তারুণ্যের গল্পকার ও কবি প্রেমা চক্রবর্তী এর সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মী অসাধারণ গল্প “ পূর্ণতা-শূন্যতা”

0
208

পূর্ণতা-শূন্যতা

                 প্রেমা চক্রবর্তী

——+++++—-
গাড়িটা জেলের সামনে দাঁড়াতেই প্রান্ত ছুটে গিয়ে তার বাবা-মা কে জড়িয়ে ধরল।কান্নাভেজা চোখে সই-সাবুদ সেরে প্রান্তকে নিয়ে বাড়ি ফিরল বাবা-মা।ঘরের ছেলে আজ ঘরে ফিরছে।পাঁচবছর পর অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলায় দোষীসাব্যস্ত প্রান্ত আজ মুক্তি পেল।

প্রান্ত তখন ক্লাস এইট এ পড়ে।ওর বাবা মূক ও বধির হওয়ায় অনেকে ব্যঙ্গ করতো।প্রান্ত অনেকবার বারণ করেছে।ওরা শোনেনি।একদিন নিলয় নামের একটি ছেলে টিফিন টাইমে ওর বাবা কে নকল করছিল।প্রান্ত বারণ করলেও সে শোনেনি,
শেষে প্রান্ত রেগে গিয়ে ওকে লক্ষ্য করে একটা ইঁট ছোঁড়ে আর সেটা নিলয়ের মাথায় লাগে।হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
প্রান্ত ভয় পেয়ে দৌড়ে বাড়ি ফিরে মাকে সব বলে দেয়।ওর মা ওকে বাঁচানোর জন্য তড়িঘড়ি করে ওকে ঝালকাঠি মাসিবাড়ি পাঠিয়ে দেয়।তিনদিন পর পুলিশ ওখান থেকেই প্রান্তকে গ্রেফতার করল ও অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করল।বিচারে ওর পাঁচবছর কারাবাস হয়।

ওখানে থাকতেই প্রান্ত উচ্চমাধ্যমিক পাশ করল।বাড়িতে ফেরার পর ভর্তি হল কলেজে।কলেজেই ও প্রেমে পড়ল শাহীনের।

তখন ওদের প্রেমের বয়স দু-বছর।শাহীনের বাড়িতে বিয়ের কথা উঠল।শাহীন প্রান্তকে সব বলায় প্রান্ত চিন্তিত হয়ে পড়ে।
ও মাকে শাহীনের বিষয়ে সব বলে ফেলল।ওর মা সব শুনে বলল
-,”ওই মেয়েকে ভুলে যা বাবা,নইলে যে তোকে আমাদেরকে ভুলতে হবে।”

প্রান্ত কাঁদো কাঁদো মুখে বলল,”মা যেদিন নিলয় কে খুন করেছিলাম,সেদিন তো আমায় ভুলে যাওনি?-তোমরা খুনি ছেলে কে বাঁচাতে চেয়েছিলে।
আজ প্রেমিক ছেলে কে ভুলে যেতে বলছ?!!”
প্রান্ত এর মা সাথে সাথেই উত্তর দিল,”মেয়েটা আমাদের ধর্মের না ।ওটাই কারণ।
-এর বাইরে কিছু ভাবলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যা।”

– প্রান্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,”মা তোমরা সাম্প্রদায়িকতা ভালবেসেই থাকো ,আমি শাহীনের ভালবাসা মিথ্যে হতে দিতে পারিনা।”
বলেই বাবা-মাকে প্রণাম করে প্রান্ত বেরিয়ে গেল।ওর বাবা-মা শূন্যচোখে খোলা দরজার দিকে তাকিয়ে রইল……….
(প্রেমা চক্রবর্তী)

LEAVE A REPLY