কোটা সংস্কার ছাত্রদের বিষয় না। এটা সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয়’

0
34

ঢাকা প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছাত্ররা কোটা ব্যবস্থা বাতিল চেয়েছে, বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। সেটা নিয়ে এখন প্রশ্ন আনার দরকার কী?

আজ বুধবার বিকেল চারটায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মন্তব্য করেন।

কোটা প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্ররা দাবি করেছে, সেটি মেনে নেওয়া হয়েছে। এখন হা-হুতাশের কী আছে?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোটা সংস্কার ছাত্রদের বিষয় না। এটা সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয়।’

কোটা সংস্কার প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে ছেলেপেলেরা লেখাপড়া করছে বা হোস্টেলে থাকছে, তারা কি বিভিন্ন জেলা থেকে আসেনি? তারা মেধাবী, আমি জানি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্দোলনে যারা ছিল, তাদের ছবিটবি সংরক্ষণ করা আছে। তখন দেখা যাবে। ওই জেলার কারা কারা আন্দোলনে ছিল, সেটিও আমরা দেখব। তারপর যদি এসে কান্নাকাটি করে, আমাদের কিছু করার থাকবে না।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এরপর ছাত্ররা কোটা চায় না। কোটা চায় না, আমি দাবি মেনে নিয়েছি। এখানে ক্ষুব্ধ হওয়ার কিছু নেই। ঠিক আছে, ছেলেমেয়েরা দাবি করেছে, আমি মেনে নিয়েছি। সেটি নিয়ে এখন আলোচনার কী আছে বা প্রশ্ন আনার দরকার কী?’ তিনি আরও বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মান এবং অসম্মানজনক কথা বলা, এটা আমার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব না।’

কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় অনেকে এর ভেতর ঢুকে পড়ে। এ বিষয়ে কাউকে সোচ্চার হতে দেখা যায়নি। স্বাধীনতার পরপর একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাঁদের জন্য জাতির পিতা প্রতিটি ক্ষেত্রে কোটার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এটা খুবই বাস্তবসম্মত। অথচ কথা নেই, বার্তা নেই এই আন্দোলন শুরু হলো। এই আন্দোলন শুধু আন্দোলন না, রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে দিয়ে…সেখানে তিনটি হাসপাতাল। রোগী যেতে পারছে না। এমন একটি অবস্থার সৃষ্টি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে যারা পড়ালেখা করে, তারা নামকাওয়াস্তে পয়সা দিয়ে পড়ে। তাদের আমরা সম্পূর্ণ বিনা পয়সায় পড়াই। তারা যে হলে থাকে, যে টাকা দিয়ে তারা ভাড়া দেয়, খাবার পায়, ক্লাস করে—সেই টাকা দিয়ে সম্ভব? যদিও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত, তারপরও সরকারের পক্ষ থেকে খরচ চালানো হয়।’

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফর বিষয়ে দেশবাসীকে অবহিত করেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্রলীগের সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। এটা আওয়ামী লীগই শুরু করেছে। ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুবিধা, অসুবিধা দুই-ই আছে। ভোটে যদি না হয়, তাহলে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। ছাত্রদের মধ্য থেকে ভালো নেতৃত্ব খুঁজে বের করাই এখানে মূল উদ্দেশ্য। কোন পদ্ধতিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হচ্ছে, সেটি বিষয় নয়।’

LEAVE A REPLY