মো: সরওয়ারুজ্জামান মনা বিশ্বাস এর বিশ্লেষণ ধর্মী সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে লেখা ” বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলন ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে”

0
321

বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলন ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে।

মো: সরওয়ারুজ্জামান মনা বিশ্বাস

গত ৮ ফেব্রুয়ারী/১৮ জিয়া অর্ফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় মাননীয় আদালত সাবেক প্রধান মন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের স্বশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে কারাগারে প্রেরন করেন। মামলাটির শুনানি শুরুর পর থেকেই সরকারের এমপি. মনÍ্রী এমন কি শীর্ষ পর্যায় থেকে যে সব বক্তব্য বিবৃতি প্রদান করা হচ্ছিল তাতে প্রায় সব মহলেই একটা ধারনা জন্মে ছিল যে মামলায় বেগম জিয়ার সাজা হচ্ছে। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিলেন বেগম জিয়া নিজে ।তাঁর কথা বার্তায় মনে হচ্ছিল যে তিনি আদালতের ন্যায় বিচারে মামলার অভিযোগ থেকে মুক্তি পাবেন। তাঁর এই ধারনাটা পরিস্কার হয় যখন বিএপির কয়েক জন জোষ্ঠ নেতৃবৃন্দ মামলার বিষয় নিয়ে বক্তব্য বিবৃতি প্রদান করেন তখন তিনি তাঁদের এ ধরনের বক্তব্য বিবৃতি প্রদান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।কিন্তু হঠাৎ করে মাননীয় আদালত কয়েক জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহনের আবেদন নাকচ করে ৮ তারিখে রায় ঘোষনা করার দিন ধার্য এবং সে সময় কিছু মন্ত্রী , প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য বিবৃতি, আইন শৃংখলা বাহিনীর তৎপরতা, বিএনপি নেতা কর্মিদের ধরপাকড় ইত্যাদিতে অন্যান্যদের সংগে বেগম জিয়াও ধারনা করলেন যে তার মামলায় সাজা হচ্ছে।

তাই তিনি জেলখানায় যাবার পর উদ্ভুত রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পার্টি, রাজনীতি, নেতৃত্ব, আন্দোলনের প্রকৃতি ও কৌশল ,কর্মসুচী এবং সর্বোপরি করনীয় নির্দ্ধারনের জন্য ষ্টিয়ারিং কমিটির সাথে সিরিজ বৈঠক ছাড়াও, সভাপতি ও সম্পাদক মন্ডলী, বিশ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ এবং সমাজের কয়েক জন বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের সাথে আলোচনা করে কিছু গুরুত্ব পুর্ন সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। পরবর্তী কালের নির্ব্বাহী কমিটির বৈঠকে উক্ত সিদ্ধান্তবলীর আলোকে তিনি পার্টির ঐক্যকে সুসংহত রাখা, শান্তিপুর্ন ভাবে নিয়মাতান্ত্রিক আন্দোলন করা, সরকারের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে জনগনের জন্য কষ্টকর বা দুর্ভোগ হতে পারে এমন কোন বিশৃংখলা সৃষ্টি না করা এবং সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত ধৈর্য ও সহিঞ্চতা প্রদর্শনের জন্য নেতা কর্মীদের নির্দেশ দেন।এ সমস্ত সিদ্ধান্ত বলী সব মহলেই বেশ প্রসংশিত হয়েছিল।