বাংলাদেশে কোটা বাতিল: প্রজ্ঞাপন জারিতে বিলম্ব কি সরকারি কৌশল

0
18

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক:‌ বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রজ্ঞাপন আকারে জারি না হওয়ায় আগামীকাল রোববার আবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

তারা বলছেন একমাস পার হয়ে যাবার পরেও কোটা বাতিল বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি না হওয়ার বিষয়টি হতাশাজনক। কেন প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত প্রজ্ঞাপন আকারে জারি হচ্ছে না- এনিয়ে আন্দোলত শিক্ষার্থীদের অনেকের মাঝেই নানা প্রশ্ন এবং সন্দেহ রয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভসহ দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের আহবান জানানো হয়েছে।

সিদ্ধান্ত এতোদিনেও বাস্তবায়িত না হওয়ায় সেটি সরকারের কোন কৌশল কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা।

অধ্যাপক সুলতানা বলেন, “সরকারে যারা থাকেন তারাই তো কৌশলী হন। হয়ত বলে ফেলেছেন, এখন হয়তো উনি (প্রধানমন্ত্রী) ভাবছেন যদি এটা বাস্তবায়ন হয়, তাহলে দুইটা পক্ষ হয়েতো মুখোমুখি হয়ে যাবে। সেটা আমার বিশ্লেষণ।”

”ভাবছে একদিকে হয়তো মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান বা আত্নীয়-স্বজন যারা আছে তারা দাঁড়িয়ে যাবে, অন্যদিকে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী যারা আছে তারা মুখোমুখি হয়ে যাবে। হয়ত এটা তাদের মাথায় আছে।”

তিনি বলেন সামনে নির্বাচন আছে, ”তাই হয়ত এই ব্যাপারটা তারা ঘাঁটাতে চাইছেন না।”

নির্বাচনের বছরে কোটার বিষয়টি নিয়ে সরকার একটা কৌশলী ভূমিকা নিতে চাইছে বলে তিনি মনে করেন।

তবে তিনি বলেন যেহেতু সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন – ”যে সংসদ থেকে দেশের জন্য নানা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়, তাই আমার মনে হয় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা উচিত।

গত ১৬ই এপ্রিল কোটা আন্দোলনের নেতাদের সংবাদ সম্মেলন ।
গতমাসে কোটা সংস্কার নিয়ে যখন দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তুঙ্গে, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেছিলেন কোন কোটাই থাকবে না।

এরপর কিছুদিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আবার বলেছেন, কোটা বাতিল হয়ে গেছে এবং এনিয়ে হা-হুতাশ করে লাভ নেই।

কিন্তু কয়েকদিন আগে মন্ত্রীপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, কোটা নিয়ে কোন অগ্রগতি নেই এবং এ বিষয়ে কোন দিকনির্দেশনাও নেই।

কিন্তু এর দুদিন পরেই জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সচিব সাংবাদিকদের বলেছেন কোটা বাতিল বা সংস্কার করতে একটি কমিটি গঠনের রূপরেখা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছেছে। দ্রুত একটি সিদ্ধান্ত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আন্দোলনরত একজন শিক্ষার্থী বলেছেন, “আপনি জানেন সামনে রোজা, কিন্তু রোজার মধ্যেও আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। প্রজ্ঞাপন না হওযা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকাল আন্দোলন চলবে।”

তবে তিনি বলেন শিক্ষার্থীরা ”অহিংস আন্দোলন করবে এবং তা হবে মূলত অবস্থান কর্মসূচি”। পরবর্তীতে তারা সড়ক অবরোধ, ধর্মঘট বা ক্লাস বন্ধ করার মত কর্মসূচি দেবেন কিনা সে বিষয়েও শিগগিরিই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান মিস মৌসুমি।

এদিকে শিক্ষার্থীদের নতুন করে আন্দোলনের ডাক প্রসঙ্গে সরকার কী ভাবছে সেটি নিয়ে কোন আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সরকারের ঘনিষ্ট একটি সূত্র বলছে, এ মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কোন যৌক্তিকতা তারা দেখছেন না।

LEAVE A REPLY