বন্দুকযুদ্ধের নামে নিরস্ত্র মানুষ হত্যা করা হচ্ছে: ইমরান

0
26

ঢাকা প্রতিনিধি: বন্দুকযুদ্ধের নামে নিরস্ত্র মানুষকে সরকারি বাহিনী হত্যা করছে। পরিকল্পিতভাবে মানুষ হত্যার মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে অস্বীকারের দৃষ্টান্ত তৈরি করা হচ্ছে; যা রাষ্ট্রের শান্তিশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

রোববার বিকেলে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণজাগরণ মঞ্চের পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল পুলিশের বাধায় পণ্ড হওয়ার পর গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার একথা বলেন।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল হওয়ার কথা ছিল।

ইমরান এইচ সরকার বলেন, সরকারের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, দেশে একনায়কতান্ত্রিক শাসন চলছে। তাদের কোনও জবাবদিহিতার প্রয়োজন নেই। তাদের ব্যবহারে মনে হচ্ছে যে তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয়।

তিনি বলেন, দেশে মতপ্রকাশের কোনও স্বাধীনতা নেই। কথা বলার অধিকার নেই। সরকারের সমালোচনাকারীকে আটক, গুম ও খুন করা হয়। এমনকি ক্রসফায়ারের হুমকি দেয়া হয়।

গণজাগরণ মঞ্চের কর্মসূচিতে পুলিশের বাধার বিষয়ে সংগঠনটির মুখপাত্র বলেন, দেশে কি জরুরি অবস্থা চলছে? সভা-সমাবেশে এতো বাধা কেন? বন্দুকযুদ্ধের নামে সংবিধানবিরোধী বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আমরা কর্মসূচি দিয়েছিলাম। পুলিশকেও অবহিত করা হয়। তবু তারা বাধা দিয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা এখানে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন যে সভা-সমাবেশ করতে ডিএমপি কমিশনারের অনুমতি লাগে। অথচ আমার জানা মতে, সভা-সমাবেশ করতে চাইলে কারও কোনও অনুমতির প্রয়োজন নেই, পুলিশকে অবহিত করলেই হয়।

তিনি আরও বলেন, বন্দুকযুদ্ধের নামে নির্বিচারে মানুষ খুনের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। আগামী ৬ জুন বুধবার বিকেল ৪টায় আমরা আবারও শাহবাগে দাঁড়াব।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মে দিনগত রাত ১টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন টেকনাফ পৌরসভার ৩ বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর একরামুল হক। নিহতের পরিবার দাবি করে যে তাকে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হয়।

এছাড়া মোবাইল ফোনে কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপও গণমাধ্যমে প্রকাশ করেন একরামুল হকে স্ত্রী অয়েশা বেগম।

LEAVE A REPLY