বেগম জিয়া জেলে যাবার পর বর্তমান নেতৃত্ব অবস্থান ধর্মঘট, গনঅনশন, মানব বন্ধন,গন¯া^াক্ষর গ্রহন ইত্যাদি কর্মসুচী প্রনয়ন এবং পুলিশী বাধা সত্বেও ব্যাপক জনগনের স্বতস্ফুর্ত উপস্থিতির মাধ্যমে সফল বাস্তবায়ন করেছিলেন। যদি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এর সফলতা অনেক কম। এ সব কর্মসুচীর মাধ্যমে বেগম জিয়া এবং বিএনপির প্রতি মানুষের সমর্থন, সহানুভুতি এবং সহমর্মিতা বৃদ্ধি নিয়ে নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের সাথে আমার কঠিন দ্বিমত আছে। কারন একজন গৃহ বধু হিসাবে পার্টি, রাজনীতি এবং দেশ ও জনগনের কঠিন ক্রান্তিকালে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হবার পর থেকে কোন সময় বেগম জিয়ার প্রতি জনগনের আস্থা, সমর্থন, সহানুভুতির কমতি বা ঘাটতি হয়েছে এমন কোন নজির বা উদাহরন আমার জানা নাই। তবে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় যাওয়া কিংবা না যাওয়ার বিষয়টি মুলত জনগনের মাঠের রাজনীতির ভারসাম্য রক্ষার কৌশল থেকে ঘটেছে। এতে ব্যাক্তি বেগম জিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা, সন্মান বা সমর্থনের ব্যাত্যয় হয়েছে এমন ধারনার সুযোগ নেই। বর্তমান সরকারের দুই দফায় ক্ষমতায় আসার পর ”আগে উন্নয়ন পরে গনতন্ত্রে” এই স্লোগানের আড়ালে সীমিত গনতন্ত্রের অনশীলন বা চর্চার কারনে পুলিশী বাধা এবং রাজনৈতিক ক্যাডারদের তান্ডবের মধ্যেও বেগম জিয়া যখন যে বাজনৈতিক কর্মসুচীতে উপস্থিত হয়েছেন সেখানেই সাধারন মানুষের অংশ গ্রহনের কোন কমতি ছিল না । বিশেষ করে জিয়া অর্ফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় হাজিরা কালে বিশেষ করে মামলার রায় ঘোষনার দিনে তাঁর গাড়ী বহরে সতস্ফুর্ত জনতার অংশ গ্রহন এবং যাত্রা পথের দৃশ্য ছিল অভাবনীয় এবং কল্পনাতীত। এ সবই ছিল বেগম জিয়ার প্রতি মানুষের সমর্থন এবং সহানুভুতির বহি:প্রকাশ। শুনেছিলাম ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর ধানমন্ডি থেকে জনতার ভীড় ঠেলে গনভবনে যেতে নাকি সময় লাগত দুই থেকে আড়াই ঘন্টা ।তাছাড়া বেগম জিয়ার মামলার রায় ঘোষনার আগে এবং পরে জনতার কন্ঠে কবিতার ছন্দে ছন্দে ” আমার নেত্রী আমার মা, জেলে যেতে দেব না” এবং ”আমার নেত্রী আমার মা, জেলে থাকতে দেব না” স্লোগান ছিল সাধারন মানুষের হ্রদয়ের অভ্যন্তর থেকে বেরিয়ে আসা আবেগ অনুভুতির বহি:প্রকাশ। আমার মনে হচ্ছে স্লোগানটি সারা বাংলাদেশে মানুষের কন্ঠে কন্ঠে ধ্বনি প্রতিধ¦নিত হয়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে । অবশ্য আন্দোলনের ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে কিছু কিছু স্লোগান বা বক্তব্যের অংশবিশেষ চরম জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। যেমন ১৯৪৬/৪৭ সালে পাকিস্থান আন্দোলনের প্রাক্কালে ” কানে বিড়ি মুখে পান, লড়কে লেঙ্গে পাকিস্থান”, ১৯৪৮ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত ভারতীয় কমিউনিষ্ট পার্টির কংগ্রেসে পার্টির সম্পাদক বিটি রনদীবের বক্তব্যের বিখ্যাত উক্তি ” ইয়া আজাদী ঝুঠা হ্যায়,লাখো ইনসান ভুখা হ্যায়,সাচ আজাদী ছিনকে লও”, ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ”রাষট্রভাষা বাংলা