সেলিম আহমেদ এর মুক্ত কলামে জীবন থেকে নেয়া বিশ্লেষণ ধর্মী লেখা ”ভূয়া ডাক্তার ”

0
195
সেলিম আহমেদ

ভূয়া ডাক্তার

                সেলিম আহমেদ

একজন ডাক্তার অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলে মুত্যুর পথ থেকে ফিরিয়ে আনে। সেই ডাক্তার যদি হয় ভূয়া কিংবা অন্য কোন পেশার তাহলে রোগীর অবস্থা কোথায় গিয়ে পৌছায়। এসব ভূয়া ডাক্তার একজন কসাইয়ের চেয়ে অধম। কসাইয়েরা টাকার জন্য মরা, আধামরা, অসুস্থ গরু, গাব গরু, মহিষ, ভেড়া, ছাগল জবেহ করে থাকেন। ভূয়া ডাক্তারের কারণে অনেক সম্ভাবনাময় প্রাণ সঠিক চিকিৎসা সেবা না পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে, অনেকে আবার অকালে ঝড়ে যাচ্ছেন। গোটা দেশেই ভূয়া ডাক্তারের দৌরাত্ব অনেকাংশে বেড়ে গেছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো বাসা-বাড়িতে, পাড়া-মহল্লায়, আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠা ডায়াগোনেষ্টিক সেন্টার বা ক্লিনিক। একজন ব্যক্তি মালিকানায় বা কয়েকজন পাটনারে যে কোন ভাবে একটি ডায়াগোনেষ্টিক সেন্টার বা ক্লিনিক গড়ে তুলতে পারলেই পোয়া বারো। সুনাম ধন্য, অখাদ্য কিংবা ভূয়া ডাক্তার এনে তার ব্যবসা প্রসারিত করতে ব্যস্ত হয়ে যান। স্থানীয় পেপার-পত্রিকা, মাইকিং, পোষ্টার, হ্যানবিল ও ক্যাবল নেটওয়ার্কে ডাক্তারের নামে বাহারী অলংকার লাগিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করে দেন। একটি ডায়াগোনেষ্টিক সেন্টার বা ক্লিনিক চালু করতে যে সব কাগজপাতি বা অনুমোদন থাকা দরকার তা আছে কিনা সে সব দেখার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকারের দায়িত্বে থাকা ওই সকল ব্যক্তিবর্গ সেলামীর বিনিময়ে কখনো সে সব দেখভাল করেন না। দেখভালের অভাবে কোন রকম নাম সর্বস্থ কাগজপাতি জোগাড় করে বনে যাচ্ছেন ক্লিনিকের মালিক। একটি ক্লিনিকে সর্বক্ষন একজন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও অনেক ক্লিনিকে তা নেই। ল্যাবে কাজ করেন এমন ব্যক্তিই পরীক্ষার কাগজে সই করে থাকেন। ক্লিনিকের ল্যাবে যারা কাজ করে তাদের সরকারি অনুমোতি আছে কিনা, তাদেরও মূলসনদ পরীক্ষা করা দরকার। ঈশ্বরদীতে ডাক্তার সেজে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন চন্দন সরকার নামের এক ভূয়া ডাক্তার। নতুন হাট মোড়ের গ্রীনফার্মা ও সুমন আলী পরিচালিত হাসপাতাল রোডের আনোয়ারা ডায়াগোনেষ্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখতেন ভূয়া ডাক্তার চন্দন সরকার। পুলিশের হাতে ভূয়া ডাক্তার চন্দন সরকার আটক হয়ে মামলা নিয়ে জেল-হাজতে গেলেও ডায়াগোনেষ্টিক সেন্টার বা ক্লিনিকের মালিক থেকে গেলেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। অর্থের বিনিময়ে গুটি কয়েক ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে আইনের আওতায় না গিয়ে হাত ফসকে বেড়িয়ে এলেন ডায়াগোনেষ্টিক সেন্টার বা ক্লিনিকের মালিক। ভূয়া