মওদুদকে কেন বিশ্বাস করেন, বিএনপিকে কাদের

0
24

ঢাকা প্রতিনিধি: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদকে দলের নেতা-কর্মীরা কেন বিশ্বাস করেন, এ নিয়ে বিএনপির কাছে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে বলি, এ লোকটাকে কেন বিশ্বাস করেন?’

শনিবার দুপুরে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মওদুদ আহমদকে কেন বিশ্বাস করেন? আলতু ফালতু কথা বলে সেই জন্য? এই লোক বেগম জিয়াকে হাসপাতালে রেখে এরশাদ সাহেবের দলে যোগ দিয়েছিলেন। এই ইতিহাস সবার জানা।’Eprothomalo

‘মওদুদ আহমদ এ দেশের রাজনীতির বহুরূপী ব্যারিস্টার’, মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কথায় কথায় তিনি দল ও রং বদলান। কখনো সাহেব কখনো বিবি আবার কখনো বিবি কখনো সাহেব। তাঁর নাম হলো মওদুদ আহমদ। তিনি এখন বেগম খালেদা জিয়াকে পরামর্শ দিচ্ছেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এরশাদ সরকারের সময় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বেগম জিয়ার সঙ্গে আহত হয়ে কুমিল্লা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মওদুদ আহমদ। আমাদের নেত্রী বেগম জিয়াকে দেখতে গিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা যাওয়ার আগেই মওদুদ সাহেব হাসপাতাল ত্যাগ করেন। পরের দিন শুনলাম তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছেন।’

ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন করেন, ‘মৃত ব্যক্তির নামে ভুয়া কাগজ করে যে লোক বাড়ি দখল করে, তাঁর রাজনীতি কি স্বচ্ছ? তিনি কি দেশপ্রেমিক? তিনি কি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন?’

অতি দ্রুত দেশের রাজনীতির চিত্র বদল হবে, মওদুদ আহমদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কীভাবে বদল হবে? কেন বদল হবে? কী কারণে বদল হবে? মওদুদ সাহেবের কাছে কি ম্যাজিক আছে, যে ম্যাজিক দিয়ে তিনি রাজনীতি বদলাবেন। নির্বাচনে দেশের জনগণের রায়ের মাধ্যমে সরকার বদল হতে পারে। অন্য কোনো উপায়ে সরকার বদল করার যে খোয়াব দেখছেন, তা অচিরেই কর্পূরের মতো হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকার বদলের জন্য রাতের অন্ধকারে গোপন বৈঠক করলেন। কিন্তু জনগণ কি আপনাদের চায়? জনগণ চায় না বলেই আপনাদের সকল আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে। আমরা জানি কোথায় কারা কারা বৈঠক করেছেন। টেমস নদীর পাড়ে কখন কার সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে। ব্যাংকক, দুবাইতে বসে কারা কোন গডফাদারের সঙ্গে বৈঠক করছেন। দেশেও রাতের অন্ধকারে কোথায় বৈঠক হচ্ছে, সব আমাদের নলেজে আছে। সময়মতো ব্যবস্থা নেব।’

দলের নেতা-কর্মীদের বঙ্গবন্ধুর ছবির পাশে নিজের ছবি দিয়ে আত্মপ্রচার বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ছবি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা বন্ধ করেন। বঙ্গবন্ধু বা নেত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যবহার করে আত্মপ্রচারে যারা নিমগ্ন, তাদের রাজনীতির কমিটমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন আছে। একজন এমপির বাড়ি ঢাকা থেকে অনেক দূরে একটি দ্বীপে। তিনিও ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর পাশে ছবি দিয়ে পোস্টার-বিলবোর্ড করেছেন। এসব কেন? এটা কি তাঁর নির্বাচনী এলাকা? প্লিজ এই সব প্র্যাকটিস বন্ধ করেন।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘এই সব ছবি প্রদর্শন করে নমিনেশন পাওয়া যাবে না। নমিনেশন পাওয়া যাবে জনগণের সেবা করে।’
দলীয় নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সময়টা ভালো নয়। তাই সব সহকর্মীর কাছে বিনীত অনুরোধ, যার যার সীমানা পেরিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেবেন না। সরকারকে বিব্রত করবেন না।’

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছারের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ নাথ।

LEAVE A REPLY