পরীক্ষার পর বোঝা যাবে খালেদার কী হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0
29

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক:‌ কারাবন্দি খালেদা জিয়ার ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হয়ে থাকতে পারে বলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা আশঙ্কা প্রকাশের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরই বোঝা যাবে তার কী হয়েছে।

তিনি বলেছেন, কারা কর্তৃপক্ষের চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। ‘স্ট্রোকের’ কথা তারা বলছেন না।

বৃহস্পতিবার বিকালে কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করেন তার ব্যক্তিগত চার চিকিৎসক।

ঘণ্টা দেড়েক পর বেরিয়ে মেডিসিনের অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, “গত ৫ জুন দুপুর বেলা হঠাৎ করে দাঁড়ানো অবস্থা থেকে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি (খালেদা) এবং ৫/৭ মিনিট আনকনসাস ছিলেন। উনি মনেই করতে পারছেন না, কী ঘটেছিল। তাকে, তার এটেনডেন্ট যে মেয়ে ছিল, তারা অনেক কষ্ট করে বসিয়েছে।

“এখন আমরা চেক করে যেটা দেখেছি, এটাকে বলে টিআইএ (ট্রানজিয়েন্ট ইশ্চেমিক অ্যাটাক)। একটা মাইল্ড ফর্মে স্ট্রোকের মতো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।”

তার এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার গভীর রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল  বলেন, “স্ট্রোকের কথা কিন্তু আমাদের ডাক্তাররা বলছেন না। ডাক্তাররা গিয়েছিলেন দেখতে, তিনি বলেছিলেন উনি ফেইন্ট (মূর্ছা যাওয়া) হয়ে গিয়েছিলেন-এইটা বলছিলেন।

“তিনি স্ট্রোক করেছেন কি না এটা নিশ্চিত নই। এ ব্যাপারে কিছু পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেগুলো করা হলে বোঝা যাবে উনার কী হয়েছে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরাও তার স্ট্রোক হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করে বলেননি।

“যারা গিয়েছিলেন তারা খালেদা জিয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে বলছেন, স্ট্রোক করেছিলেন।”

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ের পর থেকে খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের ওই কারাগারে বন্দি আছেন।

চার মাস ধরে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন ‘গুরুতর’ অসুস্থ হলেও সরকার তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করছে না বলে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ।ইউনাইটেড হাসপাতালে খালেদাকে ভর্তি করে চিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।

গত মার্চের শেষদিকে খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে বিএনপির উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে তার চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে সরকার। চার সদস্যের ওই বোর্ডের সদস্যরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জানান, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর অসুস্থতা ‘গুরুতর নয়’।

মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নানা পরীক্ষা করা হয়। এক্সরে করানোর জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনকে সে সময় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছিল।

এক্স রে করাতে গত এপ্রিলে বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে এক্স রে করাতে গত এপ্রিলে বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে  চিকিৎসকদের পরামর্শে খালেদা জিয়াকে প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা দেওয়ার কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে বিএনপি।
দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শুক্রবার রাতেও দলীয় চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, “নিকট আত্মীয়রা দেশনেত্রীর সাথে সাক্ষাৎ শেষে তার (খালেদা জিয়া) সম্পর্কে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা হৃদয় বিদারক।

“তারা বলেছেন, গত ৫ জুন দেশনেত্রী দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন, তিন সপ্তাহ যাবত তিনি ভীষণ জ্বরে ভুগছেন, যা কোনো ক্রমেই থামছে না।”

পরদিন বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখতে অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকীর সঙ্গে নিউরো মেডিসিনের অধ্যাপক সৈয়দ ওয়াহিদুর রহমান, চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস ও কার্ডিওলজিস্ট ডা. মোহাম্মদ মামুন কারাগারে যান।

খালেদা জিয়াকে কেমন দেখেছেন- জানতে চাইলে ডা. এম এফ সিদ্দিকী বলেন, তার কথায় কিছুটা জড়তা থাকলেও ভাব বিনিময় করতে পারছেন।

“উনি এখন মাঝে মাঝে ব্যালেন্স রাখতে পারেন না। উনি হাঁটলে একবার এদিকে, আরেকবার ওদিকে মনে হচ্ছে যে উনি পড়ে যান। পড়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।”

বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা নিয়ে চার পৃষ্ঠার একটি সুপারিশমালা কারা কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন বলে জানান এই চিকিৎসক।

“আমরা ম্যাডামের ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা সব কিছু পরীক্ষা করে আমরা আমাদের সমস্ত মতামত ও সমস্ত অবজারভেশন পূর্ণাঙ্গভাবে ওখানে লিখে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে দিয়ে এসেছি। আমরা চার পৃষ্ঠার একটা মেডিকেল রিপোর্ট দিয়েছি, যেখানে সম্পূর্ণভাবে উল্লেখ করা আছে, কী ঘটেছে, কী হচ্ছে এবং সামনে তার কী টিট্রমেন্ট করা উচিৎ।”

তারাও খালেদাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে আনার সুপারিশ করেছেন জানিয়ে অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, “আমরা মনে করি, তার কতগুলো বিশেষ ধরনের পরীক্ষা করা দরকার। সেজন্য আমরা বলেছি, এসব সুবিধা রয়েছে ইউনাইটেড হাসপাতালে। উনাকে খুব দ্রুত ভর্তি করানোর জন্য আমরা একটা সাজেশন দিয়ে এসেছি।”

LEAVE A REPLY