মো: সরওয়ারুজ্জামান মনা বিশ্বাস এর বাংলাদেশের শিক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে লেখা ” বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা : সফলতা ও ব্যর্থতা”

1
328
রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং কলামিষ্ট মো: সরওয়ারুজ্জামান মনা বিশ্বাস।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা : সফলতা ও ব্যর্থতা ।

মো: সরওয়ারুজ্জামান মনা বিশ্বাস।

দেশের শিক্ষা ব্যাবস্থা, শিক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষার মান, পরীক্ষার পদ্ধতি, প্রশ্ন পত্র ফাঁস ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সারা বছর ধরেই আলাপ আলোচনা, লেখালেখি এমন কি সভা সমাবেশ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং জাতীয় সংসদ র্পযন্ত আলোচনা হচ্ছে। পাবলিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই প্রশ্নপত্র ফাঁস দিয়ে যে আলোচনা শুরু হয় তা পরীক্ষা অবধি তো চলেই, ফলাফল প্রকাশ এবং পরবর্তী উচ্চ শ্রেনীতে ভর্তি পরীক্ষা পর্যন্তও চলতেই থাকে।কয়েক দিন আগে পত্রিকায় গত এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়িদ বলেছেন, প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার একটা মুল ব্যাপার পরীক্ষা আর পরীক্ষার মুল ব্যাপার হল প্রশ্নপত্র, সুতরাং প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে পরীক্ষার কোন মুল্য থাকে না আর পরীক্ষার মুল্য না থাকলে সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থাটাই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়। পরীক্ষা পদ্ধতি চালুই হয়েছিল একজন ছাত্র সারা বছর পঠন, অধ্যয়ন, অনুশীলণ এবং জ্ঞানচর্চা দ্বারা সে কতটুকু শিখল,জানল বা দক্ষতা, যোগ্যতা এবং জ্ঞান অর্জন করল তা পরিমাপ বা মুল্যায়ন করা । কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারনে তার যথাযথ মুল্যায়ন হয় না।পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর টেলিভিশন অন করলেই সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী. স্কুল কলেজের গভর্নিং বডির সদস্যবৃন্দ, ছাত্র ছাত্রী এবং অভিভাবক বৃন্দের আনন্দ উল্লাস বা উচ্ছাস দেখলে মনে হয় যেন সমগ্র দেশটিই আনন্দের জোয়ারে ভাসছে। কিন্তু পরর্বতী উচ্চতর শ্রেনীতে ভর্তির জন্য পরীক্ষায় যখন তারা মৌলিক কিছু বিষয়ে পাশ করতে পারে না তখন দেশের শিক্ষাবিদ, জ্ঞানী গুনি ব্যাক্তিবর্গ বর্তমান শিক্ষা ব্যাবস্থার বা শিক্ষা কারিকুলাম নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা আমলে তো নেনই না উপরন্ত ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এবং ব্যাবস্থাপনার ত্রুটি আলোচনা করে তা ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করেন। অথচ ঐ সমস্ত সমালোচকদের সমালোচনা আমলে নিয়ে ত্রুটি সমুহ নির্নয় এবং তা দুরীকরনের চেষ্টা করা হত তাহলে শিক্ষা ব্যাবস্থা, পরীক্ষা পদ্ধতি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সমগ্র জাতীর যে হতাশা তা নাও থাকতে পারত।