সোহরাওয়ার্দীতে জনসভার অনুমতি চাইবে বিএনপি – মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

0
82

ঢাকা প্রতিনিধি: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দাবিতে আগামীকাল শনিবার থেকে আবারও তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। শনিবার দেশব্যাপী গণস্বাক্ষর অভিযান, রোববার সারা দেশে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর ব্যতিরেকে দেশের অন্য সব জেলা-মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ। এ ছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের জন্য অনুমতি চাওয়া হবে।

গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ফখরুল বলেন, একটা নীলনকশা, সেই নীলনকশা কী? বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করা। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং বিএনপি যেন আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করা। আরও নীলনকশা হচ্ছে। নতুন আদালত সৃষ্টি করা হচ্ছে। একটা মামলাকে ভেঙে দুটি করা হয়েছে। বিস্ফোরকের জন্য একটা, ভাঙচুরের জন্য আরেকটা। অর্থাৎ বিরোধী দল যারা করবে, তাদের মামলা ফেস করতে করতেই সারাটা জীবন চলে যাবে, মৃত্যুবরণ করতে হবে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সাজা দেন বিশেষ আদালত। তাকে নাজিমউদ্দিন রোডের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। তার মুক্তির দাবিতে দুদফা টানা কর্মসূচি শেষে দুদিন বিরতি দিয়ে ফের নতুন কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভুয়া ও জাল নথির মাধ্যমে সাজানো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় সাজা প্রদানের প্রতিবাদে এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করছি। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়া হবে। এর মধ্যে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি সমাবেশের জন্য আমরা অনুমতি চাইব। এটা শিগগিরই করব। তারিখ ঠিক করে নিয়ে আপনাদের জানাব। আশা করব, সোহরাওয়ার্দীতে জনসভা করতে অনুমতি দেবে সরকার।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই ভয়াবহ নির্যাতনের অবস্থা আওয়ামী লীগ তৈরি করেছে। উদ্দেশ্য একটাই- তারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করতে চায়। আগামী নির্বাচনে আবার জয়ী হতে চায়। আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও সরকার বাধা দিচ্ছে। তৃণমূলে নেতাকর্মীদের দাঁড়াতেই দিচ্ছে না। আমরা শান্তি চাই, সংঘাত চাই না। দেশে একটা শান্তিপূর্ণ অবস্থা তৈরি করতে চাই। যাতে আগামী নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে- এই অবস্থা তৈরি করতে চাই। এ লক্ষ্যেই আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিচ্ছি। অবিলম্বে খালেদা জিয়াসহ অন্য নেতাদের মুক্তি দিন। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুন। নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করুন যাতে সব দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।

এ সময় দেশের সব রাজনৈতিক দল, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, গণতান্ত্রিক শক্তি এবং সুশীল সমাজকে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে অনুরোধ জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, এক সপ্তাহ পার হলেও মামলার রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাইনি। আমরা আশঙ্কা করছি, শুধু রায়ের ব্যাপার নয়, আরও উটকো ঝামেলা আসতে পারে। কারণ এই সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে খালেদা জিয়াকে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখা।

LEAVE A REPLY