প্রত্যেক ডিভোর্সি দম্পতির বাচ্চারই অনুভূতি এক : হাইকোর্ট

0
20

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক:‌ প্রত্যেক ডিভোর্সে বাচ্চারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তাদের সবাইর অনুভূতি একই রকম। হয়তো এ দুটি বাচ্চা আজকে আমাদের সাথে অনুভূতি প্রকাশ করার সুযোগ পেয়েছে। সারা দেশের ডিভোর্স দম্পতির সব বাচ্চারই অনুভূতি এক, তারা সেটা বলতে পারে না। এ বাবা মা শুনলেও অন্যরা বাচ্চাদের অনুভূতি কানে নিচ্ছে না।
বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন।
২০০২ সালে রাজশাহীর মেয়ে কামরুন্নাহার মল্লিকা এবং মাগুরার ছেলে মেহেদী হাসান বিয়ে করেন। মল্লিকা পেশায় স্কুল শিক্ষিকা আর মেহেদী বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা। তারা দুই সন্তানের বাবা-মা।
দাম্পত্য কলহের জেরে ২০১৭ সালের ১২ মে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে শিশু দুটি বাবার তত্ত্বাবধানে মাগুরায় গ্রামের বাড়িতে তার ফুফুর কাছে থেকে লেখাপড়া করছে। ধ্রুব চতুর্থ শ্রেণিতে ও লুব্ধক দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। বড় ছেলের বয়স এখন ১২ আর ছোট ছেলের ৯ বছর।
এক পর্যায়ে দুই সন্তানকে নিজ হেফাজতে নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন মল্লিকা। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে শিশু দুটিকে ২৫ জুন হাইকোর্টে হাজির করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও শিশুদের বাবাকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে সন্তানদের কেন তাদের মায়ের হেফাজতে দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
আদেশ অনুযায়ী শিশু দুটিকে ২৫ জুন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে আনা হয়। এ সময় শিশু দুটির বাবা-মা ছাড়াও আত্মীয়-স্বজনরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এরপর শুরু হয় শুনানি। এক পর্যায়ে শিশু দুটির বক্তব্য শুনতে চান আদালত।
দীর্ঘদিন পর মুখোমুখি হওয়ায় সন্তান ও মায়ের কান্নায় এক হৃদয় বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিচারপতি, আইনজীবী ও উপস্থিত সাংবাদিকদেরও চোখে পানি নেমে আসে। এক পর্যায়ে আদালতের জিজ্ঞাসার জবাবে বড় ছেলে বললেন-‘আমরা আর কিছু চাই না। বাবা-মাকে একত্রে দেখতে চাই।’
বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক মা-বাবাকে উদ্দেশ্য করে তখন বলেন, এই দৃশ্য দেখেও কি আপনাদের মন গলে না? আপনারা কি এই ছোট্ট সন্তানদের জন্য নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করতে পারবেন না? সামনে তাকিয়ে দেখেন আপনাদের এই দৃশ্য দেখে সকলের চোখেই পানি আসছে।
এক পর্যায়ে আদালত ওই বাবা-মা এবং তাদের আইনজীবীদের খাস কামরায় ডেকে নেন। পরবর্তীতে এজলাসে এসে হাইকোর্ট বেঞ্চ তার আদেশে বলেন, আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত শিশু দুটি তাদের মায়ের হেফাজতে থাকবে। আর এই সময়ে পিতা শিশু দুটিকে দেখতে যেতে পারবে।
আজ(বুধবার) শুনানিতে আদালত বলেন, তাদের পরিস্থিতির কি কোনো উন্নতি হয়েছে?
আদালতে বাবা মেহেদী হাসানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তাপস কান্তি বল। আর মা মল্লিকার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস ও এ কে এম রিয়াদ সলিমুল্লাহ।
আইনজীবী তাপস বলেন, হ্যাঁ, কিছুটা উন্নতি হয়েছে। মা ছুটি নিয়ে বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরেছেন। বাবাও বাচ্চাদের সময় দিয়েছেন। কিন্তু এর মধ্যে একটি সমস্যাও দেখা দিয়েছে। ছোট বাচ্চাটি তার বাবাকে মায়ের বাসায় রাতে থেকে যাওয়ার আবদার জানালে বাবা রাজি হলেও মা রাজি হননি। রাত একটায় বৃষ্টির মধ্যে বাবাকে বের হয়ে যেতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোর্ট সমঝোতার জন্য সময় দিয়েছেন। এটা সর্বমহলে বার্তা দিয়েছে। তবে উভয়পক্ষকে মনে রাখতে হবে, আদালতের নমনীয়তায় যদি তারা অন্য কিছু ভেবে থাকেন তাহলে সেটা ঠিক হবে না। মনে রাখতে হবে আদালতের হাত খাটো না। বাচ্চাদের মঙ্গল চিন্তা করে আদালত যে কোনও আদেশ দিতে পারেন।
পরে মায়ের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, এটা পুরোপুরি পারিবারিক ইস্যু। সুতরাং দুই জনের মধ্যেই সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য আরও সময় লাগবে।
তারা বলেন, আমাদের এ বক্তব্য আদালত শুনে আগামী ১ আগস্ট তারিখ রেখেছেন।

LEAVE A REPLY