এ দেশে কোন সন্তান যদি বিপথগামী হয় অর্থ্যাৎ খুন জখম, সন্ত্রাস, রাহাজানি,ছিনতাইকারী কিংবা জঙ্গী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত হয় তাহলে তার পিতা মাতা, ভাইবোন আত্মীয়স্বজনকে জবাবদিহীর আওতায় আনা হয় কিন্তু দেশে একটা সরকার, শিক্ষা মন্ত্রনালয় তার মন্ত্রী, সচিব, কর্মকর্তা, কর্মচারী থাকা সত্বেও পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস সহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজের দায় বহন করার কেউ নাই।সমগ্র সরকার ব্যাবস্থা যদি জনগনের কাছে দায়বদ্ধ না থাকে, তার একটি অংশ কোন বিষয়ে দায়বদ্ধ থাকবে তা প্রত্যাশা করাও উচিত নয়।
পদ্মার তীরে বাড়ী থাকার কারনে পদ্মার ইলিশ ছিল খাদ্য তালিকার অন্যতম উপাদান।তাছাড়া বর্ষাকালে খাল বিল, নদীনালা, পুকরে ছোট বড় রুই, কাতলা, মৃগেল সহ জিয়েল, মাগুর,পব্দা, কৈ, শৈল, টাকি, ভেদা,, টেংরা, পুঁটির প্রাকৃতিক উৎপাদন ছিল প্রচুর যা গ্রামের মানুষের চাহিদা অনায়াসে পুরন হত। এই সমস্ত মাছ খাওয়া ছাড়াও অতিরিক্ত মাছ শুকিয়ে শুটকি করা হত। আজকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের চাহিদা মেটানোর জন্য ইলিশ মাছ না পারলেও পুকুর জলাশয়ে কৃত্রিম বা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অন্যান্য মাছ প্রচুর পরিমানে উৎপাদন করা হচ্ছে।বয়স্ক মানুষ হিসাবে এটুকু বলা যায়, পুর্বের সেই সমস্ত মাছের স্বাদের সংগে বর্তমানের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত মাছের স্বাদের কত পার্থক্য।আমার এই লেখাটার উদ্দেশ্য হয়েছে, পুর্বতন শিক্ষিত মানুষের চালচলন, কথাবার্তা, সভ্যতা,ভদ্রতা, জ্ঞানগরিমা, বিজ্ঞতা, ব্যাক্তিত্ব, সততা, ন্যায়পরায়নতা,. নীতি নৈতিকতা এবং সর্বোপরি সামাজিক ভাবে গ্রহনযোগ্যতার সাথে আধুনিক কালের শিক্ষিত মানুষের পার্থক্য নিরুপন করা।
একটা সময়ে গ্রামাঞ্চলে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা ছিল নিতান্তই কম। দুই চার দশ গ্রামের মধ্যে দুই একটা পরিবারে দুই একজন শিক্ষিত মানুষ পাওয়া যেত। ঐ ব্যক্তিগন উপরোল্লিখিত গুনাবলি ছাড়াও মনোজগত এবং আচরনগত বৈশিষ্টে এতই সমৃদ্ধ ছিলেন যে তাঁরা সন্দেহাতিত ভাবে এলাকায় সবচেয়ে সন্মানিত, গ্রহনযোগ্য এবং আলোকিত মানুষ হিসাবে বিবেচিত হতেন। এলাকার উন্নয়ন,খেলাধুলা,সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা, নাটক মঞ্চায়ন, আবৃত্তি অনুষ্ঠান সব কিছুতেই ছিল তাদের উৎসাহ উদ্দীপনা, প্রত্যক্ষ পরোক্ষ সহযোগিতা এবং সম্পৃক্ততা।এলাকায় যে ছোট খাটো সমস্যা ছিল না তা নয়, তবে এ ধরনের কোন সমস্যা সৃষ্টি হলে, তাদের প্রজ্ঞা এবং মেধা দিয়েই তার সমাধান হত।সেই সময়ে গ্রামে অভাব অভিযোগও যথেষ্ট ছিল। কিন্তু মানুষ খাওয়া পরা যাই হউক সবাই যেন সহমর্মিতা ও সহানুভুতিশীল হয়ে একে অপরের সুখে দু:খে একাত্মতা প্রকাশ করে নিরিবিলি সুখে শান্তিতে বসবাস করতেন।
