তারুণ্যের লেখক কবি, শ্যামা চক্রবর্তী এর ভিন্ন মাত্রার জীবন ছোঁয়া গল্প ‘’ সেদিন রাত ছিল পূর্ণিমা ’’

0
117
লেখক কবি, শ্যামা চক্রবর্তী

সেদিন রাত ছিল পূর্ণিমা

          ————————————-
                                           শ্যামা চক্রবর্তী

অনেকক্ষণ ধরে দেখছি আপনি পিছু নিয়েছেন আমার! সেই বাস থেকে নামার পড় থেকে,, আপনার সমস্যা কি দারোয়ান কে ডাকবো! সরি ম্যাডাম! আপনার বুঝতে কোথাও ভুল হচ্ছে,,
–জ্বী না আমার কোনো ভুল হচ্ছে না আপনি অভদ্র তাই পিছু নিয়েছেন আমার । –কি? আমি অভদ্র, জঙ্গলি একটা মেয়ে আপনার মতো মেয়ের পিছু নিতে আমার বয়ে গেছে। দারোয়ান আপনাকে এ ডাকতে হবে না আমি ডাকছি……
–সাইফুল এই সাইফুল এই দিকে আস তাড়াতাড়ি।
— সাইফুল আসতে আসতে বলছিল কে কে?
— তুই গেটের সামনে না দাঁড়িয়ে কোথাই গিয়েছিস?
–ও আইচ্ছা আপনি ভাইয়া! খালাম্মা কাছে গিয়েছিলাম কি হইছে ভাইয়া?
—কোথাকার কে গেট দিয়ে ঢুকে যাচ্ছে বাসাই। তোকে রাখা না রাখা একি হয়ে গেলো দেখছি!
–ভাইয়া উনি তো নতুন ভাড়াটিয়া উপরের ফ্ল্যাটে কালকে থেকে এসেছে।
–আপন একটু আড়চোখে মুখ বেঁকিয়ে দেখে বলল। ও আচ্ছা তাই!
–ইমা চোখ ঘুরিয়ে হাত দিয়ে এলো চুল গুলো সরিয়ে গেট থেকে সরে চলে গেলো আর বলল হুম তাই!
–আপন মুখের ভিতর ছোট ছোট করে বলল পাগলী একটা মেয়ে!
–ভাইয়া কিছু বলছেন আমাকে?
–না ইডিয়েট আমার সামনে থেকে দূর হো এখন।
ইমা দের ফ্ল্যাট টা ছিল ছাদের উপর সামনে
খালি জায়গা ছিল সেখানে আপনের ছোট একটা ফুলের বাগান আর কবুতরের বাসা ছিলো এবং একটা দোলনা ছিল !
পরেরদিন সক্কালবেলা :ইমা দোলনাই বসে গল্পের বই পড়ছিল, এমন সময় আপন ও দারোয়ান ছাদের উপর আসলো, দারোয়ানের দুহাতে ছিলো আগাছা পরিষ্কার করার যন্ত্রপাতি আর এক বালতি জল! আপন ইমা কে দেখতে পেয়ে বলল।
–সাইফুল তুই এসব রেখে চলে যা,, কিছুক্ষণ পর আসিস!
–আইচ্ছা ভাইয়া মুই তাইল্লে যাইড়
–হুম ঠিক আছে তুই যা! সাইফুল সেখান থেকে চলে গেলো।
–আপন মনে মনে বলল এখন এখানে কেউ নেই মেয়েটাকে উদ্দেশ্য করে কথা বলে একটু জ্বালাই! গাছের আগাছা পরিষ্কার করতে করতে বলছিল আপন,উফফ যেখানে ভুতের ভয় সেখানে সন্ধে হয়, আজকের দিনটা কেমন যাবে ঈশ্বর জানে,, এমন একটা মুখ দেখেছি মানে নির্ঘাত আজ সারাদিন খারাপ যাবেই এই যাবে!যা তা একটা মেয়ে ভদ্রতা জানে না ।
–ইমা কথা গুলো শুনে রেগে গেলো,, দাঁড়ান আপনার মজা আমি দেখাচ্ছি। ইমা বইটা রেখে দোলনা থেকে উঠে, চোখ দুইটা বড় বড় করে আপনের পিছনে গিয়ে এক বালতি জল গুলো নিয়ে আপনের মাথার উপর ঢেলে দিলো!
–ইমা তারপর হেটে চলে যাচ্ছিল।
–আপন হাত দিয়ে মুখ থেকে জল মুছতে মুছতে বলছিল, দেখে নেবো তোমাকে। এরকম ভাড়াটিয়া আমার দরকার নেই, বাসা ছাড়া করবো দেখে নিও তুমি!
–ইমা পিছন ফিরে জিব্বা বের করে দেখিয়ে মুখে বেঙ্গমা করে সেখান থেকে চলে গিয়ে নিজে দের ফ্ল্যাটের দরজাটা বন্ধ করে দিলো!
