শহিদুলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে রঘু রাইয়ের খোলা চিঠি

0
23

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক:‌ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ‘উসকানিমূলক’ প্রচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন ‘বাংলাদেশের বন্ধু’ ভারতীয় আলোকচিত্রী রঘু রাই।

মঙ্গলবার ফেইসবুকে ওই খোলা চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “আমার বিনীত অনুরোধ এবং আর্জি, তারুণ্যের সৎ ও সত্যনিষ্ঠ প্রতিনিধিকে শাস্তি দেবেন না।”

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত শনি ও রোববার জিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলতে বেশ কয়েকবার ফেইসবুক লাইভে আসেন দৃক গ্যালারি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল।

ওই আন্দোলনের বিষয়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।

এরপর রোববার রাতে শহিদুলকে তার ধানমণ্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা হয়।

শহিদুলের বিরুদ্ধে ‘কল্পনাপ্রসূত তথ্যের’ মাধ্যমে জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে ‘মিথ্যা প্রচার’ চালানো, উসকানিমূলক তথ্য উপস্থাপন, সরকারকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকর’ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘অবনতি ঘটিয়ে’ জনমনে ‘ভীতি ও সন্ত্রাস ছড়িয়ে’ দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং তা বাস্তবায়নে ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ‘অপপ্রচারের’ অভিযোগ আনা হয় ওই মামলায়।

শহিদুলের প্রতিষ্ঠিত পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রঘু রাই একাত্তরে স্টেটসম্যান পত্রিকার আলোকচিত্রী হিসেবে বাংলাদেশ থেকে ভারতমুখী শরণার্থীদের জনস্রোত ক্যামেরাবন্দি করেন।

ভারত সরকারের পদ্মশ্রী খেতাবধারী খ্যাতিমান এই আলোকচিত্রী একাত্তরের ভূমিকার জন্য ২০১২ সালে শেখ হাসিনার সরকারের কাছ থেকে পান ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’।

খোলা চিঠির শুরুতে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে সে কথাই তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীকে ‘মহান বিপ্লবী নেতা শেখ ‍মুজিবুর রহমানের কন্যা’ সম্বোধন করে তিনি লিখেছেন, “দৃক আর পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলম শেখ সাহেবের একজন ভক্ত। গত তিন দশক ধরে একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তাকে জানার সুযোগ আমার হয়েছে।

“এ বিষয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই যে শহিদুল হচ্ছেন সেই সব বিরল মানুষদের একজন, যারা সত্য ও সততার প্রতি নিষ্ঠাবান, দেশের জন্য তিনি প্রাণ দিতে পারেন।”

শহিদুলকে ‘ধরে নিয়ে নির্যাতনের’ খবরে ‘হৃদয়ে রক্তক্ষরণ’ হওয়ার কথা জানিয়ে রঘু রাই লিখেছেন, “শিক্ষার্থীদের যে দাবি (নিরাপদ সড়ক), সেটা যে কোনো সচেতন মানুষের দাবি বলেই মনে হয়। আর শহিদুল আল জাজিরাকে সেটাই বলেছেন।”

রঘু রাই তার খোলা চিঠিতে বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি কিশোর বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে থাকে, তাহলে তাদের সঙ্গেই তা মেটানো উচিৎ। কিন্তু ‘সৎ দেশপ্রেমিক’ শহিদুলকেও আজ সেজন্য ‘ভুগতে হচ্ছে’।

“এটা আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে পাকিস্তানি জেনারেলদের কথা, যারা সত্যনিষ্ঠ মানুষদের একটা শিক্ষা দিতে চেয়েছিল।”

রঘু রাইয়ের বিশ্বস, কেবল তিনি নন, বিশ্বের আরও অনেক সাংবাদিক, আলোকচিত্রী, শিল্পী, লেখক শহিদুলের পক্ষে দাঁড়িয়ে একই কথা বলবে।

তিনি লিখেছেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি আশা করব, একজন শহিদুল আলমের জন্য মানুষের হৃদয়ের যে আকুতি, তার প্রতি আপনি সম্মান দেখাবেন।”

LEAVE A REPLY