চট্টগ্রাম আলমডাঙ্গা ও কুমিল্লায় বন্দুকযুদ্ধে ৪ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

0
39

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক:‌ চট্টগ্রাম, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা ও কুমিল্লা সদর উপজেলার বিবিরবাজার সীমান্তে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে চার মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ সময় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও মাদক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিনিধি পাঠানো খবর-

চট্টগ্রাম : মহানগরীর বায়জিদ এলাকায় র‌্যাবের র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শুক্কুর আলী(৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে বায়জিদ থানাধীন ডেবারপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র-গুলি ও মাদক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, বায়জিদ থানাধীন ডেবারপাড় এলাকায় মাদকের একটি বড় চালান আসছে এমন খবর পেয়ে র‌্যাব-৭ একটি দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় র‌্যাব সদস্যরা মাদক ব্যবসায়ীদের থামার সংকেত দিলে তারা গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষায় র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। গুলিতে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শুক্কুর আলী গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বিরুদ্ধে ১০টি মাদকের মামলা রয়েছে।

আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কামরুজ্জামান সাধু নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রেলস্টেশন সংলগ্ন রেল ফোকটের কাছে ওই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

এ সময় পুলিশ একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড তাজা গুলি ও ২০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করেছে। কামরুজ্জামান সাধু হারদী খানপাড়ার মৃত এমদাদৃল হক খানের ছেলে। তিনি গত সপ্তাহে মাদক মামলায় জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে আসেন। তার বিরুদ্ধে ৮টি মাদকের মামলা রয়েছে।

থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইত্তেফাককে জানান, তারা সংবাদ পান হারদী গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী তার লোকজন নিয়ে ফেন্সিডিলের একটি বড় চালানসহ আলমডাঙ্গা এলাকা পার হবে। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশের একটি টিম আগে থেকেই রেলস্টেশন এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত দেড়টার দিকে সাধু কয়েকজনকে নিয়ে রেল ফোকট পার হয়ে হারদী গ্রামের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের গতিরোধ করে। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে পালাতে গেলে গুলিতে কামরুজ্জামান সাধু নিহত হন। কিছুদিন আগে সাধুর স্ত্রী মাদক মামলায় জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে এসেছে।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শরীফ ও পিয়ার নামে তালিকাভুক্ত শীর্ষ দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে জেলা সদরের অদূরে বিবিরবাজার অরণ্যপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি রিভলবার, একটি পাজারো জিপ, ৫০ কেজি গাঁজা এবং ৫০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানকালে কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রূপকুমারসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

​নিহতদের মধ্যে মো. শরীফ জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার মহেষপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ৫টি মাদক মামলা রয়েছে। অপর নিহত পিয়ার আলী আদর্শ সদর উপজেলার শুভপুর গ্রামের আলী মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে ১৩টি মাদকের মামলা রয়েছে।

কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, সীমান্ত এলাকা থেকে মাদকের একটি বড় চালান আসছে গোপন সূত্রে এমন খবর পেয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমনের নেতৃত্বে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিম ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত পৌনে ১টার দিকে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। গুলিতে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শরীফ (২৬), পিয়ার আলী (২৮) ও সেলিম গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার মাদক ব্যবসায়ী শরীফ ও পিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

LEAVE A REPLY