চাই”, ১৯৫৫ সালের ২০ শে সেপ্টেম্বর পাকিস্থান গন পরিষদে বঙ্গবন্ধুর ভাষনের অংশ ”জুলুম মাৎ কর ভাই, এয়ছা দিন নেহী রাহেগা”, ১৯৭০/৭১ সালের ”জয় বাংলা” ইত্যাদি। তবে জয় বাংলা স্লোগানটি বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে ভারতে বিশেষ করে পশ্চিম বাংলায়ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। ১৯৭১ সালে পশ্চিম বাংলায় আমাদেরকে বাংলাদেশের লোক বলা হত না, বলা হত জয় বাংলার লোক অর্থাৎ জয় বাংলা যেন ছিল বাংলাদেশ নামের প্রতিশব্দ । সেখানে জয় বাংলার লোকদের বেশ খাতিরও করা হত । আমার কলকাতায় থাকাকালে বাসে ,ট্রেনে , ট্রামে কোন ভাড়া লাগত না . শুধু বলা লাগত জয় বাংলার লোক। এমন কি আমাদের হোটেল , রেস্তোরায়ও বেশ খাতির করা হত । তবে কলকাতায় দুই একটা মুসলিম পরিবারের লোকের সাথে আলাপ কালে তাদের কিছু বিরক্তির ভাবও আমি লক্ষ্য করেছিলাম। যা হউক, মুল কথায় আসা যাক। সুতরাং চলমান গনতান্ত্রিক আন্দোলনকে আমি ইতিবাচক হিসাবে ধরে নিয়েও বলতে চাই এই কর্মসুচীর মাধ্যমে নতুন করে বেগম জিয়ার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কিছু নাই। তবে আন্দোলনের অন্য আর একটি লক্ষ্য জনগনকে সচেতন করে আগামীতে বেগম জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন সময়ে সহায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবী আদায়ের বৃহত্তর আন্দোলনে শরিক করা । এই লক্ষ্যটিও আলোচনা বা ব্যাখ্যা বিশ্লেষনের দাবী রাখে । কারন আন্দোলনে জনগনকে আহবান করলেই জনগন শরিক হয়ে যাবে আবার জনগন শরিক হলেই তা সফল হবে এমন তথ্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংগঠিত আন্দোলন, সংগ্রাম বা বিপ্লবের ইতিহাস দেয় না। আন্দোলন সফলের জন্য কয়েকটি উপাদানের মধ্যে জনগনের সমর্থন বা অংশগ্রহন মাত্র একটি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় । তাদের জনসমর্থন . স্ংগাঠনিক অবকাঠামো, রাজনৈতিক দুরদর্শিতা, কুট কৌশল এবং রাষ্ট্রিয় ক্ষমতা , সব মিলিয়ে তাদের যে সক্ষমতা অন্যদিকে বিশিষ্ট রাষ্ট্র বিজ্ঞানী লিপসনের লেখা একটি বিখ্যাত বই ”গ্রেট ইসুজ অব পলিটিক্স” এর একটি উক্তি ” আইন দিয়ে রাজনীতি পরিচালিত হয় না, বরং রাজনীতিই আইনকে নিযন্ত্রন করে” হঠাৎ মনে পড়ে গেল, অতএব যে কোন ধরনের হটকারিতা বা বিশৃংখলা এড়িয়ে লক্ষে পৌঁছানোর জন্য এ সব বিষয গুলি মাথায় নিয়েই বিএনপি নেতৃত্বকে অগ্রসর হতে হবে । তবে আমার এ সব কিছু লেখার উদ্দেশ্য আগামী আন্দোলন থেকে বিএনপি কে বিমুখ, বিচ্যুত বা হতাশাগ্রস্থ করা নয় বরং আমার লক্ষ্য আগামী আন্দোলন সফল করতে বিএনপির যে ঘাটতি রয়েছে সে বিষয়ে আমার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতায় থেকেই কিছুটা আলোকপাত করা।