মা দিবসে তারুণ্যের গল্পকার ও কবি প্রেমা চক্রবর্তী এর সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মী অসাধারণ লেখা “ মা ”

0
162

                                      মা

                                                                        প্রেমা চক্রবর্তী

‘মা’ মোটে এক অক্ষরের একটা শব্দ অথচ কি বিশাল ব্যাপ্তি। মা ঈশ্বর হন কিনা জানি না কিন্তু মা জীবনের শ্রেষ্ঠ আশীর্বাদ তো বটেই। কিন্তু সেই মাকে নিয়ে লিখতে গেলে কলম সরে না,কাগজ পড়ে থাকে সাদা ক্যানভাসের মতোই আর ভাবনা এবং আবেগগুলো বড্ড বেহিসাবি ছক কাটতে থাকে মাথার মধ্যে।

মায়ের জীবনটাকে আমরা সাপলুডো খেলা বানিয়ে দেই জন্মের সময়। জীবনছক্কার যে দানটাই পড়ুক একজনের বিদায় অবধারিত জেনেও ভদ্রমহিলা অবলীলায় ডাক্তারকে বলতে পারেন,”আমায় ওটিতে নিয়ে চলুন।”

এর পরে আমরা ধীরে ধীরে মায়ের অভ্যেসে আর মা আমাদের নেশায় পরিণত হয়।
মা আমার “মা” হয়েছে,মা আমার “বন্ধু” হয়েছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।

মা কোনদিনও স্বপ্ন দেখেনি। আমি যে ঝাপসা স্বপ্নগুলো দেখতাম সেই স্বপ্নগুলোতে রঙ তুলির আঁচড় বুলিয়ে পরম মমতায় সেগুলো লালন করেছে। আর সেই স্বপ্ন গুলোর পথে কোন বাঁধা এলে প্রতিবাদ করতেও শিখিয়েছে মা ই।

অবাক লাগে মা কোন সোশ্যাল মিডিয়া করে না,অথচ সামাজিকতার সহজ পাঠটা মায়ের কাছ থেকেই পাওয়া। হারতে হারতে যখন পিঠ ঠেকে গেছে দেওয়ালে,সেই দেওয়ালটা স্বয়ং মা। ভীষণ একলা হওয়ার দিনগুলোতে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য মায়ের কোলটা সবসময় ফাঁকা থেকেছে।

আমার চরম ধার্মিক মা মন্দিরেও নিয়ে গেছে টানতে টানতে আবার মসজিদে ঢোকার সময় সাবলীল ভাবে বলতেইই পেরেছে মাথায় ওড়না নে।

মা’ই শিখিয়েছে মায়ের মত মা হতে।
আমার সামান্য জ্বরেও ডাক্তারকে ডাক্তারি শেখানো মা ই আমার ভীষণ শরীর খারাপে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করতে শিখিয়েছে।

তবে মেয়ে হয়ে নয় মা শব্দটার আসল মানে টা বোঝা যায় নিজে মা হলেই। যেদিন আমার কোল জুড়ে আমাকে মা ডাকার মত কেউ এল সেদিন আমি মা হলাম।হ্যাঁ ঠিক পড়ছেন আমি মা হলাম।বুঝলাম মা হওয়ার মানে।
ছোট থেকেই অনেক তীর্যক মন্তব্য শুনতে হয়েছে আমার মাকে কারণ আমরা তিন মেয়ে সন্তান । সত্যিই তাই। কিন্তু আমার মায়ের এতে কখনোই কোন আক্ষেপ করতে দেখিনি। !আমার মায়ের লড়াই তার সন্তান দের ভাল রাখার,সুখে রাখার।
কখনো এতটুকু আঁচর লাগতে দেননি আমাদের গায়ে। আমার সব আবদার মায়ের কাছে।সবসময় যেকোন মূল্যে আবদার পূরণ করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে আমার মা।

আমার মনে হয়, মায়ের ঋণ কখনোই শোধ করা যায় না।
আমি বিশ্বাস করিনা সন্তান হয়ে বাবা মা কে সেই স্নেহ দেওয়া যায়, যা আমরা ওনাদের কাছ থেকে আমরা পাই। একমাত্র বাবা মায়ের স্নেহ ই নিঃস্বার্থ এবং নিঃশর্ত ও।

LEAVE A REPLY