মো: সরওয়ারুজ্জামান এর কোটা পদ্ধতি সংস্কারের উপর বিশ্লেষণ ধর্মী লেখা ”মুক্তিযোদ্ধারা কেন যুদ্ধ করেছিলেন?”

0
171
কলামিষ্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মো: সরওয়ারুজ্জামান মনা বিশ্বাস

মুক্তিযোদ্ধারা কেন যুদ্ধ করেছিলেন?

মোঃ সরওয়ারুজ্জামান মনা বিশ্বাস

দীর্ঘ তেইশ বছর পাকিস্তানের লাঞ্চনা,বঞ্চনা, শোষণ, নির্যাতন, অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক,প্রশাসনিক বৈষম্যের শিকার সাবেক পুর্ব পাকিস্তানের মানুষ আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। যার সফল পরিনতি ছিল ১৯৭১ সালের বহু ত্যাগ তিতিক্ষা আর আত্মবলিদানের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা। আর এ সফল যুদ্ধে সব শ্রেনী পেশার মানুষের এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অংশ গ্রহন ছাড়াও জাতীর সুর্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের ভুমিকাই ছিল মুখ্য। তাই আমি জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের জানাই সংগ্রামী শুভেচ্ছা, অভিনন্দন আর কৃতজ্ঞতা। আর যারা যুদ্ধকালীন সময়ে শাহাদতবরণ এবং পরবর্তীকালে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরন করছি এবং রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। তবে সে আত্মত্যাগের অবশ্য্ই লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র, সুশাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার সম্বলিত সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার।স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন আসে, দেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু সেই প্রকৃত লক্ষ্য কি অর্জিত হয়েছে ? সেই বিষয়টা মাথায় রেখেই আমার লেখার নামকরন হয়েছে একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিয়ে।দীর্ঘদিন ধরে দেশের সর্বত্রই অস্থিরতা এবং সব মহলেই অস্বস্তি বিরাজ করছে। এর সংগে যুক্ত হয়েছে সরকারী চাকুরীতে বিরাজমান কোটা বিরোধী বা সংস্কার আন্দোলন। দেশ স্বাধীন হবার পরে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাহত , নি:স্ব এবং দুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং সমাজের অনগ্রসর অংশকে সামনে এগিয়ে আনার জন্য সরকারী চাকুরীতে শতকরা দশ ভাগ আসন সংরক্ষণ বা কোটার ব্যবস্থা করেছিলেন। তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যানের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্ট গঠন করে অনেক মুল্যবান অর্পিত সম্পত্তি দান করেছিলেন। সে ট্রাষ্টের দ্বারা সাধারন মুক্তিযোদ্ধাদের কোন কল্যান সাধিত হয়েছে কিনা আমার জানা নাই । তবে এ বিষয়ে সাধারন জনগনের কোন আপত্তি আমি লক্ষ্য করি নাই। তবে ১৯৯৭ সালে সেই কোটা বেড়ে এখন ৫৬ শতাংশে ঠেকেছে তাতে মুক্তিযোদ্ধা ৩০, নারীদের ১০, জেলা কোটা ১০, উপজাতীয়দের জন্য ৫ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ। ২০১১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সন্তানদের ছাড়িয়ে নাতি – নাতনীদের জন্যেও সংরক্ষণ রাখা হয়েছে। তাহলে মেধাবীদের জন্য থাকছে মাত্র ৪৪ শতাংশ। তাছাড়া ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের এমপি মন্ত্রী এবং উর্দ্ধতন সরকারী