ঘুষের মামলায় কোম্পানীগঞ্জের ওসি জেলে

0
20

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক:‌ হত্যা মামলা নিতে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের মামলায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আলতাফ হোসেনকে গতকাল মঙ্গলবার কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থানায় ওসি হিসেবে কর্মরত থাকার সময় পুলিশ পরিদর্শক আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ২০ জুলাই সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের ছিন্নি খাইয়ারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইস্কান্দার মির্জার স্ত্রী জমিলা আকতার ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের মামলাটি দায়ের করেন। কুতুবদিয়া উপজেলা তহশিল অফিসের এমএলএসএস ফরিদুল আলম নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে থানায় মামলা দায়েরের ঘটনা নিয়ে ঘুষের মামলাটির উদ্ভব হয়।

জমিলা আকতারের অভিযোগ, ২০১৪ সালের ১৯ জুন নিজ ঘরে ফরিদুল আলমের লাশ পাওয়া যায়। ভিকটিম ফরিদুল আলম সম্পর্কে তাঁর ভাশুর। এদিন রাতে জমিলা তাঁর শাশুড়িকে নিয়ে থানায় যান হত্যা মামলা দায়ের করতে। তখন থানার ওসি আলতাফ হোসেন ও উপপুলিশ পরিদর্শক এ বি এম কামাল উদ্দিন তাঁদের কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এমনকি নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে মামলা রুজুর আশ্বাসও দেন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের পারিবারিক প্রতিপক্ষের কাছ থেকে আরো বেশি অঙ্কের টাকা ঘুষ নিয়ে উল্টো অভিযোগকারীদের আসামি করে মামলা গ্রহণ করা হয়। এমন অভিযোগ এনে আদালতে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়ের করা নালিশি মামলাটি তদন্তের জন্য কক্সবাজারের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত দুর্নীতি দমন (দুদক) কমিশনে পাঠান। দুদক কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি সরেজমিন তদন্ত করে সাক্ষ্য-প্রমাণ নিয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে আদালতকে অবহিত করে। এরপর কক্সবাজারের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা দুজনকে সমন দেন আদালতে হাজির হতে।

কুতুবদিয়া থানার সাবেক ওসি ও বর্তমানে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আলতাফ হোসেন গতকাল কক্সবাজারের আদালতে জামিনের প্রার্থনা জানিয়ে হাজির হন। বিচারক মীর শফিকুল আলম ওসি আলতাফ হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়ে আগামী ২৬ জুন জামিনের আবেদন শুনানির দিন ধার্য করেন। অন্য আসামি উপপরিদর্শক এ বি এম কামাল উদ্দিন পলাতক রয়েছেন।

LEAVE A REPLY