বিভিন্ন স্থানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৪

0
23

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক:‌ কুমিল্লা, সিরাজগঞ্জ ও রাজবাড়ীতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চারজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন ডাকাত এবং একজন চরমপন্থী বলে পুলিশের দাবি।

কুমিল্লা: ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আল আমিন ও এরশাদ নামের ২ ডাকাত নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে জেলার তিতাস উপজেলার বাতাকান্দি-আসমানিয়া বাজার সড়কের নারায়ণপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় ৪ ডিবি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ আরও ৫ ডাকাতকে আটক করেছে।

অভিযানে অংশ নেয়া ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ জানান, ডাকাতি প্রতিরোধে ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধার নেতৃত্বে তিতাস এলাকায় পুলিশের একটি টিম অবস্থান করছিল। গভীর রাতে ওই উপজেলার বাতাকান্দি-আসমানিয়া বাজার সড়কের নারায়ণপুর কবরস্থানের সামনের রাস্তায় ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পেয়ে ডিবির টিমটি রাত আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

তিনি আরও জানান, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল এলোপাতাড়ি গুলি ও ইট-পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে ২১ রাউন্ড শর্টগানের গুলি চালায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৭ ডাকাতকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত আল আমিন ও এরশাদ নামের ২ ডাকাতকে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেয়ার পর ডাক্তার তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

আল-আমিন কাউছার (৩০) উপজেলার উত্তর মানিকনগর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে এবং এরশাদ (৩২) জেলার বুড়িচং উপজেলার কংশনগর গ্রামের চরেরপাড় গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।

আটক ডাকাতরা হচ্ছেন- সদর উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের মৃত আবুল হোসনের ছেলে আরঙ্গজেব (৫০), সদর দক্ষিণ উপজেলার মিলন (৩৫), একই উপজেলার নাছির (২৭), তিতাসের শরীফুল (২৯) এবং মুরাদনগর উপজেলার আবু মিয়া (৪০)।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২টি দেশি তৈরি এলজি, ৪ রাউন্ড কার্তুজ, ৩টি ছোরা,৭টি মুখোশ ও ২টি লোহার রডের টুকরা।

বন্ধুকযুদ্ধের সময় ডিবির এসআই মোহাম্মদ শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম, এসআই মো. সহিদুল ইসলাম পিপিএম, কনস্টেবল রুবেল মজুমদার এবং মো. সুমন আহত হয়েছেন।

ডিবির ওসি নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, এরশাদের বিরুদ্ধে ৯টি এবং কাউছারের বিরুদ্ধে ৫টি ডাকাতি মামলা বিচারাধীন এবং আটককৃত ডাকাতদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ৩/৪ করে মামলা রয়েছে। নিহত ২ ডাকাতের লাশ শুক্রবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ: উল্লাপাড়ায় র‌্যাব-১২ এর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হজরত আলী (৪২) নামে এক ডাকাতের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার পাইকপাড়ার শ্মশানঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

তখন ঘটনাস্থল থেকে দুইটি শুটার গান, ১৪টি কার্তুজ, কুড়াল, হাসুয়া ও তিন রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-১২ এর স্পেশাল কোম্পানি সিরাজগঞ্জ ক্যাম্পের কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাকিবুল ইসলাম খান জানান, উল্লাপাড়ার একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ওই এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব সদস্যরা তাদের ধরতে গেলে ডাকাতরা গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি করে।

এক পর্যায়ে ডাকাত হজরত আলীর গুলিবিদ্ধ হলে তাকে ফেলে সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পরে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ তাকে উদ্ধার করে। তাকে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। লাশ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

রাজবাড়ী: পাংশায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে লালন হালদার (৪১) নামে এক চরমপন্থী নিহত হয়েছে। নিহত লালন পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের জীবন হালদারের ছেলে। পুলিশের দাবি লালন চরমপন্থী জুলহাস বাহিনীর সদস্য।

শুক্রবার ভোর রাতে উপজেলার হাবাসপুর ইউপির স্লুইচ গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের স্লুইচ গেট এলাকায় একদল চরমপন্থী মিটিং করছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে পাংশা থানার পুলিশ ভোররাতে ঐ এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ করে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। সে সময় পুলিশের গুলিতে লালন আহত হয়।

তাকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে দ্বায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) মো. ফজলুল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান সুটার গান, একটা একনালা বন্দুক ও ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। লালনের বিরুদ্ধে পাংশা ও সুজানগর থানায় হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের চারটি মামলা রয়েছে।

LEAVE A REPLY