ক্যাপ্টেন আবিদের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আফসান

0
69

ঢাকা প্রতিনিধি: বনানী সামরিক কবরস্থানে ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আফসানা খানম টপি। আজ শুক্রবার বাদ মাগরিব তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে তার বাসভবনের সামনে তার জানাজা হয়। পরে তার লাশ নেয়া হয় বনানীর সেনা কবরস্থানে। গেল ১৯শে মার্চ এ কবরস্থানে দাফন করা হয় ক্যাপ্টেন আবিদ হাসানকে। তার মৃত্যুর দশদিন পর মারা গেলেন আফসানা খানম।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে মারা যান টপি। মৃত্যুকালে তিনি একমাত্র সন্তান তানজিব বিন সুলতান মাহিকে রেখে যান।
নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজটির পাইলট ছিলেন আবিদ। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্ত্রী আফসানা। শুরুতে তাকে জানানো হয়েছিল, আবিদ আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর শোক সামলে উঠতে পারেননি আফসানা। গেলো রোববার সকাল থেকে আফসানা মাথায় প্রচণ্ড যন্ত্রণা বোধ করছিলেন। প্রথমে তাকে উত্তরার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে শেরেবাংলা নগরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালে নেয়া হয়।
নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে আফসানার চিকিৎসা চলছিল।
চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, আফসানার মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল না। কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের মাধ্যমে তার শ্বাস-প্রশ্বাস চলছিল। ১৯শে মার্চ অবস্থার অবনতি হওয়ায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ ইউনিট থেকে আফসানাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

তানজিব বিন সুলতান মাহি (১৪) স্তব্ধ, নির্বিকার। ১০ দিনের মধ্যে সে বাবা ও মাকে হারাল। নেপালে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত পাইলট আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানম আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বাবা-মাকে হারিয়ে তাঁদের একমাত্র ছেলে মাহি ‘চুপ’ হয়ে গেছে।

গেল ১২ মার্চ নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার যে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়, তার পাইলট ছিলেন আবিদ সুলতান। এই দুর্ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন আবিদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যান।

LEAVE A REPLY