পাবনা সুগার মিলের শ্রমিক কর্মচারীদের বেতনের বিপরীতে চিনি

0
31

সেলিম আহমেদ, ঈশ্বরদী থেকে ॥ পাবনা সুগার মিলের শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন হিসেবে এবারও চিনি দেয়া হয়েছে। গত মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত ৭৬৭ জন শ্রমিক কর্মচারীর বেতন বকেয়া ছিল। সেই বকেয়া বেতন পরিশোধে টাকা না দিয়ে শ্রমিকদের চিনি দিচ্ছে মিল কর্তৃপক্ষ। এ দিকে মিলের শ্রমিকরা বেতনের বিপরীতে টাকার বদলে চিনি নিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে ঈদের আগে তাদের অবশিষ্ট বেতন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শ্রমিক কর্মচারীদের তিন মাসের বকেয়া বেতনের পরিমান প্রায় ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। মিলের মজুদ থাকা প্রায় ১০ হাজার মে.টন চিনির বর্তমান মজুদের মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অর্থের প্রয়োজনে মিলগেটেই একটি সিন্ডিকেটের কাছে বস্তা প্রতি ১৫০-২০০ টাকা লোকশানে চিনি বিক্রির খবর পাওয়া গেছে।
জানা যায়, মিলে ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। মিলগেটে প্রতি কেজি খোলা চিনি ৩৭ টাকা ও প্যাকেট চিনি প্রতি কেজি ৪২ টাকা দরে বিক্রির জন্য নির্ধারিত রয়েছে। তবুও মিলের চিনি বিক্রি হচ্ছে না। বাজারে আমদানিকৃত চিনি দেশি চিনির থেকে সাদা হওয়ায় মিষ্টি ব্যবসায়িরা আমদানিকৃত চিনি ক্রয় করে থাকে। দেশি চিনি গুণে ও মানে ভাল হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র রঙ একটু লালটে হওয়ায় তা আশানুরুপ ভাবে বিক্রি হচ্ছে না।
মিলের শ্রমিক নেতা সাজেদুল ইসলাম শাহিন জানান, এ ভাবে চিনি বিক্রি করতে গিয়ে শ্রমিকদের লোকসান হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে টাকার প্রয়োজনে লাখে ৪ হাজার টাকা কমে চিনি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে শ্রমিক-কর্মচারীরা। গত দু’বছরও একই পদ্ধতিতে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা হয়েছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, চিনি বিক্রি কম হওয়াতে মিলের কাছে শ্রমিকদের কয়েক মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। সামনে ঈদ তাই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আমিসহ শ্রমিক-কর্মচারীরা সকলে চিনি বিক্রির মাধ্যমে বেতনের ব্যবস্থা করেছি।

LEAVE A REPLY