খালেদা জিয়া কখন, কবে মুক্তি পাবেন ?

0
27

দৈনিক আলাপ ডেস্ক:  জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চারমাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন আদালত। এখন নতুন করে অন্য কোনো মামলায় গ্রেফতার না দেখানে খালেদা জিয়ার কারা মুক্তিতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন খালেদার আইনজীবীরা।

 

জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘আরও আনুষ্ঠানিকতা বাকি আছে। বেইলবন্ড বানাতে হবে, সেটি জেলখানায় পৌঁছাতে হবে। আপনারা আশা করতে পারেন আগামীকাল তিনি মুক্তি পাবেন।’

জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার দুপুরে শুনানি হয়। তবে চেম্বার আদালত বেগম জিয়ার জামিন স্থগিত করেনি।

আর আগামীকাল বুধবার এ বিষয়ে আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

 

বিএনপির সূত্র জানায়, নতুন করে শ্যোন অ্যারেস্ট না দেখালে বেগম জিয়ার মুক্তিতে কোনও বাধা নেই। আদালতের জামিন আদেশের পর শ্যোন অ্যারেস্টের মতো কোনও ঘটনার আশঙ্কাও করছেন না তারা।

কুমিল্লায় নাশকতার মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোস্তাইন বিল্লাহ এ আদেশ দেন।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘সরকার যদি জামিনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করে, তাহলে আগামীকালই বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বের হতে পারবেন।’

 

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়ার) জামিন হওয়ায় আমরা খুশি। তবে আজ তার মুক্তির সম্ভাবনা নেই। জামিন পাওয়ার পর কিছু প্রক্রিয়া আছে। যা সম্পন্ন করতে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে। আজ আদালতের সময় শেষ হওয়ায় সে প্রক্রিয়াগুলো কাল সম্পন্ন হবে।

এদিকে খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, জামিনের অর্ডার জেলখানায় পৌঁছালে তিনি (খালেদা জিয়া) মুক্তি পাবেন। তবে রায়ে কী ধরনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে সে বিষয়ে আমি পরিষ্কার না।

তিনি বলেন, আদালত আদেশে কী উল্লেখ করেছেন তার উপর নির্ভর করবে খালেদা জিয়া কখন মুক্তি পাবেন। যদি শর্ট অর্ডারে মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে রায়ে কোনো নির্দেশনা থাকে তাহলে শর্ট অর্ডার জেলে পৌঁছালে উনি মুক্তি পাবেন।

আরো কোনো মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এটা আমার জানা নেই। তবে এবার আবারো প্রমাণিত হলো দেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন। জামিনের মাধ্যমে প্রমাণ হলো সরকার আদালতের উপর হস্তক্ষেপ করে না।

এর আগে আজ (সোমবার) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

বিদেশ থেকে আসা এতিমদের টাকা আত্মসাতের মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পঞ্চম বিশেষ আদালত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। ওই দিনই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। রায়ে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া রায়ে আসামিদের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা জরিমানা করা হয়।

এরপর খালেদা জিয়ার করা আপিল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট গত ২২ ফেব্রুয়ারি আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন এবং জরিমানা স্থগিত করেন। এরপর জামিন আবেদন করা হলে ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একই বেঞ্চ বিচারিক আদালতের মামলার যাবতীয় নথি তলব করেন। আদেশে ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে নথি পাঠাতে বলা হয়। হাইকোর্টের বেধে দেওয়া সেই ১৫ দিনের শেষ দিন ছিল রোববার। এদিন দুপুরে মামলার নথি ঢাকার পঞ্চম বিশেষ আদালত থেকে হাইকোর্টে আসে।

LEAVE A REPLY