সারাদেশে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১২

0
60

নিজস্ব প্রতিবেদক: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত সাত জেলায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে রাজধানীর ভাষানটেক এলাকায় তিনজন, মাগুরায় তিনজন, যশোরে দুইজন এবং চট্টগ্রাম, চুয়াডাঙ্গা, সিরাজগঞ্জ ও নড়াইলে একজন করে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

ভাষানটেক: রাজধানীর ভাষানটেক দেওয়ানপাড়া লোহার ব্রিজ এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিন মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দিনগত রাত ৩টার দিকে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন আতাউর রহমান আতা (৪৬), বাপ্পি (৩৮) ও মোস্তফা হাওলাদার ওরফে কসাই মোস্তফা (৫০)।
ঘটনাস্থল থেকে দুটি পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক চৌধুরী মঞ্জুর কবির জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে লোহার ব্রিজ এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। টের পেয়ে মাদক বিক্রেতারা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন মাদক বিক্রেতা নিহত হন।

মাগুরা: মাগুরা শহরতলীর বাটিকাডাঙ্গা মাঠপাড়া এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাত দুইটার দিকে তিন মাদক ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

তারা হলেন শহরের ভায়না চোপদার পাড়া এলাকার মহিউদ্দিন চোপদারের ছেলে বাচ্চু চোপদার (৫৫), ইসলামপুর এলাকার আবদুর রাজ্জাক ঢালির ছেলে রায়হান ঢালি ব্রিটিশ (২০) এবং নতুন বাজার বৈরাগীপাড়ার খোকন অধিকারীর ছেলে কিশোর অধিকারী কালা (৪২)।

মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে সদর থানার এসআই মিরাজুল ইসলাম পুলিশের পিকআপভ্যানে করে মরদেহ তিনটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে তাদের নাম অজ্ঞাতনামা হিসেবে উল্লেখ করেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন জানান, রাত একটার দিকে টহল পুলিশ গোলাগুলির সংবাদ পেয়ে বাটিকাডাঙ্গা মাঠপাড়া এলাকায় গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে পড়ে থাকতে দেখে। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে ৩২০ গ্রাম হেরোইন, ১ কেজি গাঁজা, ৬ বোতল ফেনসিডিল, ৬ টি রাইফেলের গুলি ও ৮ টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত রায়হান ঢালি ব্রিটিশ ও কিশোর অধিকারী কালার নামে সদর থানায় ১০টি ও বাচ্চু চোপদাররে নামে ৭টি মাদকের মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

যশোর: যশোরের বেনাপোলে দুদল মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ‘গোলাগুলিতে’ দুজন নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোরে বেনাপোলের বড়আঁচড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- বেনাপোল ভবেরবেড় গ্রামের মৃত শাহাজানের ছেলে লিটন (৩৪) ও অজ্ঞাত (৪০) একজন। এসময় ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি অপূর্ব হাসান জানান, বুধবার ভোরে বেনাপোল বড়আঁচড়া এলাকায় দুদল মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুইজনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে।

পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ১০ কেজি গাঁজা, ১টি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র, দুই রাউন্ড গুলি ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সালাউদ্দিন শিকদার জানান, স্থানীয়রা নিহত লিটনের মরদেহ শনাক্ত করেছেন। সে চিহ্নিত মাদককারবারি। তার বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে। তবে অপরজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ মাদক চোরাকারবারি তানজিল হোসেন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পুলিশের দুই সদস্য। মঙ্গলবার দিনগত রাত তিনটার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সাতগাড়ি ইটভাটার নিকট এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি শুটারগান, চার রাউন্ড কার্তুজ ও এক বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত তানজিল হোসেন সদর উপজেলার দৌলাতদিয়াড় গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সাতগাড়ি মাঠ দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচার করছে এমন খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মাদক পাচারকারীরা সাতগাড়ির রাস্তায় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি করলে মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে তানজিলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।

পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রবিউল ইসলাম ও কনস্টেবল আব্দুস সবুর আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটারগান, চার রাউন্ড কার্তুজ ও এক বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মো. ইসহাক (৩৭) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। র‌্যাব-৭ এর উপপরিচালক লে. কমান্ডার আশেকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ঘটনাস্থল থেকে চার হাজার পিস ইয়াবা, একটি ওয়ান শুটারগান ও ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

নড়াইল: নড়াইলে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সজীব শেখ (৩২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। বুধবার (৩০ মে) রাত ২টার দিকে নড়াইল শহর সংলগ্ন মালিবাগ মোড়ের বালুর এই ঘটনা ঘটে। নিহত সজিব সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আলতাফ শেখের ছেলে।
নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, নড়াইল শহর সংলগ্ন মালিবাগ মোড়ের বালুর স্তুপের পাশে মাদক ব্যবসায়ীরা অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে রাত দুইটার দিকে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের গুলিবিনিময় হয়। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ একজনকে নড়াইল সদর হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।’

এ ঘটনায় পুলিশের দু’জন এসআই সহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদেরকে নড়াইল সদর হাপসাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার, দুই রাউন্ড গুলি, ২১৩ পিস ইয়াবা, তিনটি রামদা উদ্ধার করা হয়। এদিকে, বন্দুকযুদ্ধের খবর পেয়ে ভোর রাতে নড়াইল সদর হাসপাতালে এসে ছেলের মরদেহ শনাক্ত করেন সদর উপজেলার দত্তপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মো. আলতাফ শেখ। এসময় তিনিসহ স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আশান হাবিব (৪৫) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। এসময় একটি ওয়ান শুটারগান, এক হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY