বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদার জামিন শুনানি ফের আজ

0
40

ঢাকা প্রতিনিধি: কুমিল্লার নাশকতার মামলায় বিএনপি চেয়ারারসন খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করেছে জন্য হাই কোর্ট। গতকাল বুধবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের বেঞ্চে এ মামলায় দ্বিতীয় দিনের মতো আংশিক শুনানি হয়। খালেদার জামিনের পক্ষে প্রথমে তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। আংশিক শুনানি শেষে আদালতের সময় শেষ হয়ে এলে বিচারক শুনানি মুলতবি করেন।

বৃহস্পতিবার আবারও কুমিল্লার এ মামলায় খালেদার জামিন শুনানি শুরু হবে। নড়াইলে মানহানির আরেক মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন এই আদালতেই শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন হওয়ার পর গত ২০ মে হাই কোর্টের অনুমতি নিয়ে কুমিল্লা ও নড়াইলের তিন মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। এর মধ্যে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের একটি মামলা বিশেষ আইনে হওয়ায় ওই মামলায় ফৌজদারি আপিল করা হয়। তার সঙ্গেই খালেদার জামিন চাওয়া হয়। হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আর বাস পুড়িয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগে কুমিল্লার এক মামলা এবং নড়াইলের একটি মানহানির হামলায় তার জামিন আবেদন মঙ্গলবার বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের হাই কোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য তোলা হয়।

এর মধ্যে নাশকতার মামলাটির শুনানি এখন চলছে। ২০১৫ সালের ৩ ফেব্র“য়ারি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় একটি নৈশকোচে পেট্রোল বোমা হামলায় আট যাত্রী নিহত হন। চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান পরদিন খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ এ মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়ার পর আদালত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এর মধ্যে খালেদা ঢাকার দুর্নীতি মামলায় কারাগারে যাওয়ায় কুমিল্লার মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে কুমিল্লার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত গত ২৮ মার্চ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেয়। তবে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে খালেদা জিয়াকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হয়নি এখনও। এ অবস্থায় খালেদার আইনজীবীরা গত ২২ এপ্রিল কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দুই মামলায় তার জামিনের আবেদন করলে বিচারক শুনানির জন্য ৭ জুন তারিখ রাখেন। শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার জন্য আবেদন করা হলে ১৪ মে তা খারিজ করেন বিচারক। আর নড়াইলের আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাটি দায়ের করা হয় শহীদদের সংখ্যা নিয়ে ‘বিরূপ মন্তব্য’ করার অভিযোগে। নড়াইল জেলা পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও নড়াগাতি থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান ফারুকী ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর এ মামলা দায়ের করেন। আদালতের তলবে হাজির না হওয়ায় ২০১৬ সালের অগাস্টে এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারক।

আইনজীবীরা এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন করলে গত ৮ মে সে আবেদনের উপর শুননি হয়। কিন্তু শুনানির পর আদালত কোনো রকম আদেশ না দিয়ে ২৫ মে মামলার তারিখ রাখেন। এ কারণে খালেদার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন নিয়ে হাই কোর্টে আসেন।

LEAVE A REPLY