মৃতদেহ পুড়ে যাওয়ায় দেরি হচ্ছে পরিচয় শনাক্তে

0
105

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক: বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৫০ জনের মধ্যে, বেশিরভাগের মৃতদেহ পুড়ে যাওয়ায় সবার পরিচয় শনাক্তে বিলম্ব হচ্ছে। ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা এরই মধ্যে তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর পুরো নেপাল থমকে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। এ দুর্ঘটনায় শোক জানিয়েছে ভারত, ভুটান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

বিমান বিধ্বস্তের খবর পাওয়ার পর থেকেই, সোমবার কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জড়ো হতে থাকেন বিমানে থাকা যাত্রীদের স্বজনেরা। একে একে মৃত্যুর খবর আসতে থাকলে স্বজন হারা আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে সেখানকার পরিবেশ। দুর্ঘটনায় নিহতদের অনেকের মৃতদেহ আগুনে পুড়ে যাওয়ায় সবার পরিচয় শনাক্ত সময়সাপেক্ষ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সোমবারের বিমান দুর্ঘটনায় প্রায় অর্ধশত মানুষের মৃত্যু হলেও, প্রাণে বেঁচে গেছেন ২২ জন। তাদের মধ্যেই একজন ভাগ্যবান সামান শাকিয়া নামের এই যাত্রী। হাসপাতালের বিছানায় বসে তিনি জানালেন ভয়াবহ স্মৃতির কথা।

দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রী সামান শাকিয়া বলেন, ‘আমি কিছুতেই সেই মুহূর্তটা ভুলতে পারছি না। হঠাৎ বিমানটিতে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি শুরু হলো। সবাই চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে। এর মধ্যেই বিমানটি মাটিতে আছতে পড়ে। বিকট এক শব্দ পেলাম। মুহূর্তেই সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়।’

বিমান বিধ্বস্তের কয়েক ঘণ্টা পরই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি পুরো জাতি শোকে স্তব্ধ বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি। আহতদের চিকিৎসায় সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তারও আশ্বাস দেন নেপালি প্রধানমন্ত্রী।

নেপাল প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর পুরো নেপাল স্তব্ধ। কিছু বলার ভাষা নেই। দুর্ঘটনায় অসুস্থ হয়ে যারা হাসপাতালে তাদের উন্নত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’

সোমবার দুপুরের দিকে ৬৭ যাত্রী ও চার জন ক্রু নিয়ে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের রানওয়ে থেকে ৩শ’ ফুট দূরে একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয় ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস-টুওয়ান ওয়ান ফ্লাইটটি।

LEAVE A REPLY