রাজনৈতিক দলে এখন নতুন প্রজন্মের উত্থান সুনিশ্চিৎ হবে – জাকারিয়া পিন্টু

0
1529
মোঃ জাকারিয়া পিন্টু

মোঃ জাকারিয়া পিন্টু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সততা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেমের আদর্শে অনুপ্রাণীত হয়ে মাধ্যমিক স্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদানের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতি শুরু করে। ১৯৮৬ইং সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে প্রথম এরশাদ বিরোধী ৪৮ ঘন্টা হরতালসহ এরশাদ বিরোধী পুরো আন্দোলনেই রাজপথে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন এবং এখন পর্যন্ত দেশনেত্রীর নেতৃত্বে সকল আন্দোলন সংগ্রামে শহীদ জিয়ার সৈনিক হিসাবে রাজপথে লড়াই করছে।

বিগত ১৯৮৮ইং সালে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের অনুমোদিত কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছে। ১৯৯২ইং সালে ঈশ্বরদী পৌর ছাত্র দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়। ১৯৯৪-৯৫ইং সালে ঈশ্বরদী সরকারী কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের পক্ষ থেকে এ জি এস নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৫-৯৬ইং সালে জি এস হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ইং সালে ঈশ্বরদী থানা ছাত্র দলের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

২০০০ইং সালে ঈশ্বরদী থানা ছাত্র দলের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ইং সালে ঈশ্বরদী থানা বি এন পি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৯ইং সালে সম্মেলনের মাধ্যমে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে ঈশ্বরদী পৌর বি এন পি’র সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছে।
২০১৪ সালে উপজেলা নির্বাচনে প্রায় ৪০,০০০ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌছানোর পরেও সূক্ষ্ম কারচুপির কারণে তিনি বিজয়ী হতে পারেন নি। বর্তমানে আন্দোলনে সক্রিয় ভুমিকা পালন করায় ৩৯ (উনচল্লিশ) টি মামলা মাথায় নিয়ে পাবনা জেলা বি এন পি’র যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক ও ঈশ্বরদী পৌর বি এন পি’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

[বিএনপির রাজনীতিতে অনেক ত্যাগী নেতা রয়েছে, ফলে দলের ভেতর এখন সমঝোতার নব্যধারা প্রবাহিত হয়ে চলেছে। স্থানীয় রাজনীতি তার স্থির অবস্থানকে স্থায়ী রুপ দিতে চায় বলে বি.এন.পি দলের অনেক নেতার মন্তব্য শোনা যায়। তাই এই বিতর্কের পটভূমিকে কেন্দ্র করে জাকারিয়া পিন্টুর একান্ত সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন দৈনিক আলাপের উপ-সম্পাদক আরাফাত বিন আশিক ]

প্রশ্ন :দল হিসাবে বি.এন.পিতে আপনার যোগ্যতা এখন কতটা নির্বাচন মুখি বলে আপনি মনে করেন ?

উত্তর : বিগত উপজেলা নির্বাচনে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও প্রাপ্ত ভোটের ফলাফলের উপর দলের হাই কমান্ড ও জনগণই এই বিচার করতে পারে। কারণ প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে আমার সক্রিয় ভূমিকা এমন পর্যায়ে ছিল যে, জেল-জুলুম থেকে শুরু করে প্রত্যক্ষ নির্যাতনের শিকার হয়েছি আমি। সুতরাং আজ সময় এসেছে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের জন্য তৈরী হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি।

প্রশ্ন : দলের ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন কী যথাযথ ভাবে হচ্ছে ?

উত্তর : কোন দলই তার স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে টিকে থাকতে পারে না। ফলে একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগুতে হয়। সেক্ষেত্রে বি.এন.পির রাজনীতিতে একটি অনন্য ধারা রয়েছে। যেখানে ত্যাগ, মেধা, গ্রহণ যোগ্যতার সাথে তার প্রাপ্তিকেই বড় করে দেখা হয়। এক্ষেত্রে কোন ব্যাখার প্রয়োজন হয় না। বর্তমানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারুণ্যের অহংকার তারেক জিয়া তৃণমুল কর্মীদের সবচেয়ে বেশী মূল্যায়ন করছে বলে আমি মনে করি।

প্রশ্ন : দলের ভেতর উপদল সহ অনেক অসন্তুষ্টির কথা শোনা যায়। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি?

