দেশে ইয়াবা কারখানা আবিস্কৃত, ইয়াবার থাবায় আক্রান্ত তরুণ-তরুণীরা

0
218

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক:‌ দেশের অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে বস্তি, সকল স্থানেই স্টাডি সার্কেলের মতো গড়ে উঠেছে ইয়াবা সার্কেল। সকলেই যেন বুদ হয়ে আছে বর্ণহীন এই ধোঁয়ার জগতে। কিন্তু তাদের কাছে ধোঁয়ায় মাঝেই যেন রয়েছে এক স্বর্গীয় সুধা। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ শিক্ষার্থী, বহুজাতিক কোম্পানির কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, শিল্পী, মডেল, অভিনেতা, শিক্ষক-শিক্ষিকা, উচ্চবিত্ত শ্রেণীর গণ্ডি পেরিয়ে তবে এখন এটি ছড়িয়ে পড়েছে সর্বস্তরে, সারাদেশে।

কিন্তু কেন এবং কিভাবে শুরু হয় একজন মানুষের অন্ধকার জীবনের পথচলা! সেই কাহিনীই আমরা শুনবো কয়েকজনের মুখে। শুনলেন তাদের কথা। এখন আমরা দেখতে চাই ইয়াবা আশক্ত এ মানুষগুলোর জীবনের ভয়াবহ পরিণতি। তবে তার আগে একটু পিছন ফিরে দেখতে চাই। কিভাবে এ “ইয়াবা থাবা” বিস্তার করেছে তার জাল সে বিষয়টি একটু দেখে আসি।
২০০৬ সালে গুলশান এলাকা থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের মাধ্যমে আলোচনায় আসে সবচেয়ে আধুনিক সময়ের এ মাদক।

লাগেজ পার্টির মাধ্যমে ৯০ এর দশকের শুরুর দিকে বাংলাদেশে ইয়াবার প্রবেশ। আগে পাকিস্তান ও দুবাই থেকে ব্যাংকক হয়ে ইয়াবা আসতো। প্রতিটি ইয়াবার দাম পড়তো ৩ হাজার টাকা। এখন মিয়ানমারেই ইয়াবা তৈরি হচ্ছে। তাই দামও কমে গেছে। টেকনাফ ও কক্সবাজার হয়ে আসছে চট্টগ্রামে। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের মিরসরাই পর্যন্ত দীর্ঘ ২০০ কিলোমিটারের উপকূলীয় এলাকার কারণে খুব সহজে ইয়াবার চালান দেশে ঢুকছে। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে উত্তর চট্টগ্রামের মিরসরাই পর্যন্ত অন্তত ৬০টি পয়েন্টে নাকি খালাস হয় এ মাদক চোরাচালান পণ্য।

বর্তমানে প্রতিটি ট্যাবলেট কিনতে খরচ হয় মিয়ানমারের মুদ্রায় ২০০ কিয়াট বা ১৩ টাকা ৩৩ পয়সা। বিভিন্ন মাধ্যম পেরিয়ে ঢাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা ইয়াবা নিয়ে যায়। আর খুচরা পর্যায়ে এর মূল্য দাঁড়ায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়।

কিন্তু ভয়াবহ এক তথ্য হচ্ছে বাংলাদেশেও নাকি গড়ে উঠেছে ইয়াবা কারখানা। সম্প্রতি কক্সবাজারে আটক হওয়া ইয়াবা তৈরির মেশিন উপকরণ ও সরঞ্জাম সে তথ্যই দিচ্ছে আমাদের।
আর সম্প্রতি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকটের কারণে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সঙ্গে দেশে ঢুকছে ইয়াবার চালানও। সচেতন মহলের অভিযোগ, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে কিছু আটকের ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ চালানই ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

এখন ফিরে আসি বর্তমানে। সর্বনাশা ‘ইয়াবার থাবা’ সর্বশান্ত করে দিয়েছে তাদের ক্যারিয়ার ও জীবনকে। নিজের জীবনটিই তাদের কাছে যেন এক নরক যন্ত্রণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এভাবে আর চলতে দেয়া যায় না। সময় এসেছে ঘুরে দাঁড়ানোর। ইয়াবার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার। ইয়াবা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও রয়েছে সক্রিয়। আর ইয়াবাআশক্ত মানুষগুলোরও করজোড়ে মিনতি, তাদের মতো ভুল যেন আর কেউ না করে। পা না বাড়ায় এ অন্ধকার জগতে।

এই ইয়াবার কারণেই কিন্তু ১৭ বছর বয়সী ঐশীর হাতে খুন হতে হয় তার বাবা-মাকে, আর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এ ধরণের ঘটনা। এভাবে আর চলতে দেয়া যায় না, এখনই সময় সচেতন হওয়ার। পরিবার, সমাজ যে যার স্থান থেকে রুখে দাঁড়াতে হবে এই মরণ নেশা ইয়াবার বিরুদ্ধে।

LEAVE A REPLY