জমি অধিগ্রহণের দাবিতে পাবনা সুগার মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা ফুসে উঠেছে

0
368

সেলিম আহমেদ ঈশ্বরদী থেকে ॥ উত্তরাঞ্চলের রাষ্ট্রায়াত্ত্ব ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান পাবনা সুগার মিলের সামনে মহাসড়ক সংলগ্ন জমি অন্য একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের দখলে চলে যাওয়ায় সুগার মিল কর্তৃপক্ষ এবং আখচাষীরা মিলের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছেন। মিলজোন এলাকা এবং মিলের সীমানা প্রাচীরের পূর্বাংশে নিটল-টাটা গ্রুপ স্থাপনা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করে এসব জমি করায়ত্ব করার ঘটনায় মিলের পক্ষে জমি অধিগ্রহণের দাবিতে পাবনা সুগার মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা ফুসে উঠেছে। টাটার নির্মাণাধিন ওয়ার্কসপ বন্ধের প্রতিবাদে ও জমি অধিগ্রহণের দাবিতে পাবনা সুগার মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে সুগার মিল গেটের সামনে মানব-বন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, অবস্থান ঘর্মঘট ও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
পাবনা সুগার মিলের ওয়াকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, মিলের সীমানা প্রাচির থেকে পূর্বাংশে আখের জমি নষ্ট করে কৃষি জমিতে ইতোমধ্যে নিটল-টাটা গ্রুপ স্থাপনা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ফলশ্রুতিতে পাবনা চিনিকল লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরে বিরুপ প্রভাব পড়বে। নিটল-টাটা গ্রুপের স্থাপনা অন্যত্র সরিয়ে সেই জমি চিনিকলের অনুকুলে অধিগ্রহণ করার দাবি তুলে বলেন সুগার মিল বাঁচাতে নির্মানাধিন স্থাপনা অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে।
পাবনা সুগার মিলের ওয়াকার্স ইউনিয়নের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন বলেন, বর্তমানে এই মিলে মোট ৬০ একর জমি রয়েছে। যার মধ্যে ১৫ একর লেগুন ও রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া অবশিষ্ট ৪৫ একর জমিতে আবাসিক স্থাপনাসহ অন্যান্য স্থাপনা রয়েছে। অলাভজনক এই মিলে বহুমুখী উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য পাবনা সুগার মিলের আরও জমির প্রয়োজন রয়েছে। মিলের সামনে উত্তর পার্শ্বের মহাসড়ক পর্যন্ত প্রায় ২৭.৪৮ একর জমি রয়েছে। এই জমি ব্যক্তিমালিকানাধিন। প্রতি বছর এই জমিতে আখ উৎপাদিত হয়। ওই আখ মিলে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু স্থানীয় কিছু দালাল জমির মালিকদের ফুসলিয়ে কৃষি জমি নিটল-টাটা গ্রুপের কাছে বিক্রি করিয়ে দিচ্ছে। এই জমি অধিগ্রহণ করে উল্লেখিত বহুমুখী উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য মিলের কর্মরত কর্মকর্তা এবং শ্রমিকেরা দির্ঘ দিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন।
নিটল-টাটা গ্রুপের ঈশ্বরদীতে কর্মরত প্রকল্প পরিচালক আবদুল মান্নান জানান, সকল নিয়ম মেনেই পাবনা সুগার মিলের সামনের ২৬ বিঘা জমি কেনা হয়েছে। সেখানে ভারত থেকে আমদানী করা নিটল-টাটা গ্রুপের উত্তরাঞ্চলের প্রধান ওয়্যারহাউস নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজের ৫০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এই ওয়্যারহাউস থেকে উত্তরাঞ্চলের গাড়ির চেচিস সরবরাহ করা হবে। দুই মাস আগে থেকে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। এর অনেক আগে জমি কেনা হয়েছে। সুগার মিল কোন আপত্তি জানায়নি। তখন জানালে ওই জমি ছেড়ে অন্য কোথায় জমি কেনা যেতো। কিন্তু হঠাৎ করে নির্মানাধিন স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার দাবি তুলেছেন যা যুক্তি সংগত নয়।
পাবনা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, পাবনা সুগার মিলে প্রতিদিন ১৫০০ মেট্রিকটন আখ মাড়াই করে বার্ষিক ১৫০০০ মেট্রিকটন চিনি উৎপাদন করার ক্ষমতা রয়েছে। মিলটির কোন পরীক্ষামূলক খামার না থাকায় আখের উন্নত জাতের বীজ উৎপাদন ও চাষীদের মাঝে সরবরাহ করতে না পারায় চাষীরা আখচাষে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েছেন। ফলে চাষীরা মিলটিতে চাহিদা অনুযায়ি আখ সরবরাহ করতে পারছেন না। এছাড়া মিলটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে বহুমুখী উৎপাদনের ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি রয়েছে। পর্যাপ্ত জমি না থাকায় মিলের জুস প্লান্ট, মিনারেল ওয়াটার, কো-জেনারেশন প্লান্ট, রিফাইন্ড সুগার, বায়োগ্যাস ও বায়োফার্টিলাইজার প্লান্ট ইত্যাদি প্রকল্প স্থাপন করে উৎপাদন বহুমুখীকরণ সম্ভব হচ্ছেনা। মিলের সামনের জমি অধিগ্রহণের কথা ভাবনায় রয়েছে। এমতাবস্থায় টাটা গ্রুপ পাশের জমি ক্রয় করে আমাদের না জানিয়ে মিলের পাঁচফিট জায়গা দখল করে সেখানে সীমানা প্রাচির নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন। শিল্পমন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আবুল কাশেম স্যার টাটার নির্মাণাধিন ওয়ার্কসপ পরিদর্শনের সময় সীমানা প্রাচিরের কাজ বন্ধ রাখার কথা বলেছেন।

LEAVE A REPLY