উত্তর : যেহেতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশের সবচেয়ে একটি জনপ্রিয় ও সর্ববৃহৎ সংগঠন। এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগীতা আছে কিন্তু প্রতিহিংসা বা উপদল কথাটা ঠিক নয়। এখানে সকলেই দলের উদ্দেশ্যে ও আদর্শ নিয়েই রাজনীতি করছে।

প্রশ্ন : দলের প্রধান কাজ এখন কি হবে ?

উত্তর : দেশনেত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশের মানুষের ভোটের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য যে সংগ্রাম করে চলেছেন তার সেই সংগ্রামে তিনি যে দিক নির্দেশনা দিবেন তা মেনে চলাই হবে নেতা কর্মীদের প্রধান কাজ।

প্রশ্ন : কি ধরনের রাজনৈতিক কৌশল হবে আপনাদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ?

উত্তর : এদেশের মানুষ গণতান্ত্রিক মুক্তি চায়। স্বৈরতান্ত্রিক চেহারার কাউকে তারা দেখতে চায় না। দলের প্রধান কাজ গণমানুষকে একাত্ম করে তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা। জনগণের ভোটে প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য আমরা যুক্তিযুক্ত নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করবো।

প্রশ্ন :আপনি এম.পি নির্বাচনে একজন প্রার্থী বলে শোনা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে দল আপনাকে কতটা যোগ্য মনে করে ?

উত্তর : রাজনৈতিক দল হিসাবে বিএনপি তার প্রার্থীতার প্রশ্নে সার্বিক বিচার বিবেচনা ও বিশ্লেষণ করে থাকে। সেজন্য আমি দলের সর্বোচ্চ সংকটময় সময় গুলোতে যে ভূমিকা পালন করেছি তাতে করে আমার মনোনয়ন পাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক বলেই আমি মনে করি। দলও সেই যোগ্যতায় বিবেচনা করবে।

প্রশ্ন : রাজনৈতিক নেতা হিসাবে দেশের ভবিষ্যৎ কি দেখতে পান ?

উত্তর :জণগণের প্রত্যক্ষ ভোট ছাড়া যে সরকারই যত উন্নয়নের কথা বলুক তা ধোপে টেকে না। বরং অনিশ্চয়তাই বাড়ে আর দেশের সম্পদ লুটপাট হয়। এই শঙ্কা সংকট আর অনিশ্চয়তা থেকে একান্ত মুক্তির প্রকৃত পথ গণতন্ত্র। আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের সরকার পারবে দেশ ও জনগণের প্রকৃত উন্নয়ন। তা না হলে বর্তমানে বিনা ভোটের সরকারের অধীনে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান দূর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। আগামীতে এভাবে চলতে থাকলে আমি দেশ নিয়ে শংকিত।

প্রশ্ন :বি.এন.পির রাজনীতিতে আপনার উল্লেখ্যযোগ্য ঘটনা কি ?

উত্তর : শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা। তার ১৯ দফা কর্মসূচীর মাধ্যমে স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি তার সেই দলের কর্মী হিসাবে ঈশ্বরদী বিএনপিকে সুসংগঠিত করতে পেরেছি এটাই সবচেয়ে উল্লেখ্যযোগ্য ঘটনা বলে মনে করি।

প্রশ্ন : পরিশেষে আপনার বর্তমান ভাবনা প্রসঙ্গে কিছু বলুন।

উত্তর : বর্তমান সময়ে দেশ ও জাতি এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে, সেই সাথে বিএনপির অনেক সংসদীয় আসন ভুল বুঝাবুঝির কারণে হারাতে হয়েছে, আজকে সেই অবস্থার অবসান ঘটতে চলছে। কারণ নতুন প্রজন্ম সেই জায়গা থেকে উত্তোরণ ঘটাতে সচেষ্ট হয়েছে। যেমন আমাদের পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘড়িয়া) বরাবরই জনমতের ভিত্তিতে বিএনপি ঘাঁটি হিসাবে চিহ্নিত অথচ কতিপয় রাজনীতিক স্বার্থান্বেষী মহলের দ্বিধা বিভক্তির কারণে এই আসনটি হারাতে হয়েছে। আমি এই আসনটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছি। দলের হাই কমান্ড যদি তৃণমুলকে মূল্যায়নের ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারে তাহলে ইনশাআল্লাহ জয় সুনিশ্চিত। মহান আল্লাহ পাক যদি অনুকূল পরিস্থিতি দান করেন আর দল যদি আমাকে মনোনীত করেন তবে আমি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়ন মাত্রাকে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে বদ্ধ পরিকর।

LEAVE A REPLY