মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

0
136

     দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্কঃ    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ রোহিঙ্গা সংকট অবসানে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে সুইজারল্যান্ডের অব্যাহত সমর্থন কামনা করেছেন।

বঙ্গভবনের একজন মুখপাত্র আবদুল হামিদের বরাদ দিয়ে বলেন, ‘বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের তাদের স্বদেশ ভূমি রাখাইনে নিরাপদ ও মর্যাদাসহকারে প্রত্যাবাসনে রাষ্ট্রপতি সুইজারল্যান্ডের সমর্থন কামনা করেন।’ আজ সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নৈশভোজের প্রাক্কালে সুইজারল্যান্ডের সফররত প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বেরসের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ আয়োজিত এই নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ, মন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, সংসদ সদস্য এবং পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গা সমস্যাকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বর্বরতার শিকার হয়ে গত বছরের আগস্ট থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্টকে বঙ্গভবনে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, বন্ধুপ্রতীম দু’দেশের মধ্যেকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪৫ বছরের ইতিহাসে এ সফর একটি মাইলফলক।

সুইস প্রেসিডেন্টের এ সফর আগামী দিনগুলোতে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আবদুল হামিদ আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সুইজারল্যান্ড সরকারের সমর্থন এবং ১৯৭২ সালের ১৩ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সুইজারল্যান্ডের সহায়তার প্রশংসা করেন।

আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘে বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে বিশেষ করে শান্তি, নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন এবং উন্নয়ন খাতে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে চায়।

বাংলাদেশ-সুইজারল্যান্ড বিজনেস ফোরামের বৈঠকের কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এ দেশে সুইস বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে বলে আবদুল হামিদ আশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করে আগামী দিনগুলোতে ব্যাপক সহায়তা নিয়ে সুইজারল্যান্ড এগিয়ে আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রেসিডেন্ট বেরসে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এ সংকট অবসানে সর্বাত্মক সমর্থনের আশ্বাস প্রদান করেন।

পরে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট পরিদর্শক বইতে স্বাক্ষর করেন।

সাক্ষাৎ শেষে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ও তার সফরসঙ্গীরা রাষ্ট্রপতি হামিদ আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন। তারা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন।

LEAVE A REPLY