আজ থেকে ১৫/২০ বৎসর পুর্বে যে গ্রামে একজন শিক্ষিত লোক পাওয়া যেত না সেই গ্রামে আজ ৫/১০ অনার্স/মাষ্টার্স পড়–য়া বা পাশ করা ছাত্রছাত্রী বা মানুষ পাওয়া যায়।অথচ এই সমস্ত লোকের কারনে এলাকার বা সমাজের যে মৌলিক কোন উন্নতি হয়েছে তা নয় বরং অধ:পতন হয়েছে যথেষ্ট। মানুষের মধ্যে ভাতৃত্ববোধ, একে অপরের প্রতি সহযোগিতা, সহমর্মিতা,সহানুভুতি, সুখে দু:খে সাথী হবার আবহমান কালের ঐতিহ্য নষ্ট হয়েছে উপরোন্ত পারিবারিক বা সামাজিক সম্পর্কের যে বাঁধন ছিল তা যেন ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে একটা বিশৃংখল ও অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। এই অবস্থায় সমাজের শিক্ষিত জনগোষ্ঠির যে কর্মতৎপরতা এবং দায়িত্বশীলতা থাক্ার কথা তা কোন ভাবেই পরিলক্ষিত হচ্ছে না।উপরোন্ত তাদের শিক্ষালব্ধ জ্ঞান ও উদার মানসিকতার অভাব, ব্যাক্তিকেন্দ্রিক বা আত্মকেন্দ্রিক দৃষ্টি ভংগি, ন্যায়পরায়নতা ও মানবিক গুনাবলির অভাব যেন অবস্থাটাকে আরও উসকে দিচ্ছে। এর সংগে যুক্ত হয়েছে তৃনমুল পর্যায়ের রাজনৈতিক দলের নেতা এবং কর্মীবৃন্দের অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং বিশৃংখল কর্মকান্ড।
জনসংখ্যা বৃদ্ধিও সাথে সাথে শুধুমাত্র চাহিদা পুরনের জন্য মানুষের স্বা¯েথ্যর জন্য ক্ষতিকর দ্রব্যাদি মাছের খাদ্য হিসাবে প্রয়োগ করে বানিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পুকুর জলাশয়ে ব্যাপক মাছের চাষ হচ্ছে সেখানে মাছের মৌলিক গুনাবলী, স্বাদ, গন্ধ এবং মানুষের ¯¦াস্থ্যের জন্য উপযোগী কিনা তা যেমন আমলে নেওয়া হচ্ছে না তা ছাড়া হাস, মুরগী, ছাগল, গরুর খামার করে রাসায়নিক দ্রব্য সম্বলিত কৃত্রিম খাদ্য ব্যবহার করে বানিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ করছে যা মানুষের স্বাস্থের জন্য উপযোগী না ক্ষতিকর তা যেমন আমলে নেওয়া হচ্ছে না তেমনি শিক্ষা ক্ষেত্রে তেমনি শিক্ষাকে পন্য হিসাবে ব্যাবহার করে ব্যাপক জনগোষ্টিকে শিক্ষিত করার উদগ্র বাসনায় পাবলিক পরীক্ষায় ছাত্র ছাত্রী পাশ করানো হচ্ছে কিন্তু তাতে শিক্ষিত মানুষ হিসাবে চারিত্রিক বৈশিষ্ট এবং মৌলিক গুনাবলী সংরক্ষিত হচ্ছে কিনা তা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না।
আজ থেকে প্রায় পনের শত বৎসর পুর্বে আমাদের রাসুলে পাক (সা:)ইসলাম ধর্মের প্রবর্তন করেন। তাঁর প্রবর্তিত এবং প্রচারতি ধর্ম ইসলাম গ্রহন করে তাঁর নির্দেশিত পথে জীবনাচার পরিচালনা এবং ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান প্রতিপালন করে আইয়ামে জাহেলিয়াতের আরব জাতি সভ্য জাতিতে পরিণত হয়েছিল। রাসুল (সা:) এবং তৎপরবর্তীকালে খোলাফায়ে রাশেদিন গনের আমলে ইসলাম সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম এবং মুসলমানগন বিশ্বের সবচেয়ে সভ্য এবং সন্মানিত জাতী সম্প্রদায় বলে বিবেচিত হতেন । আজকে একই ধর্ম বা ধর্মাচার পালন করে আমরা কেন অধ:পতনের দিকে যাচ্ছি।কেন ইসলাম এবং মুসলমানগন বিশ্বে আতংকের নামে পরিনত হয়েছে। কারন একটাই তা হল রাসুল (সা:) এবং খোলাফায়ে রাশেদিনগনের আমলে ইসলামে প্রান ছিল আজকে যা অনুপস্থিত।অর্থাৎ সে সময় ইসলামের এলমে তাসাউফের অনুশীলন বা চর্চা হত, আজকে তা নাই। প্রানহীন দেহ যেমন জড় পদার্থে পরিনত হয়, কোন অনুভুতি প্রকাশ করতে পারে না, তেমনি প্রানহীন ইসলাম সত্যের আলো বিতরন করতে পারে না। বিধায় ইসলামের আলো গ্রহন করে চরিত্রবান এবং সুসভ্য মানুষ হিসাবে আমরা নিজেদের প্রকাশ এবং প্রমান করতে ব্যর্থ হচ্ছি। অনুরুপ আজকের শিক্ষা ব্যাবস্থায়ও কোন প্রান নেই।