স্ত্রীর পরকীয়ার জেরেই রথীশ চন্দ্রের হত্যাকাণ্ড : র‍্যাব ,স্ত্রী-মেয়েসহ গ্রেপ্তার ৪

0
441

রংপুর প্রতিনিধি : স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে রংপুরে আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পর কামরুল মাস্টারের নির্দেশেই রথীশের লাশ মাটি চাপা দেয়া হয়। র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমদ দুপুরে রংপুরে বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রীসহ ৪ জনকে আটক করেছে র‌্যাব। গতরাতে নির্মাণাধীন একটি ভবনের নিচতলায় মাটি চাপা অবস্থায় রথীশের লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

রংপুরে আইনজীবী রথীশ চন্দ্রকে স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়। লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দুপুরে রংপুরে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানান। তিনি আরো জানান, রথীশের স্ত্রী ও তার প্রেমিক শিক্ষক কামরুল তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে, দুই কিশোরের সহযোগিতায় ২৮শে মার্চ বাড়ির অদূরে একটি নির্মাণাধীন ভবনে গর্ত করে তাকে পুঁতে রাখে তারা।

এ সময় বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘গর্ত খুঁড়ে মৃতদেহ মাটি চাপা দেয়া হয়েছিল। সেই কাজে সহযোগিতা করেছিল তাজহাট স্কুলের দুই ছেলে। এর অন্যতম নির্দেশ দাতা কামরুল মাস্টার। তারা র‍্যাবের হেফাজতে রয়েছে। এরই মধ্যে মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে মামলার তদন্তের জন্যে কিছুক্ষণের মধ্যে ওই দুই শিক্ষার্থী এবং রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের স্ত্রীকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘটনায় স্থানীয় সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অনেক কষ্ট করেছে। র‍্যাব ১৩ ব্যাটেলিয়ন ঘটনার পর থেকেই তাকে উদ্ধারের জন্যে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। আমরা একই সঙ্গে ঢাকা থেকে বিশেষ দল পাঠিয়েছি। তারা বিগত ৫ দিন ধরে ঘটনার তদন্ত করছে। সদর দপ্তরের বিশেষ দল ও র‍্যাব ১৩ সদস্যরা যৌথভাবে সন্ধান চালায়। তার ফলেই গেল রাত্রে রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।’

এর আগে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজিকে সঙ্গে নিয়ে র‌্যাবের মহাপরিচালক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এদিকে, আইনজীবী রথীশ চন্দ্রের মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে তাজহাট এলাকায়। মরদেহ উদ্ধারের খবর জানার পর স্বজনদের পাশাপাশি ছুটে আসেন তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা। এসময় তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর তাজহাটের মোল্লাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলায় মাটি চাপা অবস্থায় একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিক নিখোঁজ আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের মরদেহ শনাক্ত করেন। গত ২৯শে মার্চ সকালে, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর জাপানি নাগরিক হোসিও কুনি ও মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলার আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক নিখোঁজ হয় বলে জানায় স্বজনরা।

LEAVE A REPLY