–সাইফুল সেই সময় আসলো,, কিন্তু সে কিছুই দেখেনি! কি হয়েছে ভাইয়া ছাদে গোসল কেনো করলেন?বেশি গরম লার নাকি আরেক বালতি পানি আনবো ভাইয়া?
–আরেক বালতি জল এনে তুর মাথাই ঢেলে দে! বদমাইশ.. আপন দোলনাই বইটা দেখতে পেলো! সাইফুল বইটা নে। এই মেয়ে কে দেখাবো মজা আমি, আমার বাড়িতে থেকে আমাকে অপমান!
–ভাইয়া কি হয়েছে?
–তোর মুণ্ডু হয়েছে, চল এখান থেকে!
প্রত্যেকদিন যেকোনো ভাবে দেখা হয়ে যেতো দুজনের,, কেউ কাউকে সহ্য করতে পারতো না! তাদের ঝগড়া টা দিনদিন বাড়তে লাগলো,, পরিচয় থেকে ঝগড়া! এখন দেখি কিভাবে হবে দুজনের প্রেমে পড়ে ভালোবাসা….
আপন একদিন অফিস ছুটি হওয়ার পর রাস্তাই দিয়ে হেঁটে আসছিল ,
রাস্তার একপাশে কিছু মানুষের ভিড় দেখতে পেলো,, আপন প্রথমে পাত্তা না দিয়ে সেদিক দিয়ে হেঁটে চলে যেতে লাগলো, আবার মনেমনে কেমন জানি হলো সে আবার ফিরে সেখানে গেলো? ভিড় মধ্যে একজন বলল ইস মেয়েটা কে জানে এক্সিডেন্ট হয়ে পড়ে আছে,,,আপন ভিড় সরিয়ে সামনে গেলো! দেখে সে অবাক সেই মেয়েটি,, রক্ত পড়ছে মাথা থেকে,, আপন আর দেড়ি করলো না ইমা কে কোলে তুলে নিলো,,আমাকে প্লিজ কেউ একটা গাড়ি ঠিক করে দিয়ে দেন মেয়েটাকে আমি চিনি ওকে বাঁচাতে হবে !আপন ইমাকে মেডিকেলে ভর্তি করলো!আপন ইমার পরিবারের লোকদের খবর দিয়ে আনালো!
আপন সেখান থেকে চলে আসলো বাসাই!
ইমা কিছুদিন পর সুস্থ হয়ে বাসাই ফিরলো,,
সেদিন ছিল পূর্ণিমারাত জ্যোৎস্না আলো দাঁড়িয়ে উপভোগ করছিল আপন,, পিছন থেকে ইমা এসে বলল…..
—কি বলে ধন্যবাদ জানাবো জানি না,, আমার আম্মার কাছে সব শুনেছি,, আপনি যদি না থাকতেন আমি বাঁচতে পারতাম না!
–ইমা তুমি কেমন আছো? তোমার খবর আমি সাইফুল থেকে নি প্রতিদিন, , কি বলো না তুমি,এমন ক্ষমতা আমার নেই কাউকে বাঁচানোর মতো, তোমাকে আমি বাঁচাই নি তোমাকে ঈশ্বর বাঁচিয়েছে!
—আমি এখন খুব ভালো আছি,, আপনার সাথে আমি অনেক খারাপ ব্যবহার করেছি আমি সবকিছু জন্য ক্ষমা চাচ্ছি আমাকে প্লিজ মাফ করেদিন,,
–আরে পাগলী আমি ও কি কম দুষ্টুমি করেছি তোমার সাথে,, ক্ষমা টমা আমি করতে জানি না, কিন্তু বন্ধুত্ব করতে জানি,, কিছু মনে না করলে আমি কি তোমার বন্ধু হতে পারি??
–হুম অব্যশই,, আজ থেকে আমরা ভালো বন্ধু!
–মিষ্টি একটা মেয়ের বন্ধুত্ব পেয়ে আমার খুশিতে চাঁদ ও হাসছে….
এভাবে তাদের ঝগড়াবিবাদ সব বন্ধুত্বের আড়ালে হারিয়ে গেলো,,,,,দুজন দুজন ভালোবাসতে শুরু করলো,, সময় আসলো দুজন দুজনের মনের কথা বলার!
চৌদ্দ ফেব্রুয়ারি দিনটি ছিল ভালোবাসা দিবস! এই প্রিয় বন্ধু আমার,, আমি এসেছি! ইমার হাতটা ধরলো আপন,,একটা জিনিস এনেছি তোমার জন্য এদিকে আসো সদ্য ফোটা একটা গোলাপের চারা গাছ এনেছিল ইমার জন্য আপন, টপের মাটিতে রোপণ করলো আপন, বুঝলে প্রিয় এই গাছে প্রতিদিন যতগুলো গোলাপ ফুঁটবে সেই গোলাপ সব তোমার জন্য হয়ে ফুঁটবে। তোমাকে অনেক ভালোবাসি তোমাকে অনেক ভালোবাসি আমি,, কিন্তু সব শুনার পর ইমা কিছু না বলে কষিয়ে আপনের দুই গালে দুইটা থাপ্পড় দিলো ! তারপর সে চলে গেলো,, আপন হা হয়ে থাকলো মুখে কোন শব্দ নেই……………..
