প্রতিভা সন্ধান কাব্য পরিষদ এর ১/০৭/১৮ তারিখের সেরা লেখা কবি কাজল মালেক এর কবিতা “কসাই “

0
58

কসাই

কাজল মালেক

মরা কার্ত্তিক এসেগেলো আশ্বিন না পেরোতেই
বউ বলে,খেতে দিতে পারোনা ছাড়ান দেও
তোমার ছাওয়াল দুইখান বুইঝে লও বাপু।
কি নির্মম কতা,আমার তো জবাব নেই।
সাহেব,ধার কর্জ কিছু দ্যান,আর যে পারিনা।
সাহেব চেতে উঠেন,বলেন
দেবো দেবো খালি তোদের দেবো
কেন,কম্ম করে খেতে পারিসনা।
দ্যান কাজ,অর্ধেক মজুরীতে করে দিই
আরও রাগেন সাহেব,পেটেভাতে মনুষ্যি খাট
তাতেও লস, মরা কার্ত্তিকে কোন কম্ম আছেনি?
কতাখান সত্য, গাঁয়ের দিনমজুরের গালে হাত
সব নিষ্কর্ম বসা,ধারেকর্জে অন্ন খায়।
মাঠেঘাটেঘরে কোন কাজ নেই।
গরীবের উপায় কি? সব উপুসে মরবে।
সাহেব নরম হলেন,শোন
এখন কাজ নেই তো কি হয়েছে
টাকা নিয়া যা দরকার মতো ডাকলে আসবি
কম্ম করে সুদাসলে শোধ করে দিবি।
কাজের ভরা মরসুমে মনুষ্যি খাটতে হবে
টাকায় বারো আনা কম করে মজুরী নিয়ে যা।
নিরুপায় আমি, কোন পথ আর খোলা নেই,
শ্রম বন্ধকী রেখে অগ্রিম টাকা নিয়ে গেলাম।
দুমাস বাদে ধানকাটার সময় হলে কাজ করে দেবো
টাকায় বারো আনা কমে।
আধা বিঘে জমিতে ভালো ফলন হয়েছিলো
চারা লাগানোর সময়ে তা বিক্রয় করে দিই
পাইকার কিনে নিলো প্রকৃত মূল্যের অর্ধেক দিয়ে
তা নাহলে ছাওয়ালটাকে বাঁচানো যেতোনা।
আমার ঘরে হাঁসমুরগী জন্মের আগে বিক্রয় হয়
আগাম বেচে দিই আমার শ্রম,
জীবনের লোভে জীবন বেচে খাই।
যারা কিনে নেয় জব্বরালী তাদের দেখিয়ে বলে,
কসাই আমি নারে, আসল কসাই ওরা।
আমি গরু ছাগল কেটে মাংস বেচি
তোরা আমাকে কসাই বলিস,
আরে কসাই তো যারা ক্ষিধের ফাঁদে ফেলে
তোদের আশা,স্বপ্ন আর ভবিষ্যত জবাই করে,
কেনে তোদের রক্ত,ঘাম,শ্রম,ভালবাসা সব।

LEAVE A REPLY