেটির বাস্তবায়ন হলো না। এটি সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না, এটি ছিল তার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এ কারণে পরবর্তীতে আরও জটিলতা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ কামাল।

LEAVE A REPLY