‘মানুষ মানুষকে এভাবে মারতে পারে না, ঢাবি শিক্ষক পরিচয় দিয়েও রেহাই পাইনি’

0
32

ঢাকা প্রতিনিধি :নিজের পরিচয় দেয়ার পরও রেহাই পাননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লাইব্রেরিয়ান এবং তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক ড. জাভেদ আহমেদ। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার সময় এই ঘটনা ঘটে।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কোটা আন্দোলনের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল্লাহ নূরকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ সময় জাভেদ আহমেদ এগিয়ে গেলে তার পা জড়িয়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করেন নূর। নূরকে রক্ষা করতে জাভেদ আহমেদ নিজের পরিচয় দেন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জাভেদ আহমেদের ওপর চড়াও হন। এতে তার হাতের তালু কেটে যায়।

ড. জাভেদ আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, আমি নিজেকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দেয়ার পরও তারা আমার ওপরও চড়াও হয়েছে। আমার হাতের তালু কেটে গেছে।

তিনি আরো বলেন, মানুষ মানুষকে এভাবে মারতে পারে না। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও তোমরা সবাই ছাত্র। সহপাঠী সহপাঠীর ওপর এভাবে হামলা করতে পারে না।

এর আগে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নেয়।

সংবাদ সম্মেলনের জন্য আন্দোলনকারীদের একটি দল কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আসার পর ‘শিবির ধর’, ‘শিবির ধর’ বলে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। নুরুল হক নূরকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়।

এসময় ‘ওরে মেরে ফেল’, ‘কলিজা কাট’ ইত্যাদি উক্তি করে তাকে লাথি, ঘুষি, চড়-থাপ্পড় দিতে থাকে হামলাকারীরা। একপর্যায়ে নূর মাটিতে পড়ে গেলে শোয়া অবস্থায় তাকে লাথি মারতে থাকে তারা। এরপর লাইব্রেরির বাইরে টেনে নিয়ে এসে আবারও তাকে মারধর করা হয়। এসময় তার নাক-মুখ ফেটে রক্ত বের হতে দেখা যায়। পরে শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে লাইব্রেরির ভেতরে নিয়ে যান।

নুরুল হক নূরকে মারধরের পর তাকে প্রায় ৩০ মিনিট লাইব্রেরিতে রাখা হয়। পরে লাইব্রেরির পেছনের দরজা দিয়ে লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ নূরকে আহত অবস্থায় প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে তুলে দেয়। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY