ফাল্গুনের কৃষ্ণচূড়া গ্রুপ এর গত তিন মাসের (মার্চ ,এপ্রিল আর মে) কবিতা থেকে বাছাই করা সর্বসেরা কবিতা , কবি মুতাকাব্বির মাসুদ এর ‘’কাজলাক্ষী নদী’’

0
268

           কাজলাক্ষী নদী

                                      মুতাকাব্বির মাসুদ

চোখ তোমার কাজলাক্ষী নদীর মতো
আজ কেনো সোনেলা ঢেউ নেই জলে?
ঘুমলি চোখের নীল প্যানেল
বিধবা বকের মচকানো ডানায় খেলে ক্লান্ত সন্ধ্যা
রূপোলী কলমি কারচুপির নিসাস ফেলে
বৈরাগী চাঁদের ঠোঁটে
ঐ যে দিঘির জল শিশিরের বাঁশীর সুর
আজও কী খেলে লাল ফড়িং এর ডানায়
তোমার চপল চোখের বেলকনিতে?
ভোরের চপল-স্পন্দিত আলোর রঙ
লজ্জাবতীর শরমার্ত নরম কলির ভেতর
সোহাগীর অনূঢ়া যৌবনের ঢেউ
প্রাসঙ্গিক নিষিদ্ধ সুন্দরীর পায়ের মল
শব্দিত হয় করুণ বেহাগের সুরে
সাদাসাদা অনুরাধা নেমে আসে
বিবাগী সানাই হাতে
তন্বী বকুল অপরূপ!বেমানান পোশাকি গালাপের পাশে
তুমি নগরের অনঘ-অনাঘ্রাতা চম্পূ বালিকা
উদলা শরীরে উরজে নিয়ে হাঁটো উরগের ওম
কেমন হীম-শীতল ; মাটির কলস ভরা তৃষ্ণার জল
নিশাচর সন্তর্পণে ছায়া হয়ে হাঁটে
জীবন আর পিপাসার অদ্ভুত কোলাহল
কফিনে মোড়া বরফ ঝরে ক্রমায়াত
নবীন ভায়োলিনের মসৃণ শরীরে
সেই চোখ তোমার কত খুঁজি
নদী আর জলের নাক্ষত্রিক সংগমে
বিধ্বস্ত শহর দেখি
তোমার-চিত হয়ে পড়ে থাকা উরুর মাঝখানে
এক মৃত নদীর ফসিল দেখি তোমার
ঢেউ খেলানো নিতম্বে
অনাহারী ক্লান্ত অনুরাধা-দলে
দলে আত্মাহুতি দেয় দিবসের
বেহায়া আলোর উদ্দাম নৃত্যে
সবকটা দালানই পিশাচের
নেংটা মুখ
তথাকথিত অভিজাত দেয়ালগুলো
পানের পিকে রক্ত লাল-নির্বাক মৃত বিবেকের মতো!
ছাল ওঠা কুকুরের বিকৃত নিতম্ব
সভ্যতার ‘রেবিজ” নিয়ে ঘোরে বিকলাঙ্গ কোনো গণতান্ত্রিক উঠোনে!
স্বপ্নের মাধুকরী তখনও কি তোমার
যন্ত্রণা কাতর শরীরের ভাঁজে
থমকে যাওয়া দিনের শেষে,
নির্ঘুম সুখের তৈজস নিয়ে খেলে?
হঠাৎ অন্ধকারে দূরে কোথাও মৃত ভায়োলিনের সুর
মৃত নগর জেগে ওঠে অমানবিক এক নাগরিক ক্ষুধায়
তুমি কি ভাবো আজো কাজলাক্ষী নদীর বুক
তোমার চোখের ভেতর, নীল দরিয়ার অতল গহ্বর
সীমাহীন প্রেমের মৃত্যুহীন মল্লিকাদের বাসর
অনন্ত মৃত্যুর মতো রঙ মাখা প্রজাপতি
ওড়ে আর ভাসে-ফেলে আসা সেই
উদ্বেগ-উদ্ভিন্ন নদীর যৌবনী চরে
কালো কালো ডাগর চোখ-কুহেলি মৃত্যুর মতো
তোমার যৌবন করেছে অতীত
দস্যু খাবলে খেয়েছে তোমার মনোরম সতীত্ব
এ পোড়া নগর-তোমার পোড়া দেহের অন্তর্দাহ
তোমারই সাঁচি দেহের লতানো ভাঁজে
ছড়ায় কেবল আগুনপ্লাবন
তুমি মৃত-এনগর মৃত,নদী মৃত
পাখির ডানায় নেই কোনো জীবনের ছন্দিত স্পন্দন
পরাবাস্তব এ নগর এখন গাধার পিঠে চলেছে
এখন তুমি ভাসতে পারো,যেতে পারো
অন্য কোনো ভোর, অন্য কোনো কাজলাক্ষী
নদীর খুঁজে!

LEAVE A REPLY