আপনের মনটা ভেঙ্গে গেলো,, ভালোবাসা মিথ্যা হয়ে যেতে শুরু করলো! এই গঠনার পড় থেকে ইমা সাথে আপনের দেখা হয়নি!
আপন ঠিক করলো ও অনেক দূরে চলে যাবে অনেক দূরে,, ওর মনের কষ্টকে মুক্তি দিতে! সব কিছু প্রস্তুত আজকের ফ্লাইটে সে
আমেরিকা চলে যাবে। এদিকে ইমা চিন্তাই আপন কোথাই, অনেক দিন আপনের সাথে দেখা হয়নি ইমার। ইমা এতদিন দেশের বাড়িতে গিয়েছিল অসুস্থ দাদীমা কে দেখার জন্য,, ইমা সেদিন তার বোনকে নিয়ে ছাদে আসলো,, গোলাপ গাছটা খেয়াল করলো ইমা,, উমা এদিকে দেখ কতগুলো গোলাপ ফুঁটেছে এই গাছটাতে কি সুন্দর লাগছে! সুন্দর না ছাই জানিস যে গাছটা লাগিয়েছে সে ছেলেটা না খুব অসভ্য এবং বেয়াদব!
–কি বলছিস এসব?
–হুম ঠিক বলছি,, হয়তো সেদিন ভালোবাসা দিবস ছিল ছেলেটা আমার হাত ধরে বলল,, আমাকে নাকি সে ভালোবাসে!
–তারপর তুই কি করিছিস উমা?
–আমি আর কি করবো দুইটা থাপ্পড় মেড়ে চলে এসেছি!
–ও মাই গড,, তুই সব কিছু শেষ করে দিয়েছিস উমা,, ও তোকে আমি মনে করেছিল!
–কি বলিস এসব?
–খুব দেড়ি হয়ে গেছে চল আমার সাথে!
সাইফুল কাছে গেলো ইমা আর উমা আপনের খুঁজ নিতে,,আপন কোথাই সাইফুল ভাই?
— হায়রে ম্যাডাম আপনাকে খুজছি ভাইয়া তো আজকে ছয়টার ফ্লাইটে আমেরিকা যাচ্ছে,, কিছুক্ষণ হয়েছে বের হয়ে গেছে,, আপনার জন্য একটা চিঠি আমাকে দিয়ে গেছে এই নিন চিঠিটা,,
— ইমা চিঠিটা পড়লো,, পড়ে বলল সাইফুল ভাই, উমা চল তাড়াতাড়ি ওর কাছে আমাদের যেতে হবে!
আর হাতে বেশি সময় নেই,, ড্রাইভার সাহেব একটু তাড়াতাড়ি গাড়িটা চালান,, শেষ পর্যন্ত এসে পৌছলো এয়ারপোর্ট এ
–চারিদিকে খুঁজাখুঁজি করলো সাইফুল, ইমা, উমা মিলে কিন্তু নেই!
ইমা হতাশ হয়ে গেলো,, ইমা কান্না করছিল খুব!
–পাশের সীটে হঠাৎ কেউ যেন বলে উঠলো থাপ্পড় মাড়লো উমা কান্না করছে ইমা,, কেমন পাগলী মেয়ে!
–ইমা আপন কে দেখে তুমি ফিরে এসেছো,,তুমি আমাকে ফেলে চলে যেতে চেয়েছো! আমার ভালোবাসাকে একাকী রেখে,,
— হুম একটু হলে তো চলেই যেতাম, কপাল ভালো তোমার যমজ বোন উমা আর সাইফুল আমাকে খুঁজে বের করে সব বলল…………….
তুমি কি সত্যি ভালোবাসো আমাকে? ভালোবাসলে এত কান্না করছো কেনো,, চোখ মুছে দিলো আপন ইমার,, তোমাকে খুব খুব ভালোবাসি আমি,,
— আমি ও তোমাকে অনেক ভালোবাসি আপন!
— সাইফুল বলে উঠলো ভাইয়া তাহলে মনে মনে এই চলছিল আপনার,, খালাম্মারে বলতে হবে গিয়া বিয়াটা এবার সাইড়া নিতে। মিয়া বিবি রাজি এবার শুধু আসবে কাজি…হা হা হা হা হা হা!
লেখকের কথা: আমি শ্যামা চক্রবর্তী।চট্টগ্রামে থাকি ।ইসলামীয়া কলেজে বি.এস.এস পড়ালেখা করছি ।কবিতা ও ছড়া, গল্প লিখে থাকি ।তবে কবিতা আমার প্রথম ভালবাসা .

LEAVE A REPLY