একটি সফল আন্দোলনের আর একটি অপরিহার্য্য উপাদান হচ্ছে আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী রাজনৈতিক দলের তৃনমুল সহ সর্বস্তরে সুদৃঢ় সাংগাঠনিক অবকাঠামো ,যা মুলত জনগনকে উদ্বুদ্ধ এবং সংগঠিত করে আন্দোলন, সংগ্রাম কিংবা নির্বাচনের মাঠে কাজে লাগায়। এমন তথ্য কি কেউ দিতে পারবেন যে বিএনপির পৌর কিংবা উপজেলা নয় কয়টি জেলায় কাউন্সিলের মাধ্যমে গনতান্ত্রিক উপায়ে কর্মীদের আস্থাভাজন নেতা নির্বাচন করা হয়েছে । আমার জানা মতে অধিকাংশ জেলায় কেন্দ্রের প্রভাবশালী নেতাদের সুপারশি ক্রমে কিছু ব্যাক্তিকে নিয়োগ দিয়ে নেতা বানানো হয়েছে যাদের উপর মাঠের প্রকৃত রাজনৈতিক কর্মীদের আস্থা নাই সুতরাং সেই সব নেতাদেও উপর আস্থা রেখে জনগন মাঠে নেবে যাবে এমন কিছু ভাবা কি যৌক্তিক। তবে বর্তমান স্পর্শকাতর সময়ে এ সব কিছু চিন্তা করা বা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত ঝুকিপুর্ন বা দুরুহ কাজ বটে। তারপরেও চলমান আন্দোলনের সংগে এ বিষয়টিও মাথায় নিয়ে সুকৌশলে আগাতে হবে অন্যথায় ফলাফল খুব একটা শুভ হবে বলে মনে হয় না। বিএনপির সাংগাঠনিক অবস্থা, আন্দোলনের গতিধারা এবং সরকারের মানসিকতা বা রাজনৈতিক কৌশল বিশ্লেষন করলে সহজেই অনুমান করা যায় যে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি তো নয়ই বরং নির্বাচনের পুর্বে বিএনপির আরও কিছু দায়িত্বশীল সিনিয়র নেতার অন্তরীন হওয়া অস্বাভাবিক নয় । আবার নির্বাচনের আগে বাস্তবতা এমনও হতে পারে যে বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহন করা ছাড়া গত্যন্তর থাকছে না সুতরাং বিএনপিকে আন্দোলন এবং নির্বাচন উভয়কেই মাথায় নিয়ে আগাতে হবে ।আওয়ামী লীগ বা বিএনপির মত বৃহত্তর রাজনৈতিক দলে অনÍর্দ্বন্দ, বিশৃংখলা বা সংঘাত স্বাভাবিক ঘটনা বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলে সে সংকট থাকে আরও প্রকট। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সে ধরনের সংকট থেকে মুক্ত আছে তা বলা যায় না।তাছাড়া বতর্’মান সরকার পর পর দুই দফায় ক্ষমতায় এসে উন্নয়নের অনেক বড় ফিরিস্তির কথা বললেও গনতন্ত্র অনুশীলনের বা চর্চার ক্ষেত্র সংকুচিত করায় সে সব কিছু মানুষের মনে খুব একটা দাগ কাটে নাই। মানুষ স্বভাবজাত ভাবে শুধু খেয়ে পরে তুষ্ট থাকতে চায় না , তারা কথা বলার, মুক্ত চিন্তা করার, মুক্ত বুদ্ধির চর্চার স্বাধীনতা চায় এমন কি তারা নেতৃত্বের প্রেিযাগিতায় অংশ গ্রহন করে নেতাও হতে চায় ।এই সমস্ত প্রত্যাশা যদি মানুষের না থাকত তাহলে জেলখানায় থেকে তারা নিশ্চিন্তায় খেত আর ঘুমাত।বর্তূমান সময়ে সীমিত গনতন্ত্রের কারনে ঐ সমস্ত সুযোগ না পাওয়ার কারনে মানুষের মনে অসন্তুষ্টি আছে বিধায় সরকারের ভাবমুর্তিরও সংকট আছে। বিএনপিকে যদি নির্বাচনে আসতেই হয় তাহলে নির্বাচনকালিন সময়ে প্রতিপক্ষ দলের ভাবমুর্তি এবং দলীয় সংকট গুলিকে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে। আর তা কাজে লাগাতে তৃনমুল পর্যায়েও দক্ষ, যোগ্য এবং আস্থাভাজন নেতার নেতৃত্বে সাংগাঠনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরী আর তা না পারলেও প্রতিটা ইউনিটে ছোট্ট পরিসরে উপদেষ্ট পরিষদ বা রাজনীতি পরিচালনা পরিষদ গঠন করে আপদ কালিন সময় পার করা যায় কিনা তা চিন্তা করে দেখা যেতে পারে। সুতরাং বিএনপিকে অবশ্যই আন্দোলনকে মুখ্য করে আন্দোলন ও নির্বাচন উভয় বিষয়কেই মাথায় নিয়ে আগাতে হবে।
লেখক:- রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং কলামিষ্ট।

LEAVE A REPLY