আসলে শিক্ষা ব্যাবস্থার প্রান বলতে সাধারনত: নীতি, নৈতিকতা এবং নান্দনিকতাপুর্ন জ্ঞানচর্চাকে বোঝায় যা আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থায় অনুপস্থিত ্ যেখানে কোন শিক্ষার্থী নাই আছে শ্ধু পরীক্ষার্থী সেখানে তো জ্ঞানচর্চার প্রশ্নই উঠে না। একজন ছাত্র ছাত্রী যে কোন শ্রেনীতে ভর্তি হবার পরেই শিক্ষক, অভিভাবক উভয়েই ভাল ফলাফল করানোর জন্য তাকে প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দেয়। মনে হয় শিক্ষা মানেই যেন ভাল ফলাফল বা ডিগ্রি । কবি গুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর বলেছিলেন,” শিশুকে সঞ্চয় এবং সংগ্রহ করতে দাও”। অর্থাৎ শিশু বা ছাত্র ছাত্রী পাঠ বা সহ পাঠ থেকে জ্ঞান সংগ্রহ করবে আর তা অনুশীলনের জন্য সঞ্চয় করবে।কারন সে কেবল মাত্র জ্ঞানের অনুশীলনের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারনা,অন্যান্যের সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টির কৌশল, দক্ষতা, রুচি,ব্যবহার,আচার আচরন, চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা, নান্দনিকবোধ সহ নানাবিধ মানবিক গুনাবলী অর্জন করবে। অনুশীলনের জন্য সময়ের প্রয়োজন, কিন্তু অত সময় কোথায়।পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করতে হবে, গোল্ডেন অ+,অ পেতে হবে। ছাত্র শিক্ষককে প্রশ্ন খুজতে হবে উত্তর তৈয়ারী করতে হবে। আবার এই অবস্থার জন্য একক ভাবে কাউকে দোষারোপ করার ব্যাপার নয়।আসলে শিক্ষা কারিকুলামটাকেই এ ভাবে সাজানো হয়েছে।সৃজনশীলতার নামে অপ্রয়োজনীয় এবং সামঞ্জস্যহীন অনেক বিষয়ই বিভিন্ন শ্রেনীর সিলেবাসে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।ছাত্র শিক্ষক উভয়েই বুঝে না বুঝে পরীক্ষায় ভাল নম¦র পাবার আশায় গলধকরন করছে আর করাচ্ছে এবং পরীক্ষার খাতায় গিয়ে উগলে দিচ্ছে। আবার বিদ্যালয় সমুহ গলধকরনে ব্যর্থ হলে ছাত্র ছাত্রীদের কোচিং সেন্টারে দেওয়া হচ্ছে।কোচিং সেন্টার সমুহ শুধু গলধকরনই করাচ্ছে না, ভাল ফলাফলের জন্য পরীক্ষায় পারঙ্গম করতে একের পর এক শুধু মডেল টেষ্ট নিয়ে যাচ্ছে র্আ ছাত্র ছাত্রীরা তা নিয়েই ব্যস্ত থাকছে।ফলশ্রুতিতে তারা হাঁপিয়ে উঠছে এবং জ্ঞান সংগ্রহ ও সঞ্চয়ে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। অর্থ্যাৎ সময়ের কারনেই ছাত্র ছাত্রীরা জ্ঞান আহরন, সঞ্চয় এবং অনুশীলনের অভাবে তারা নিজেকে শিক্ষিত , জ্ঞানী এবং যোগ্য নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে পারছে না।সুতরাং জ্ঞানচর্চাকে উপেক্ষ্ াকরে শুধুমাত্র কিছু প্রশ্ন ও উত্তর গলধকরন করে পরীক্ষার খাতায় তা উগলে দেওয়া ছাত্ররা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে সংশ্লিষ্ট ছাত্র ছাত্রীরা নৈতিকতার যে স্তরে নামছে তাতে তারা যত উচ্চতর ডিগ্রিই লাভ করুক না কেন তাদেরকে দিয়ে সমাজ ও দেশ আলোকিত করার জাতীর যে প্রত্যাশা তা কি কোন ভাবেই পুরন হওয়া সম্ভব?