কর্মকর্তাদের টেলিফোনের জন্যেও ১৫Ñ২০ শতাংশ থেকে যায়। সাবেক তত্বাধায়ক সরকারের উপদেষ্টা জনাব আকবর আলী খান বলেছেন, ”মেধার চেয়ে কোটা বেশী বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের অন্য কোন দেশে নাই।” মুলত জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাগনই রাষ্ট্র পরিচালনা করে থাকেন। কোন রাজনৈতিক সরকারের কর্মসুচীর সফল বাস্তবায়ন এবং শাসন ব্যবস্থার মান উঠানামা নির্ভর করে এই সমস্ত কর্মকর্তাদের মেধা ,যোগ্যতা এবং দক্ষতার উপর। তাছাড়া বর্তমান প্রতিযোগিতামুলক বিশ্বে নিজেদের হিষ্যা বুঝে নেবার জন্যেও প্রয়োজন মেধার দাপট।কিন্তু কোটা ব্যাবস্থার কারনে নিয়োগ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে মেধাবীগন টিকে থাকতে পারছে না।এতদিন নিয়ম ছিল নির্দ্ধারিত কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে পদগুলি শুন্য থাকবে। এই নিয়মের কারনে গত কয়েকটি বিসিএস পরীক্ষায় কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়ায় প্রায় ছয় হাজার পদ শুন্য ছিল অর্থ্যাৎ বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ন ছয় হাজার মেধাবী চাকুরী বঞ্চিত হয়েছে।শুধু বিসিএস পরীক্ষায় নয় অন্যান্য সরকারী দপ্তর, ব্যংক, বীমা সহ স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান সমুহেও একই নিয়মের কারনে তাদেরও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে পারে নাই। ফলে স্বাভাবিক ভাবে কাজ করে তাদের প্রদেয় জনসেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে অন্যদিকে মেধাবীগনও চাকরী বঞ্চিত হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রায় ধ্বংশ প্রাপ্ত জাপান এবং জার্মান পরবর্তীতে সুদক্ষ জনবল তৈরী এবং তা কাজে লাগিয়ে আজ উন্নত এবং সমৃদ্ধশালী দেশে পরিনত হয়েছে। অন্যদিকে স্বাধীনতার ৪৬ বৎসর পরে উন্নয়নশীল বিশ্বের তালিকায় অন্তর্ভুক্তিকেই বিশাল অর্জন ধরে নিয়ে আমরা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে আনন্দ উল্লাস প্রকাশ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। আমাদের শিক্ষাব্যাবস্থায় রয়েছে চরম সিদ্ধান্তহীনতা এবং দুরদৃষ্টি সম্পন্ন পরিকল্পনা গ্রহনের ব্যর্থতা। আমাদের দেশের উৎপাদনশীল যে সব ক্ষেত্র রয়েছে বিশেষ করে বস্ত্র , তৈরী পোশাক, পাট, চামড়া, ইত্যাদি ক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল তৈরী হচ্ছে না বিধায় আমাদের দেশের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ করে শ্রীলংকা, ভারত ইত্যাদি দেশ থেকে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল আমদানি করা হচ্ছে। এতে আমাদের দেশের বিদেশে কর্মরত একশো জন শ্রমিকের অর্জিত বৈদেশিত মুদ্রা একজনের পিছনেই বিনিয়োগ করতে হচ্ছে।অথচ আমদের দেশের ইন্জিনিয়ার , ডাক্তার এবং অন্যান্য বিশ্ববিধ্যালয় থেকে পাশ করা মেধাবী ছাত্ররা কোটা ব্যাবস্থার কারনে দেশে টিকতে না পেরে আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া, জাপান, জার্মান সহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে পাড়ি জমাচ্ছে। আমার জানা মতে বুয়েট থেকে ২০০৯, ২০১০ এবং ২০১১ সালে কৃতিত্বের সাথে পাশ করা মেধাবী প্রকৌশলীগন দেশের প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে প্রথম জন অষ্ট্রেলিয়ায় এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় জন আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন। আমার দু:খ আমাদের দেশের মেধাবীদের গবেষনা বা শ্রম বিনিয়োগের জায়গা করে দিয়ে উন্নত বিশ্ব উন্নত থেকে উন্নতর হচ্ছে অথচ আমাদের দেশের নীতি নির্ধারকগন এসব বিষয়ে একবারেই উদাসীন। দীর্ঘ সময়ে এ দেশে বহু সরকার এসেছে গেছে কিন্তু কেউ এ বিষয়ে টু শব্দটি পর্যন্ত করে নাই। আমার ধারনায় এর পিছনে দুইটা কারন হতে পারে । প্রথমতঃ যেহেতু মুক্তিযোদ্ধাদের গণভিতিÍ আছে সেহেতু তাদের নিয়ে ঘাটলে জনপ্রিয়তায় টান ধরতে পারে। দ্বিতীয়তঃ তারা মেধাবীদের চরম ভয় পায় ; কারন তারা অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীদের ব্যবহার করে যত সহজে তাদের অনৈতিক এবং অবৈধ স্বার্থ হাসিল করতে পারবে, মেধাবীদের অত সহজে সম্ভব হবে না। আমরা কি কেউ চিন্তা করে দেখেছি এই সমস্ত মেধাবী ছাত্রদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে জনগনের অর্থ অর্থাৎ রাজস্ব থেকে কত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছ্ ে? আমাদের দুই দিক থেকেই লোকসান হচ্ছে । প্রথমতঃ অর্থ বিনিয়োগ, দ্বিতীয়তঃ তাদের অর্জিত জ্ঞান থেকে দেশ বা জাতি লাভবান হচ্ছে না।অবশ্য একজন মেধাবীকে নিয়োগ দিলেই সে ভাল, দক্ষ কর্মকর্তা হয়ে যাবে এমনটাও জোর দিয়ে বলা যায় না। তবে নিয়োগের পরে তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ,উপযুক্ত জায়গায় পদায়ন, প্রভাবমুক্ত পরিবেশে আইনানুগভাবে কাজ করার সুযোগ এবং সহায়ক তদারকীর মাধ্যমে তারা যোগ্য এবং দক্ষ কর্মকর্তা হতে পারেন। তবে দীর্ঘকাল ধরে গোড়াতেই অধিকতর মেধাবীদের বাদ দিয়ে কম মেধাবীদের নিয়োগ দিয়ে যে সমস্যার সৃষ্টি করা হচ্ছে তা কোন ভাবেই সংশোধন করা যাচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে বেসামরিক শাসন ব্যাবস্থার মান ক্রমান্বয়েই নি¤œমুখী হচ্ছে। প্রতিকার হিসাবে ব্যয়বহুল প্রশিক্ষণের কর্মসুচী নিলেও মেধার ঘাটতির কারনে অনেকেই তা গ্রহন বা লালন করতে পারছে না। এ নিয়ে উন্নয়ন সহযোগীগন উদ্বেগ প্রকাশ করে চলেছেন। তাছাড়াও গত ১৫ মার্চ্চ/১৮ তারিখে জাতিসংঘের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার ষিয়ক কমিটির বৈঠকে কমিটির সভাপতি পর্তুগালের মিসেস মারিয়া ভার্জিনিয়া ব্রাস গোমেজ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পৌষ্যদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে প্রশ্নবানে জর্জরিত করেন । এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর প্রয়াত ড: পি আই এস মুস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্যটি বেশ প্রণিধান যোগ্য। তিনি বলতেন, ” যদি কোন জাতিকে ধ্বংশ করতে চাও বিনা বিদ্যায় ডিগ্রির সনদ দাও আর অযোগ্য অদক্ষ লোক প্রশাসনের বড় চেয়ারে বসাও। মেধাশুন্য প্রশাসন জাতীকে অশ্বডিম্ব উপহার দেবে। দেশ পরিচালনায় মেধার কোন বিকল্প নাই। এই গোল্ডেন রুল সব রাজনীতিককে মেনে পলিসি করতে হবে রাজনীতি করতে হবে।” তবে দেশের যে কোন সচেতন নাগরিকই এটাকে ভোটের রাজনীতির খেলা হিসাবেই বিবেচনা করবে । কিন্তু দেশের সর্বনাশ করে এ ধরনের রাজনীতির খেলা মোটেই সমীচীন নয়।তাছাড়া কোটা ব্যাবস্থাটি সংবিধান সম্মতও নয়।