ডাক্তার চন্দন সরকার তার প্রেসক্রিপসনের উপরে লিখে রেখেছেন এমবিবিএস, এফসিপিএস, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, সহযোগি অধ্যাপক। একজন রোগী কিংবা তার অভিভাবক রোগীকে দ্রুত সুস্থ করার জন্য ক্লিনিকে নিয়ে আসেন, এসব কিছুই বোঝেন না। কিন্তু ক্লিনিকের মালিক সেতো সবই বোঝেন। সহযোগি অধ্যাপক হতে কত বয়স লাগে। ৪০ বছর বসের নিচে কোন ডাক্তার সহযোগি অধ্যাপক হতে পারেন না। কিন্তু আলাদিনের চেরাগের বদৌলতে চন্দন সরকার ২৬ বছরে সহযোগি অধ্যাপক বনে গেলেন। ডায়াগোনেষ্টিক সেন্টার বা ক্লিনিকের মালিক কি এটুকুও বোঝেন না। নাকি জেনে শুনে স্বল্প সময়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বা রাতারাতি অঢেল টাকার মানুষ হওয়ার চিন্তা করে মানুষ মারার জন্য ভূয়া ডাক্তার চন্দন সরকারকে ক্লিনিকে এনেছিলেন এটা দেখার বিষয়। ভূয়া ডাক্তার চন্দন সরকারের আগে ওই সকল ডায়াগোনেষ্টিক সেন্টার বা ক্লিনিক মালিকের শাস্তি হওয়া দরকার। ঈশ্বরদী হচ্ছে অনেক জেলা শহরের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এখানে আনবিক প্রকল্প, ইপিজেড, সুগারক্রপ গবেষণা কেন্দ্র, ডাল গবেষণা কেন্দ্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। দেশ-বিদেশের মানুষ এখানে আসা-যাওয়া এবং বসবাস করছেন। সেই গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতে ভূয়া ডাক্তার চন্দন সরকার কিভাবে মানুষ মারার জন্য সাহস পেলো। চন্দন সরকার আকাশ থেকে নেমে আসেনি কিংবা এখানে তার শেখর গাড়া ছিলনা। চন্দন সরকারকে কে নিয়ে এলো। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূয়া ডাক্তার আটকের সংবাদ প্রতিনিয়ত টেলিভিশন, পেপার পত্রিকা, অনলাইন ও ফেসবুকে দেখা যায়। কিন্তু ঈশ্বরদীতে এই প্রথম ভূয়া ডাক্তার চন্দন সরকার ধরা খেলো। ঈশ্বরদীতে চিকিৎসা সেবা দিতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ডাক্তার সাহেবরা বৃহস্প্রতিবার, শুক্রবার কিংবা অন্যান্য দিন ডায়াগোনেষ্টিক সেন্টার বা ক্লিনিকে আসেন। এসব ডাক্তারদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মুল সনদপত্র এবং অনুমোতির কাগজপত্র জরুরী ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। চুন খেয়ে মুখ পুড়ে গেলে যেমন দই দেখেও ভয় হয়। ঠিক একই অবস্থা ঈশ্বরদীর ডাক্তারদের উপর বিরাজ করছে। এখন রোগীরা একজন অভিজ্ঞ, সুনাম ধন্য ডাক্তারের কাছে যেতে ভীতের সৃষ্টি হবে। কারণ রোগীরাতো জানেনা এসকল ডাক্তাররা আসল না ভূয়া। রোগীদের মাঝে ভূয়া ভীতি দূর করতে ঈশ্বরদীতে চিকিৎসা সেবা দিতে আসা সকল ডাক্তারদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মুল সনদপত্র এবং রোগী দেখার অনুমোতিপত্র দেখার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভিযান পরিচালনা করা দরকার বলে সাধারন মানুষ মনে করেন।
লেখক ঃ সাধারন সম্পাদক
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন
ঈশ্বরদী উপজেলা শাখা

LEAVE A REPLY