সাবেক পুর্ব পাকিস্তানে আতাউর রহমানের মুখ্যমন্ত্রিত্বের অধীনে আবুল মনসুর আহম্মেদ শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালে শিক্ষাবিদদের ডেকে বলেছিলেন,” পরীক্ষার উদ্দেশ্য তো আসলে এই যে আমরা বছর দীঘালী ছাত্রদেরে যা পড়াইলাম,তা তারা পড়িয়াছে বুঝিয়াছে কিনা তা টেষ্ট করা।তার বদলে আমরা ছাত্রদেরে না পড়াইয়াই, শুধু কিছু পুস্তক পাঠ্য তালিকাভুক্ত করিয়াই, সেই সব পুস্তক হইতে, অনেক সময় সেই সব পুস্তকের বাহির হইতেও প্রশ্ন করিয়া ছাত্রদের বিদ্যা পরখ করিতে চাই, তবে সেটা পরীক্ষা হয় না, হয় অবিচার।”( আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর)।যদিও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সবার কাজে লাগে তা নয় তথাপিও যাদের কাজে লাগে বিশেষ করে ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ তারা যদি প্রকৃত শিক্ষা অর্জন না করে তাহলে রুগীর মৃত্যু,দালানকোঠা, সেতু ধ্বসে পড়া এবং অনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর,” একটি প্রাচ্য দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়” বইতে লিখেছেন, ” শিক্ষকদের আত্ম আলোকিত হতে হবে শিক্ষার্থীদের আলোকিত করার জন্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলির প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল অবিরতভাবে সত্যকে অনুসরন করা।শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সত্যের উচ্চাকাঙ্খা ও সংস্কৃতির আনন্দ ভাগাভাগির মাধ্যমে একই মনমানসিকতা নিয়ে বসবাস করা উচিত”।‘
লেখক:- রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং কলামিষ্ট।

1 COMMENT

  1. ভাই, আপনার পোস্টের বিষয়-বস্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে অতীব গুরুত্বপুর্ণ তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ছোট পরিসরে দু’চার কথায় মন্তব্য করে আলোচনা শেষ করবার মত বিষয়ও এটি নয় বলে মনে করি। আমি শুধু বলতে চাই – আমাদের দেশে এখন সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে রাজনৈতিক বিভাজ চলছে খুবই জোরেশোরে ও দ্রুতগতিতে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থা প্রায় ধ্বংসই হয়ে গেছে – এজন্য শিক্ষকদের অযোগ্যতা, নীতি-আদর্শহীনতা উপরন্তু রাজনীতিমুখিনতার প্রভাব ছাত্র-ছাত্রীদেরকেও গ্রাস করে ফেলেছে। এসব আদর্শহীন শিক্ষকরা কখনও তার ছাত্রদেরকে আদর্শের কথা বলবে না, কিভাবে আদর্শের বাইরে গিয়ে লাভবান হওয়া যায় সেটিই বলবে। ছাত্ররা স্কুল পেরিয়ে যখন কলেজে যায় তখন বড়ভাইদের সংস্পর্শে আসে, তাদের নানা কুপরামর্শ বাস্তবায়নে নতুনদের কাজে লাগাতে কিভাবে আরো সাহসী হওয়া যায়, কিভাবে একটা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের দখল পাওয়া যায় সেগুলোর সন্ধান দেওয়া হয়। ক্লাসের সেরা ছাত্ররাও দেখা যায় একসময় পরিবেশের প্রভাবে পথ থেকে বিপথে চলে যায়। তাদের অন্তর থেকে শিক্ষা গ্রহণের আকাঙ্ক্ষা নিজের অজান্তেই তখন উবে যেতে থাকে। তাই ভাল শিক্ষকের সাহচর্যের বদলে বড়ভাইদের আকর্ষণটাই তখন বড় হয়ে দেখা দেয়।

    আইউব খাঁ’র আমলে জাতীয় ছাত্র ফেডারেশন বা এনএসএফ যেমন সরকারি মদদে রাজনৈতিক গুণ্ডাবাহিনীর পরিচিতি পায় হাল আমলে সামনের সারির প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের মধ্যেই অনুরূপ চরিত্রই আমরা প্রত্যক্ষ করি। এসবের সাথে নতুন আপদ যুক্ত হয়েছে‘মাদক’। সারাদেশে মাদকের আমদানিকারক, সরবরাহকারী, বিক্রেতা ও ব্যবহারকারী কারা তা দেশের মানুষ জানে। কিন্তু জানলেও এখন বিহিত করবার সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। ভ্রষ্ঠদেরকে আর কে ফেরাবে?

    আমরা যত কথাই বলি না কেন, সমাজের এই দুর্গতি দূর করে সুস্থ্য ও স্বাভাবিক করা হয়তো এখন আর কারো পক্ষেই সহজ হবে না।

LEAVE A REPLY