সংবিধানের ১৯(১) ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্র প্রজাতন্ত্রেও সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। ২৯(১) ধারায় বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের চাকুরীতে সব নাগরিকের সমান অধিকার থাকবে। তবে ক্ষেত্র বিশেষে এর ব্যাত্যয় করার ব্যাবস্থাও আছে। সংবিধানের ২৯(২) ধারায় অনগ্রসর জনগোষ্টিকে এগিয়ে নেওয়ার এবং প্রজাতন্ত্রের চাকুরীতে তাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। এখানে প্রশ্ন কোটা সুবিধাপ্রাপ্ত গোষ্টিগুলি অনগ্রসর অংশ কিনা ? ইতিপুর্বে কোটা ব্যব¯্থা কতটুকু সংস্কার করা দরকার তা খতিয়ে দেখার জন্য বিজ্ঞ , প্রাজ্ঞ, অভিজ্ঞ এবং পন্ডিত ব্যাক্তিবর্গদের সমন্বয়ে তিনবার যেমন , ১/ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহম্মেদের নেতৃত্বে , ২/ সাবেক পাকিস্তানের কেন্দ্রিয় সচিব জনাব আব্দুর রশিদের নেতৃত্বে, ৩/ জনাব এ টি এম শাসুল হকের নেতৃত্বে গনশাসন সংস্কার কমিশন গঠিত হয় । সকল কমিশনই জাতীর বৃহত্তর স্বার্থে কোটা বাতিলের সুপারশি করেছেন । তবে কোন কোন বিশেষ ব্যাক্তি, নারী দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক এবং অনগ্রসর অংশ বিবেচনা করে তাদের এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য কিংবা সব মিলিয়ে সর্ব সাকুল্যে ১০ শতাংশ কোটা রাখার সুপারিশ করেছেন । তবে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান সন্ততি কিংবা নাতি নাতনীদের জন্য কোটা সংরক্ষন যুক্তিযুক্ত নয় বলে মতামত দিয়েছেন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহম্মদের মতে কোটা ব্যবস্থা মুক্তিযোদ্ধাদের অর্জিত সন্মান এবং বিশাল ত্যাগের মহিমাকে কালিমালিপ্ত করেছে।একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধার সন্তান জনাব আরেফিন শরীফ কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষালম্বন করে বলেছেন , ” আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা, তার হাতে এখনও স্পিলিন্টার আছে তিনি পাকিস্থান বহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন গনতান্ত্রিক, সামাজিক ন্যায়বিচার সম্পন্ন এবং বৈষম্যহীন সমাজের সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার জন্য , কোন কোটা বা ব্যাক্তিগত সুযোগ-সুবিধা গ্রহনের জন্য নয়।” অর্থ্যাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন , দেশ মাতৃকার স্বাধীনতার জন্য.জীবনবাজি রেখে পাকি¯তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে মুক্তিযোদ্ধারা ত্যাগের যে উজ্জল দৃষ্টান্ত বা মহিমার নিদর্শন রেখেছেন তা কোন ভাবেই সরকারী চাকুরীতে সন্তান -সন্ততি বা নাতি – নাতনির জন্য কোটার ব্যাবস্থা করে তা পরিশোধযোগ্য নয় বরং তা ত্যাগকে প্রশ্নবিদ্ধই করবে । তবে মুক্তিযোদ্ধাদের মহান ত্যাগ স্বীকার এবং তার প্রতি সন্মান প্রদর্শনের জন্য শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের স্ত্রীদের জন্য সরকার প্রদত্ত সন্মানি বা জীবনধারন ভাতা, আমৃত্যু চিকিৎসাসেবা , সরকারী পরিবহনে বিনা খরচে ভ্রমন ইত্যাদি প্রদেয় সুবিধা বহাল রাখা যেতে পারে ।

লেখক :- রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিষ্ট

LEAVE A REPLY